ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার আহ্বান


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার আহ্বান

১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক রোগের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে দিবসটি বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য হলো— “Lived experience heard: Real voice, real change.” বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে, “বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শুনুন: প্রকৃত কণ্ঠস্বরেই আসুক বাস্তব পরিবর্তন।” এই প্রতিপাদ্যের মূল উদ্দেশ্য হলো, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যারা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের কথা শুনতে হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য দূর করতে হবে।

প্রবীণদের জন্য এই আহ্বান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমাদের সমাজে প্রবীণদের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কিছু আলোচনা হলেও তাদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ সদস্য দগ্ধ

বাংলাদেশে পরিচালিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা থেকে বঞ্চিত। অনেকের ক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক লজ্জা এর প্রধান কারণ।

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার ধরনও বিভিন্ন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অনিদ্রা, নির্দিষ্ট বিষয় বা পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত ভয় এবং অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিজঅর্ডার বা শুচিবায়ুর মতো সমস্যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে, সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যায় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে। আলঝাইমার্স ও অন্যান্য ধরনের ডিমেনশিয়াও স্মৃতি, চিন্তা, আচরণ ও দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এসব সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বয়স বাড়লেই কি মানসিক সমস্যা?

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, বয়স বাড়লে মানুষ ভুলে যায়, অকারণে রেগে যায়, সন্দেহপ্রবণ হয় কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ করে। অনেকেই এসব পরিবর্তনকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক পরিণতি বলে মনে করেন। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু পরিবর্তন ঘটলেও সব ধরনের স্মৃতিভ্রংশ, বিষণ্নতা, উদ্বেগ কিংবা আচরণগত পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বার্ধক্য বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন: হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তারসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

একজন প্রবীণ দীর্ঘদিন ধরে একাকিত্ব, প্রিয়জন হারানোর বেদনা, শারীরিক অসুস্থতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা কিংবা পরিবারের অবহেলার মধ্যে থাকলে তার মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আবার ডিমেনশিয়া বা অন্য কোনো রোগের কারণেও আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই প্রবীণের কথা মন দিয়ে শোনা, তার পরিবর্তিত আচরণের কারণ বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা পরিবারের দায়িত্ব।

হাসি-তামাশা নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের গ্রামগঞ্জে মানসিকভাবে অসুস্থ অনেক প্রবীণকে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হয়। কেউ কেউ তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজিত করেন, কটূক্তি করেন কিংবা এমন আচরণ করেন, যাতে তারা রেগে গিয়ে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর সেই প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আরও উপহাস করা হয়। একজন অসহায় মানুষের দুর্বলতাকে বিনোদনের উপকরণ বানানোর মধ্যে মানবিকতা নেই।

মানসিক অসুস্থতার কারণে কেউ কখনো অস্বাভাবিক কথা বলতে পারেন, একই কথা বারবার বলতে পারেন কিংবা আচরণে অসংলগ্নতা দেখাতে পারেন। তাই বলে তাকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। বরং এমন আচরণের পেছনে কোনো অসুস্থতা, মানসিক চাপ কিংবা অসহায়ত্ব কাজ করছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

আরও পড়ুন: মাদক নির্মূলে সংগঠন গড়তে চান ইশরাক হোসেন

আরও কষ্টদায়ক হলো, কোনো ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদেরও ‘পাগলের ছেলে’, ‘পাগলের মেয়ে’ কিংবা ‘পাগলের বংশ’ বলে অপমান করা হয়। এ ধরনের ভাষা শুধু একজন অসুস্থ মানুষকে নয়, তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সামাজিকভাবে হেয় করে। মানসিক অসুস্থতা কোনো অপরাধ নয়, লজ্জার বিষয়ও নয়। এটি এমন একটি স্বাস্থ্যসমস্যা, যার জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা, পরিচর্যা ও সহমর্মিতা।

দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের

প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রথম দায়িত্ব পরিবারের। তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, অস্বাভাবিক ভয়, স্মৃতিশক্তির অবনতি কিংবা আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইপোলার ডিজঅর্ডারসহ অনেক মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

চিকিৎসকদেরও প্রবীণদের সমস্যাকে শুধু বয়সের ফল হিসেবে না দেখে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে এবং প্রবীণদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে উপহাসের পরিবর্তে সহমর্মিতা দেখানোর শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া দরকার।

আরও পড়ুন: মিষ্টির পর ইশরাকের পদত্যাগ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নাকি দল সামলানোর চেষ্টা?

প্রবীণদের কথা শুনুন

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের অভিজ্ঞতা শোনা ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রবীণদেরও নিজেদের কষ্ট, ভয়, হতাশা ও প্রত্যাশার কথা বলার অধিকার রয়েছে। তাদের কথা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া, অবজ্ঞা করা কিংবা সব সমস্যাকে বয়সের অজুহাতে উড়িয়ে দেওয়া চলবে না।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রবীণকে অপমান নয়, সম্মান করা হবে; উপহাস নয়, সহমর্মিতা দেখানো হবে; অবহেলা নয়, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে। মনে রাখতে হবে, আজ যাঁকে আমরা দুর্বল বলে অবজ্ঞা করছি, তিনিও একদিন পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রেখেছেন।

প্রবীণদের কথা শুনুন, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করুন। মানসিক স্বাস্থ্য কোনো লজ্জা নয়, এটি মানুষের মৌলিক সুস্থতা ও মর্যাদার প্রশ্ন। সামাজিক আচরণের পরিবর্তনেই প্রবীণদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দলের পেছনে লাগানো বিপজ্জনক: হাসনাত আবদুল্লাহ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবশক্তির নিন্দা, ধ্রুব রাঠি ও অভিজিৎ দীপকেসহ আন্দোলনকারীদের আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


যুবশক্তির নিন্দা, ধ্রুব রাঠি ও অভিজিৎ দীপকেসহ আন্দোলনকারীদের আটক

ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চলমান তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয় যুবশক্তি। সংগঠনটি ধ্রুব রাঠি, কক্‌রোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করে।

জাতীয় যুবশক্তি মনে করে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সমালোচনা করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলা নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার চর্চার জন্য আন্দোলনকারীদের আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

ভারতে নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তরুণদের চলমান আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রতি জাতীয় যুবশক্তি সংহতি জানাচ্ছে। সংগঠনটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগ, ব্যাপক ধরপাকড় এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

জাতীয় যুবশক্তি মনে করে, তরুণ সমাজের ন্যায়সংগত দাবি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে স্তব্ধ করা যায় না। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেকোনো গণতান্ত্রিক সংকটের সমাধান হওয়া উচিত সংলাপ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে—দমনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

জাতীয় যুবশক্তি অবিলম্বে আটককৃত আন্দোলনকারীদের আটকের আইনগত ভিত্তি প্রকাশ, তাদের আইনসম্মত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। সংগঠনটি দাবি করছে, যাদের আটকে রাখার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া উচিত। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীদের হয়রানি বন্ধ করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।

জাতীয় যুবশক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রের শক্তি ভিন্নমতকে দমন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষার মধ্যেই নিহিত। ভারতের তরুণ সমাজের ন্যায়সংগত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমাদের সংহতি অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে আটক অভিজিৎ দীপকে, গ্রামে মারা গেলেন দাদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


দিল্লিতে আটক অভিজিৎ দীপকে, গ্রামে মারা গেলেন দাদি

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাদি মারা গেছেন। তিনি কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর নিজ গ্রাম সান্তুক পিম্প্রিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে, দিল্লিতে পুলিশের আটক অবস্থায় রয়েছেন দীপক। দাদির মৃত্যুর সময় তিনি বাড়ি ফিরতে পারেননি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক হন দীপক। তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে দলের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে।

দলটির দাবি, দীপকের সঙ্গে আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর পুলিশ আটক করে। ভোটার তালিকায় কারসাজি এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত ৬ নম্বর ফর্মে পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি।

দলটির অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

তবে নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি এলাকায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। তিন নেতা আটক থাকায় দলের সংগঠনবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্কা শিন্ডেকে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আটক তিন নেতাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে দলটি। অন্যদের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি অবিলম্বে তিন নেতার মুক্তি দাবি করেছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, রানওয়ে বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


ঢাকায় বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, রানওয়ে বন্ধ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট, যা কক্সবাজার থেকে আসছিল, জরুরি অবতরণের জন্য ঘোষণা করেছে। এই কারণে ঢাকায় সকল ফ্লাইট ওঠা-নামা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানায়, বিমানটির নিরাপদ অবতরণের জন্য রানওয়ে ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রানওয়ে বন্ধ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ঘৃণামূলক বার্তার শিকার আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ঘৃণামূলক বার্তার শিকার আর্জেন্টিনা

২০২৬ বিশ্বকাপের সময়কালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ঘৃণামূলক বার্তার শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বার্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিফার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি এসেছে টিওয়াইসি স্পোর্টস থেকে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) পরিচালিত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটক থেকে সংগৃহীত ১ কোটি ৭১ লাখেরও বেশি পোস্ট ও মন্তব্যের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘৃণামূলক আক্রমণের শিকার হওয়ার তালিকায় আর্জেন্টিনার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল এবং নরওয়ে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির বিরুদ্ধে সমালোচনার বড় অংশটি ছিল রেফারিদের কাছ থেকে কথিত বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ।

যদিও দল হিসেবে আর্জেন্টিনা শীর্ষে রয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বার্তার তালিকায় দেশের অবস্থান চতুর্থ। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উপরে অবস্থান করছে।

খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের একটি বড় অংশ ছিল বর্ণবাদী। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হওয়া খেলোয়াড়ের পরিচয় প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই খেলোয়াড় বর্ণবাদ, সমকামিতাবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ এবং ট্রান্সজেন্ডারবিরোধী বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন।

বিদেশিবিদ্বেষমূলক বার্তার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড। এসব বার্তায় অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং দল নির্বাচনের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে।

শুধু আর্জেন্টিনা দল নয়, দেশটির সমর্থকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ণবাদী বার্তা ছড়ানোর ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ছিল শীর্ষে। অঞ্চলভিত্তিকভাবে সাধারণ বিদ্বেষমূলক আক্রমণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ইউরোপ থেকে, এরপর রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা ‘ডক্সিং’ নামে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনার অধিকাংশের শিকার হয়েছেন রেফারিরা।

রেফারিদের বিরুদ্ধে আক্রমণের পেছনে মূলত দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ ছিল। ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের চেষ্টা, বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন তারা।

প্রতিবেদনটি বিশ্ব ফুটবলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক আচরণের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়, কোচ এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় অনলাইন হয়রানি মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%