ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিষ্টির পর ইশরাকের পদত্যাগ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নাকি দল সামলানোর চেষ্টা?


মিষ্টির পর ইশরাকের পদত্যাগ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নাকি দল সামলানোর চেষ্টা?

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে দলের দুই নেতার পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার ঘটনায় সমালোচনার মুখে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদ ছাড়েন। এরপর অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন, যিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। উভয় ঘটনার পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের কথা আলোচনায় এসেছে। তবে ইশরাক দাবি করেছেন, তিনি নিজেই পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

দুটি নেতার পদত্যাগের পর প্রশ্ন উঠেছে, দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কি প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন? নাকি তিনি বিতর্ক এড়িয়ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন? একই সঙ্গে আলোচনা চলছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির অভ্যন্তরে কি সবার জন্য একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সরকারের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

গত ১ অক্টোবর ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। অভিযোগ ওঠে, ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ছিল। এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সংসদ সদস্যের পদ ছাড়েন মিষ্টি।

এরপর নতুন করে বিতর্কে জড়ান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গত শনিবার অস্ত্র হাতে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারের ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ইশরাকের পদত্যাগের পেছনেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের আলোচনা রয়েছে। তবে ইশরাক দাবি করেছেন, তিনি নিজেই পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

দুটি ঘটনার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে দলটি তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পরও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে বিএনপি কতটা সফল হয়েছে, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

বিরোধী দলগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বিভিন্ন এলাকায় দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরে স্বল্প আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাড্ডার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এর পরপরই ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় আসে। দুটি ঘটনাতেই দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

এসব ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়।

অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযানের ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ইশরাক প্রকাশ্যে বলেছেন, মাদক নিয়ে পুলিশকে জানিয়েও তিনি প্রতিকার পাননি। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে সরকারের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির এক নেতা বলেছেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বাস্তবতা এবং এ বিষয়ে ইশরাকের বক্তব্য পুরোপুরি ভুল নয়। তার মতে, পুলিশ ও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারার অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে ইশরাককে সরাসরি পদত্যাগের পরিবর্তে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া যেত।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

ওই নেতার ধারণা, অস্ত্র হাতে অভিযান চালিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বীরত্ব দেখানোর প্রবণতা যেন দলের অন্য নেতাদের মধ্যেও ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিবেচনা থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

ইশরাক এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিদ্রূপের মুখে পড়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে দৌড়ানো, জিয়াউর রহমানের মাজারে ঠেলাঠেলি এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে স্যালুট দেওয়ার ঘটনায়ও তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও সেই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে—এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী হয়তো প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দুই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তবে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকার স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, দলের কিছু নেতার আচরণ ও পরিমিতিবোধের অভাব দৃষ্টিকটু হয়ে উঠছে। ইশরাক নিজে অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি। এসব ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।

তার মতে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রাড্ডা ঘটনায় হামলার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া মিরপুরের এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠছে, দলীয় অভ্যন্তীণ রাজনীতি কি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে?

অর্থাৎ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের সব নেতার জন্য একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরকারের দূরত্ব

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্লেষক কামরুল আহসানের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, তিনি এসব পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছেন।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফলভোগী হিসেবে বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। ফলে দল ও সরকারকে সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। কিন্তু রাড্ডা ভাঙার মতো ঘটনা মানুষের কাছে ভিন্ন বার্তা দেয়।

কামরুল আহসানের মতে, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দল ও সরকারের অভিভাবক হিসেবে সীমা লঙ্ঘন না করার বার্তা দিতে চেয়েছেন।

তবে তাঁর মতে, শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। দল হিসেবে বিএনপি এবং এর নেতাকর্মীরা এই বার্তা কতটা উপলব্ধি করেন এবং মাঠপর্যায়ে আচরণে পরিবর্তন আনেন, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

‘অন্যায় করলে কেউ রেহাই পাবে না’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের মতে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে অন্যায় বা অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবেন না।

ইশরাক মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন—এটি ইতিবাচক হলেও অস্ত্র হাতে অভিযানের ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে আইনের চোখে সবার সমান হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ বিএনপির জন্য একই সঙ্গে সতর্কবার্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে সরকারের ভাবমূর্তি ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপকে কেউ দেখছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে, কেউ মনে করছেন এটি দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশল। আবার দলের ভেতরে সবার ক্ষেত্রে সমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও রয়ে গেছে।

শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বিএনপি নেতাকর্মীদের আচরণে বাস্তব পরিবর্তন আসে কি না এবং অভিযোগ ওঠার পর সরকার কতটা নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে, তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সউদী আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৮ ডলার বা ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে দাম কিছুটা কমেছিল।

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন লাগার খবর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর দাবি, সমুদ্রের মাইনে আঘাত লাগার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের নিয়ম লঙ্ঘন করছিল। তবে ঘটনার বিষয়ে ইরানি পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির বাইরেও ওমান উপসাগরে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সউদী আরবের আরামকো স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে। এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বৈঠকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগও বিশ্বজুড়ে পরিশোধনাগারগুলোর সঙ্গে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহসংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমার আশঙ্কাও বাজারে দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল, সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক নির্মূলে সংগঠন গড়তে চান ইশরাক হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


মাদক নির্মূলে সংগঠন গড়তে চান ইশরাক হোসেন

ঢাকা-৬ আসনে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য এলাকাবাসীকে নিয়ে সংগঠন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি মাদক নির্মূলের পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধেও কাজ করতে ইচ্ছুক। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইশরাক এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-৬-এর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত না করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এই উদ্দেশ্যে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হবে। সংগঠনটি স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে এবং প্রশাসনের সহযোগিতাও গ্রহণ করবে।

ইশরাক আরও বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপ থানা-পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্টে কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে ইশরাক অভিযোগ করেন, তাঁর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হতে পারে। তবে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, অপরাধী চক্র কিংবা গণমাধ্যমের বিরোধিতা তাঁকে থামাতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশপন্থী, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক তরুণদের নিয়ে নতুন ধারার গণমাধ্যম গড়ে তোলার কথা জানান।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, ঢাকা-৬ ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। পরদিন মঙ্গলবার তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ইশরাকের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রেললাইনসংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকায় অভিযানের ভিডিও তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তারসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তারসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

মানি লন্ডারিং মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে, এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া দুটি আলাদা আবেদন করেন। এ বিষয়ে দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসামি দিলীপকে গুলশান থানার মামলায় একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হবে। এরপর এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে তখনকার র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। পরে, তিনি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। তার জামিনের বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। এক বছর পর, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী থেকে মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন, ২০ অক্টোবর, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে আ. জব্বার গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুটা সুস্থতা অনুভব করার পর, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে উগ্রপন্থার উত্থান, মধ্যপন্থি রাজনীতির জনসমর্থন দুর্বল হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


ইউরোপে উগ্রপন্থার উত্থান, মধ্যপন্থি রাজনীতির জনসমর্থন দুর্বল হচ্ছে

ইউরোপের প্রধান দেশগুলোতে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণের বোঝা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সাধারণ জনগণকে উগ্র ডান ও বামপন্থি দলগুলোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেওয়ার ঘটনা এই সংকটের একটি বড় উদাহরণ। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ ও বেতনভোগী শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, উদার গণতন্ত্র উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য-বাম ও মধ্য-ডানপন্থি দলগুলোকে এখন অনেকেই একই ধরনের রাজনীতির ধারক হিসেবে দেখছেন। এসব দলের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা ও আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি, ঋণের ব্যয় ও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে সরকারগুলোর পক্ষে জনজীবনের সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফলস্বরূপ, ফ্রান্সে মেরিন লো পেনের উগ্র ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি ও জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর উগ্র বামপন্থি ফ্রান্স আনবোড—দুই ধারার দলই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ও বামপন্থি ডি লিংকের সমর্থন বাড়ছে।

আগামী এক বছরে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা ইউরোপের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়াতে পারে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জ মেলোনিকেও কট্টরপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা কমছে

পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, গণতন্ত্রের কার্যক্রম নিয়ে ইউরোপের বড় দেশগুলোতে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্রান্সে ৬৯ শতাংশ, স্পেনে ৬৮ শতাংশ, ইতালিতে ৬২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে ৪৭ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রেও এই হার ৬৯ শতাংশ।

অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ও যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির অধ্যাপক ড্যারন অ্যাসেমোগলুর মতে, গণতন্ত্রের সংকটের পেছনে দুটি বড় ব্যর্থতা রয়েছে। প্রথমত, সাধারণ মানুষের মধ্যে সমৃদ্ধি সুষমভাবে বণ্টনে ব্যর্থতা। দ্বিতীয়ত, রাজনীতিতে শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণির আধিপত্য বৃদ্ধি।

বিশ্বায়ন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তার ও আয়বৈষম্যের কারণে শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিও চাকরি ও জীবিকা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক ও অন্যান্য মৌলিক সেবার মান বজায় রাখতে সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অ্যাসেমোগলুর মতে, উদার গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে হবে।

জার্মানিতে মধ্যপন্থিদের সংকট

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতেও মধ্যপন্থি রাজনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবং মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি) বর্তমানে জনসমর্থন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

অভিবাসন, চীনের বাজারে রপ্তানি হ্রাস, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মধ্যপন্থি নীতি ও ব্যাপক অভিবাসন গ্রহণের সিদ্ধান্তে সিডিইউর রক্ষণশীল সমর্থকদের একটি অংশ দূরে সরে যায়। সেই জায়গা দখল করেছে এএফডি।

বর্তমান জনমত জরিপের গড় হিসাবে জার্মানিতে এএফডির সমর্থন প্রায় ২৮ শতাংশ। সিডিইউ ও তাদের জোটসঙ্গী সিএসইউর সমর্থন ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ, গ্রিন পার্টির ১৫ শতাংশ এবং এসপিডির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। বামপন্থী ডি লিংকের সমর্থনও ১১ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

এ পরিস্থিতিতে কার্যকর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে মূলধারার দলগুলোর মধ্যে উগ্র ডানপন্থিদের মোকাবিলায় কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা উচিত, তা নিয়েও মতবিরোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউরোপের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আসন্ন নির্বাচনগুলো ইউরোপের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিভক্ত পার্লামেন্ট ও জোট সরকারে ছোট উগ্র ডানপন্থি দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে মূলধারার দলগুলো আরো কট্টর অবস্থান নিতে বাধ্য হতে পারে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যক্রমও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আগামী বসন্তে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মেরিন লো পেন জয়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি, ইউরোর ভবিষ্যৎ, ন্যাটো ও ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুরি বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই এমন মানুষের জন্যও উন্নতির সুযোগ এবং প্রযুক্তির সুফল সবার মধ্যে বণ্টনের কার্যকর পরিকল্পনা।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%