বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৯ পি.এম
খুলনা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় নির্মিত বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্ট আগামী ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরু করবে।
এছাড়া, বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় একটি নতুন বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টও শীঘ্রই চালু হবে। এই তিনটি রিসাইকিং প্লান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ প্রকাশ করেন।
পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর-খুলনার সহযোগিতায় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত বিশ্বের অবস্থান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমরা ততটা না পারলেও কাছাকাছি যেতে চাই। কিন্তু পারস্পারিক সহযোগিতা না থাকলে সফল হওয়া যাবে না।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান।
প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর-খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. রেজাউর রহমান, সহকারী পরিচালক ডা. মোস্তফা আল মামুন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান এবং হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. সাজ্জাদুল হাসনাত খান। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
কর্মশালায় হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা হাসপাতালের বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ, সংগ্রহ, সংরণ ও অপসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প বুহরিংয়ে ইরানের হামলার তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, একপর্যায়ে মার্কিন সেনাদের মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হতে হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে হামলার সময়ের দৃশ্য এবং বিস্ফোরণের পর ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পূর্বে ঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় ৭ হাজার মার্কিন সেনার অধিকাংশকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে শতাধিক সেনা ক্যাম্প বুহরিংয়ে থেকে যান। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ঘাঁটিটি বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তিন মার্কিন সেনা সিবিএসকে জানান, হামলায় ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমানও অংশ নেয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "তারা এত কাছ দিয়ে উড়েছিল যে পাইলটদের হেলমেট দেখতে পাচ্ছিলাম। হামলা চালিয়েই তারা চলে যায়।"
হামলার সময় ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের দশমিক ৫০ ক্যালিবারের গোলাবারুদের তীব্র সংকট দেখা দেয়। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্বেগ ছিল।
এক সেনাসদস্য বলেন, "তারা আমাদের ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনেছিল। ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি।"
হামলায় ক্যাম্প বুহরিংয়ে কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলেও, কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন মরুভূমিতে বজ্রপাতে আহত হন। একজনের শরীরে দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অন্যজনের কানের পর্দা ফেটে যায়।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনার্স ১ম বর্ষ (২০২৫-২৬) এবং একাদশ (২০২৬-২৭) শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের মাঠে কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মো. মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় এবং শাখা সভাপতি মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. নোমান হোসেন নয়ন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পশ্চিম শাখা শিবিরের সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ।
স্বাগত জানিয়ে ফুল ও বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর গানের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে ছাত্রশিবির। এরপর বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, শিষ্টাচার, জীবনের লক্ষ্য স্থিরকরণ, ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের উপর আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে বিভিন্ন ছাত্রশিবিরের লোগো সংবলিত উপহার সামগ্রী, বই ও খাবার বিতরণ করা হয়।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আয়োজন দেখে মুগ্ধ হন। তারা জানান, এই কলেজে এর আগে এমন সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান কখনো হয়নি। বিশেষ করে নবীনদের বরণে এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজন এটাই প্রথম বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত সকলেই। অনুষ্ঠানে আদিনা কলেজ সাথী শাখা সভাপতি আসমাউল হুসনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ৫৫০ জন নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট শিল্পের গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি) এবং মাভাবিপ্রবির মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম যন্ত্রপাতি ও মালামাল হস্তান্তর করেন মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের কাছে।
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পটির যন্ত্রপাতিসহ মোট ৫৩টি আইটেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই যন্ত্রপাতি পাটের সেলুলোজ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় কাজে লাগানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, "অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নষ্ট না করে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে পাটের নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন সিকদার, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং মাভাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন সিকদার এবং মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মাভাবিপ্রবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিকদার, অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার, সহকারী অধ্যাপক আল ইমরান হোসাইন ও প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসাইনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
উল্লেখ্য, পাটের সেলুলোজ থেকে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে বিজেএমসির অধীনে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে গবেষণা করা হয়। উৎপাদন ব্যয় ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কয়েক মাস ধরে চললেও, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়নি। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চলছে। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে চাইবেন। কারণ, যুদ্ধের বিষয়টি সামনে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো এবং সংঘাতে অগ্রগতি দেখানোর জন্য ট্রাম্পের আগ্রহ এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সম্ভাব্য হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তু এবং হামলা চালানো হবে কি না—এসব বিষয়ে আলোচনা এখনও চলছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম এসব পরিকল্পনা তৈরি করছে।
পরিকল্পনার সমর্থকরা স্বীকার করছেন যে, সীমিত হামলা একা ইরানকে আলোচনায় বসাতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন করতে বা নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে সক্ষম হবে না। তবে তাদের ধারণা, কয়েক মাসের অস্বস্তিকর শান্তির পর সামরিক পদক্ষেপ নিলে ট্রাম্প শক্ত অবস্থান দেখাতে এবং বিজয় দাবি করতে পারবেন।
এদিকে, এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ইরানের পালটা হামলার ঝুঁকিতে ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারও চাপের মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, সীমিত ও অনির্ণায়ক হামলা মূল্যস্ফীতি কমানোর পরিবর্তে উল্টো বাড়িয়ে দিতে পারে।
ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক উইল ওয়ালডর্ফ বলেন, "সামরিক পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত তেলের দাম কমাতে পারেনি; বরং এর বিপরীত প্রভাবই দেখা গেছে।"
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে বসন্তে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৮ ডলারে পৌঁছেছিল। গত মাসে তা সাময়িকভাবে ১০০ ডলার ছাড়ালেও বর্তমানে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম এখন প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩৭ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের সামান্য কম ছিল।
এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে কিছু জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে ভাবছেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
একই সময়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত ও সময়সূচি নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টার মতে, সংঘাত শুরুর পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশটির অর্থনীতি নড়বড়ে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং নেতৃত্বের মধ্যেও বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা চালালে ইরানকে চাপে ফেলার বদলে যুদ্ধ ও এর নেতিবাচক প্রভাব ভোটারদের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে—যা রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: দ্য আটলান্টিক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ