১২:৩৯ পি.এম
ঢাকাসহ সারা দেশের সাতক্ষীরার আম পাঠানোর সুযোগে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে আম চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।
জলবায়ু ও মাটির গুণে সাতক্ষীরার আম আগেভাগেই পাকে। এর সুমিষ্ট স্বাদ, জেলার আমের চাহিদা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বাড়িয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিবহনের নামে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।
প্রতি কেজি আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে খরচ নেয়া হচ্ছে ১৩ থেকে ২৪ টাকা। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কার্টন প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকার প্লাস্টিকের বস্তা ৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে গ্রাহকদের। এই সবকিছুর ওপর অনেক সময় কর্মচারীদেরও বকশিশ দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চিলমারী–রৌমারী নৌপথে ফেরি ও কর্মী উধাও, কোটি টাকার উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ
অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে চাষিরা সাতক্ষীরার সুমিষ্ট আমের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানান সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সাতক্ষীরার আমের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্বল্প খরচে আম পরিবহনের সুযোগ দিচ্ছে ডাকঘর বা পোস্ট অফিস। সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার জানান, সরকারিভাবে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম পরিবহনে নেয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের তদারকির অভাব নিয়ে অভিযোগ থাকলেও নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ् কাওসার আজিজ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আম শুধু ফল নয়, এটি এখন অর্থকরী ফসল।’ কুরিয়ার সার্ভিস, আম চাষি ও কৃষি বিভাগকে নিয়ে বসে এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরায় এবার ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে, যার বেশিরভাগই জেলার বাইরে পরিবহন করা হয়।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন