ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকার পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করবে


সরকার পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করবে

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের কৌতুহলি অংশ হিসেবে সরকার একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুঁজিবাজার খাতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সরকারের লক্ষ্য পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অর্থায়নের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমাতে নতুন উৎস তৈরি করা হবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য। এ লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

একই সঙ্গে শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ড মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুকসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি বলেন, যোগ্য কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্তির ধাপগুলো পর্যালোচনা ও সরলীকরণ করা হবে। প্রতিবেদন ও তথ্য প্রকাশের শর্তাবলী সংশোধন করে আরও সহজ, সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত করা হবে, যাতে ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হয়।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থায়নের জন্য পৌর বন্ড (মিউনিসিপ্যাল বন্ড) ইস্যুর প্রয়োজনীয় কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি ২৭ অক্টোবর

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ব্রিতো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ব্রিতো

ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ও কিংবদন্তি সেন্টার ব্যাক ব্রিতো এ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে সিবিএফ। তবে, তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন ব্রিতো। তিনি ১৯৬৬ ও ১৯৭০, এই দুটি বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রক্ষণভাগে উইলসন পিয়াজার সঙ্গে এক দুর্দান্ত জুটি গড়ে তুলেছিলেন, যা সেই সময় ব্রাজিল দলের অন্যতম শক্তির জায়গা হিসেবে চলেছিল।

ব্রিতোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেলেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি, ব্রিতো ব্রাজিলের হয়ে ১৯৭১ সালে কোপা রোকা এবং ১৯৭২ সালে তাসা ইন্ডিপেনদেন্সিয়াও শিরোপা জিতেছিলেন।

তার অবদানের কথা স্মরণ করে সামির জাউদ আরও বলেন, "আমাদের দেশের এই মহান তারকাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। তার লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।"

ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি প্রজন্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ব্রিতোর মৃত্যুতে বিশ্ব ফুটবল হারিয়েছে আরেকটি বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিকে। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং দেশের ফুটবলে অবদান ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন চিন্তায় থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন বছরের চুক্তিতে রিয়ালের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মরিনহো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


তিন বছরের চুক্তিতে রিয়ালের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মরিনহো

রিয়াল মাদ্রিদ তিন বছরের চুক্তির মাধ্যমে অভিজ্ঞ হোসে মরিনহোকে দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই মাধ্যমে ১৩ বছর পর আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরেছেন পর্তুগীজ মরিনহো।

মরিনহো, যাঁর বয়স ৬৩ বছর, তিনি আলভরো আরবেলোয়ার স্থান গ্রহণ করেছেন। রিয়াল টানা দুইবার লা লিগায় বার্সেলোনার পিছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়া ছাড়াও কোনো ট্রফি ছাড়া মৌসুম শেষ করেছে।

একটি বিবৃতিতে ১৫ বারের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল জানিয়েছে, ‘আগামী তিন মৌসুমের জন্য অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দলের প্রধান কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোকে নিয়োগ দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী ১৩ জুলাই ক্লাবের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির শুরু দিনে মরিনহো রিয়ালে যোগদান করবেন।’

ফুটবলের অন্যতম সফল ম্যানেজার হিসেবে মরিনহোকে বিবেচনা করা হয়। বেনফিকা থেকে রিয়ালে যোগ দিয়েছেন তিনি। পর্তুগীজ লিগে অপরাজিত থাকা সত্ত্বেও লিসবনের এই ক্লাবটি মৌসুমটি তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। মরিনহোর ট্রান্সফার বাবদ রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকাকে ১৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছিল।

মরিনহো এর আগে ২০১০-২০১৩ পর্যন্ত মাদ্রিদে ছিলেন। রিয়ালের হয়ে লা লিগা, কোপা ডেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ জয় করেছেন। মরিনহোর অধীনে প্রথম ক্লাব হিসেবে ২০১১-১২ মৌসুমে রিয়াল লা লিগায় ১০০ পয়েন্ট অর্জন করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর শুভ সূচনা উদ্বোধনী ম্যাচে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর শুভ সূচনা উদ্বোধনী ম্যাচে

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকো অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে মেক্সিকো শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।

টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি সামনে নিয়ে আসেন জুলিয়ান কুইনোনেস। এরপর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমিনেজ দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে পরবর্তী পর্বে ওঠার উদ্দেশ্যে মেক্সিকোর যাত্রা চমৎকারভাবে শুরু হলো।

অন্যদিকে, দক্ষিন আফ্রিকার দলটি ম্যাচে কখনোই মেক্সিকোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। পরিস্থিতি তখন আরও খারাপ হয়ে যায় যখন তাদের দুই খেলোয়াড় স্পেফেহলো সিথোলে ও থেম্বা জওয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে ম্যাচের শেষভাগে তাদের দলটি মাত্র নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে সমর্থ হয়।

খেলার সূচনার আগে আতশবাজির কারণে স্থাদিয়ামের আকাশে মেক্সিকোর পতাকার লাল, সবুজ ও সাদা রঙের ধোঁয়া পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই নবম মিনিটে কুইনোনেস গোলটি করে বসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে তিনি নিচে শটে বল জালে পাঠান।

গোল করার সঙ্গে সঙ্গে আজটেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। এটি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র স্টেডিয়াম, যেখানে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস ম্যাচের পূর্বে তার খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছিলেন যে ৮০,৮২৪ দর্শকের অনন্য পরিবেশের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এর কারণে মাঠে নেমে তার দলের খেলোয়াড়দের বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়।

মেক্সিকোর সমর্থকেরা প্রতিটি সফল পাসের পর “ওলে! ওলে!” ধ্বনি তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। বিশেষ করে সিথোলে প্রথম থেকেই ছন্দহীন ছিলেন। প্রথম গোলের সময়ও তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মেক্সিকো আক্রমণে চলে যায়। সিথোলের হতাশাজনক দিনটি শেষ হয় ৪৯তম মিনিটে। গোলের দিকে একাই এগিয়ে যাওয়ার সময় ব্রায়ান গুটিয়েরেক ফাউল করায় তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

এরপর ৬৭তম মিনিটে মেক্সিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে রবার্তো আলভারাদোর ডান দিক থেকে ক্রসে জিমিনেজ দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান।

৮৪তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ভিএআর পর্যালোচনার পর আলভারাদোর মুখে হাত মারার অপরাধে জওয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

তবে ম্যাচের শেষদিকে কিছু নাটকীয়তা দেখা দেয়। অতিরিক্ত সময়ের আগে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মনটেস পেনাল্টি এলাকার সীমানার বাইরে খুলিসা মুডাওকে অসতর্ক ট্যাকল করলে তিনিও লাল কার্ড দেখতে পান।

তবুও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২-০ গোলে জয় নিয়ে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান চমৎকারভাবে শুরু হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গল অভিযানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল 'ইনজেনুইটি', বদলে গেছে গ্রহ অনুসন্ধানের ধারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


মঙ্গল অভিযানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল

 

মঙ্গল গ্রহে উড়তে পারে এমন একটি ছোট হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনার শুরুতে হয়তো কেউ ভাবেননি, এটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এত বড় পরিবর্তন আনবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটে।

নাসার ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার শুধু অন্য একটি গ্রহে প্রথমবারের জন্য নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন করেনি, বরং ভবিষ্যতের গ্রহ অনুসন্ধানের নতুন পথও উন্মোচিত করেছে।

নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল) এবং অ্যারোভাইরনমেন্টের প্রকৌশলীরা ২০০০ সালের শুরুর দিকে এই ধারণা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পর ২০১৮ সালের ১১ মে নাসা ঘোষণা দেয়, তাদের ‘মার্স ২০২০’ অভিযানের সঙ্গে একটি ছোট হেলিকপ্টারও মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

তবে তখন খুব কম মানুষের ধারণা ছিল যে, এই ছোট হেলিকপ্টার কোন একদিন মহাকাশ গবেষণার অন্যতম সফল প্রযুক্তি পরীক্ষায় পরিণত হবে।

ইনজেনুইটিকে শুরুতে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য খুবই সীমিত ছিল- মঙ্গল গ্রহের অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলে একটি হেলিকপ্টার উড়তে পারে কি না, সেটি প্রমাণ করা। বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন, হালকা ওজনের একটি উড়ন্ত যান সেখানে নিরাপদে উড্ডয়ন এবং কার্যক্রম চালাতে পারে কি না।

এটি সফল হলে ভবিষ্যতে রোভার বা মহাকাশযানগুলোর আগে আকাশপথে এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারতো। এতে বিপজ্জনক স্থানের এড়িয়ে নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা সহজ হয়ে যেত। একই সঙ্গে উপর থেকে এমন অনেক ভূতাত্ত্বিক গঠন দেখা যেত, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। ফলে মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনুসন্ধানের কাজ আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।

২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল ইনজেনুইটি ইতিহাস গড়ে। সেদিন এটি প্রথমবারের মতো অন্য কোনো গ্রহে শক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছিল। এই ঘটনাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার কিটি হকে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়নের সঙ্গে তুলনা করেন। নাসা এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে স্মরণীয় করে রাখতে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের বিখ্যাত ‘রাইট ফ্লায়ার’ বিমানের কাপড়ের একটি ছোট টুকরা ইনজেনুইটির সঙ্গে বহন করেছিল। এই সফল উড্ডয়ন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অর্জন ছিল না, এটি মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়েরও সূচনা করে।

শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৩০ দিনের একটি পরীক্ষামূলক মিশনের পরিচালনা করার এবং ইনজেনুইটি সর্বাধিক পাঁচবার উড়বে। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট হেলিকপ্টার প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করতে থাকে। মিশন শেষ হওয়ার আগে এটি মোট ৭২টি সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। ফলে এটি শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক যন্ত্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মঙ্গলে থাকা পারসিভিয়ারেন্স রোভারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে ওঠে। এর সাফল্য প্রদর্শন করে যে, ভবিষ্যতের গ্রহ অভিযানে আকাশপথে চলাচলকারী যান যুক্ত হলে অনুসন্ধানের গতি ও কার্যকারিতা অনেক বাড়বে।

মঙ্গল গ্রহে উড্ডয়ন করা পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। কারণ, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের মাত্র ১ শতাংশ ঘন। এত পাতলা বায়ুতে ভেসে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইনজেনুইটির দুটি কার্বন ফাইবার ব্লেড প্রতি মিনিটে প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ বার ঘুরত। পৃথিবীর অধিকাংশ হেলিকপ্টারের তুলনায় এটি অনেক বেশি গতি। এছাড়া, প্রকৌশলীদের ধুলাবালি, তীব্র বিকিরণ এবং রাতে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়া তাপমাত্রার মতো কঠিন পরিবেশের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমন অবস্থাতেও ইনজেনুইটি সফলভাবে উড়তে পেরেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজও করেছে।

ইনজেনুইটির আগে মঙ্গল গ্রহে রোভার পরিচালনা ছিল ধীর ও জটিল একটি কাজ। রোভারকে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে হতো। মিশন পরিচালনাকারীরা মূলত মাটি থেকে তোলা ছবির ওপর নির্ভর করতেন। ফলে নিরাপদ পথ নির্বাচন অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তো। অপরচুনিটি এবং কিউরিওসিটির মতো রোভারগুলোকে মাঝে মাঝে পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। কখনও কখনও বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে আবার আগের পথে ফিরে যেতে হয়েছে। ২০১৪ সালে অপরচুনিটি রোভার নরম মাটিতে আটকে গেলে প্রকৌশলীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে উদ্ধার পরিকল্পনা পরীক্ষা করেন। পরে সেটিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। ইনজেনুইটি সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি কার্যকর সমাধান দেখিয়েছে।

মজার বিষয় হলো, ইনজেনুইটির মিশন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈরী পরিবেশের কারণে শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৭২তম উড্ডয়নের সময় এটি অবতরণের আগে মাটির দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ফলে নেভিগেশন ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং হেলিকপ্টারটি শক্তভাবে সবলে অবতরণ করে। এতে এর ব্লেডগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীকালে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্য দিয়েই ইনজেনুইটির মিশনের সমাপ্তি ঘটে। তবে শেষ মুহূর্তেও এটি বিজ্ঞানীদের জন্য মূল্যবান তথ্য প্রদান করে গেছে।

ইনজেনুইটির সাফল্যের গল্প যতটা উজ্জ্বল, শুরুটা ততটাই সহজ ছিল না। নাসা এবং জেপিএলের অনেক বিজ্ঞানী প্রথমে এই প্রকল্প নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত খরচ, সময় এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে মূল বৈজ্ঞানিক মিশন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পারসিভিয়ারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেনেথ ফারলি তখন বলেছিলেন, "যদি কয়েক সপ্তাহ শুধু উড্ডয়ন পরীক্ষাতেই ব্যয় হয়, তাহলে রোভারের মূল গবেষণা কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে।" তবে ইনজেনুইটির ধারাবাহিক সাফল্য দ্রুত সেই সন্দেহ দূর করে দেয়। শেষ পর্যন্ত এটি মঙ্গল অভিযানের সবচেয়ে সফল প্রযুক্তি পরীক্ষাগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

 

ইনজেনুইটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি প্রমাণ করেছে মঙ্গল গ্রহে নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন শুধু সম্ভবই নয়, বরং এটি গ্রহ অনুসন্ধানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। এই মিশন আরও দেখিয়েছে, সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ের প্রযুক্তি—যেমন স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর—যথাযথভাবে পরিবর্তন করে মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে প্রকৌশলীরা এখন অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, মঙ্গলের মতো পরিবেশে উড়ন্ত যান কীভাবে কাজ করে, কী ধরনের নকশা সবচেয়ে কার্যকর এবং কোন সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নেভিগেশন, সেন্সর প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইনজেনুইটির অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে ইনজেনুইটি শুধুমাত্র একটি সফল প্রযুক্তির পরীক্ষা নয়। এটি গ্রহ অনুসন্ধানের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। ছোট এই হেলিকপ্টার দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র মঙ্গল নয়, সৌরজগতের আরও অনেক গ্রহ ও উপগ্রহে আকাশপথে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, আগামী কয়েক দশকে যে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ ড্রোন তৈরি হবে, তাদের পেছনে ইনজেনুইটির অবদান থাকবে সবচেয়ে বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%