মোঃ রাসেল সরকার ( স্টাফ রিপোর্টার)
১০:০০ পি.এম
‘তোমার সম্মুখে অনন্ত মুক্তির অনিমেষ ছায়াপথ’ এবং ‘হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলার লোকঐতিহ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৬ষ্ঠ বাংলা লোকনাট্য উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন পূরবী থিয়েটার এবং শিশু সংগঠন ভোর হলো যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করে। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শাহজাদপুর ইব্রাহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, বাউল গান, ধূয়া গান, লোক নৃত্য, একক অভিনয় ও নাটক পরিবেশন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) ফরিদুল ইসলাম, শাহজাদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান মিলন, শাহজাদপুর ইব্রাহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকী, শাহজাদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষিকা চৈতি বসাক, প্রচেষ্টা সংগঠনের পরিচালক শাহবাজ খান সানি, নাট্যব্যক্তিত্ব কাজী শওকত প্রমুখ।
বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষিকা চৈতি বসাক, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ বায়জিদ হোসেন, পূরবী থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক, কবি ও নাট্যকার মো. মুমীদুজ্জামান জাহান, আব্দুল মতিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পূরবী থিয়েটারের সভাপতি কবি মমতাজ উদ্দিন শেখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজী শওকত। বক্তব্য শেষে আবৃত্তি, বাউল গান, একক অভিনয় ও নাটক পরিবেশন করা হয়। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শ্রুতি বসাক, কথা বসাক, তরিকা, রেজওয়ানা রহমান বন্ধন, কাজী কলি, মেহেরিন মৃত্তিকা প্রমুখ। বাউল গান পরিবেশন করেন ওস্তাদ বায়জিদ হোসেন, আব্দুল মতিন, কাজী তপন, চৈতি ও দিয়া ঘোষ। সৈয়দ শামসুল হক রচিত এবং কাজী শওকত নির্দেশিত বিবর্তন নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘প্যাটের বিষ’ এ অভিনয় করেন এম এম সুজন, পারভীন, ইব্রাহিম খলিল বাবু, তরিকা ও সাজিদ। ‘নবার নামতা পাঠ’ নাটকে একক অভিনয় করেন তাহফিম তরিকা। সৃজন ললিতকলা একাডেমির ইমন হাসান, আব্দুর রহমান আকাশ ও মালিহা জেরিন দীপার পরিচালনায় লোক নৃত্য পরিবেশন করেন অপরাজিতা, প্রথমা, ভূমি, বর্ষা ও নিবেদিতা। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন স্বচ্ছ, ভবেশ চন্দ্র, হাসান আলী, কামাল হোসেন প্রমুখ।
এ উৎসবে স্বজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক সাগর বসাক, বাবুল হাসান, নুপুর কুমার রায়, জোবায়ের হোসেন, আলামিন, পারভীন, কিরণ, তাকিবুন্নাহার, নূর মোহাম্মদ মেঘ, তাহমীদ হাম্মাদ রোদ্দুর, মেহেদী হাসান, সায়মুন, আব্দুল অলি, রুবেল, নাসির, সাকিব, রাকিব, ইসমাইল, বকুল প্রমুখ। এ অনুষ্ঠানে ব্যাপক দর্শক সমাগম ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ আজ ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি রাত ৮ টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অভ্যর্থনা জানান।
সফরকালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাথে আইপিইউ’র সহযোগিতা জোরদার এবং সংসদীয় কূটনীতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। সফর শেষ করে তিনি আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কর্মীদের বেতন নিয়ে ক্ষোভের জেরে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে একটি বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২৯ বছর বয়সী এক গুদামকর্মীর বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে লাগা ওই আগুনে ১২ লাখ বর্গফুটের পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
অভিযুক্ত চামেল আবদুলকারিম হাইল্যান্ড শহরের বাসিন্দা। তিনি ওই গুদামে সরাসরি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বারলি-ক্লার্কের কর্মী ছিলেন না। তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিকস কোম্পানি এনএফআই ইন্ডাস্ট্রিজের হয়ে সেখানে কাজ করতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল রাত ১২টা ৩৪ মিনিটের দিকে অন্টারিওর একটি বড় ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুনের খবর পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আবদুলকারিম গুদামের ভেতরে কাগজজাত পণ্যে ভরা একাধিক প্যালেটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি সেই ঘটনার ভিডিওও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিওতে বেতন নিয়ে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করা বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, কর্মীদের জীবনযাপনের মতো বেতন দেওয়া হলে এমন ঘটনা ঘটত না। পরে ফোন কল ও মেসেজেও তিনি কর্মীদের উৎপাদিত মূল্যের আরও বেশি অংশ দেওয়ার কথা বলেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিপুল পরিমাণ টিস্যু, টয়লেট পেপার ও অন্যান্য কাগজজাত পণ্য মজুত ছিল। প্রচণ্ড আগুনে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং পুরো ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী কাজ করেন। ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভবনটির মূল্য এবং ভেতরে থাকা পণ্যের ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ৬০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে কাগজজাত পণ্যের মূল্যই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর আবদুলকারিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একাধিক অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়ে বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
১৩ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আবদুলকারিম অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
তদন্তকারীরা এফবিআই, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস, অন্টারিও পুলিশ বিভাগ এবং অন্টারিও ফায়ার বিভাগের সঙ্গে মিলে তদন্ত চালাচ্ছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুলকারিমকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপরাধপ্রবণতার কারণে নোয়াখালীর সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের নাম শুনলেই অন্য এলাকার মানুষ ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে চাইতেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়নবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে আন্ডারচরে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। এতে এলাকার মানুষ সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। এমনকি আন্ডারচরের নাম শুনে অনেকে আত্মীয়তা করতেও রাজি হতেন না।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি আন্ডারচরের এক যুবকের পাশের ইউনিয়নে বিয়ে হওয়ার পর মেয়েপক্ষ ছেলের বাড়ি আন্ডারচর এলাকায় জানতে পেরে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ করে দেয়।
তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নবাসীর দাবি ছিল এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু হওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পুলিশি সেবা পাওয়া যাবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, শান্তি, শৃঙ্খলা ও অগ্রগতির প্রত্যয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় কাজ করছে। আন্ডারচর ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদারে এই পুলিশ ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পটি সুধারাম মডেল থানার অধীনে পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে আন্ডারচরে একটি তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে কৃষকলীগ নেতাকে আদালতে পাঠানোর প্রাক্কালে পূর্ব থানা গেটে 'জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তিন নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-শারমিন সুলতানা, জহুরা বেগম, শাহিদা, মাহাদী হাসান ও মো. হারুন অর রশিদ। তাঁরা সবাই ৪৭ নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতিনের (৪৫) স্বজন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার মূলফটকের সামনে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশি অভিযান চালিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪৭নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতিনকে গ্রেফতার করে। পরে থানায় আইনী প্রক্রিয়া শেষে রবিবার দুপুর দুইটার দিকে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো জন্য গাড়িতে উঠান এসময় থানার মূলফটকের সামনে দাঁড়িয়ে শারমিন সুলতানা, জহুরা বেগম, শাহিদা, মাহাদী হাসান ও মো. হারুন অর রশিদসহ আরও বেশ কয়েকজন 'জয় বাংলা, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এ ঘটনায় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মােহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, স্লোগান শোনে তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে পাচঁজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় মামলা শেষে গ্রেফতারকৃতদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ