শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৫ এম
পথকুকুরের উৎপাত: প্রতিকার না পেয়ে কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দেওয়া হলো কুকুর
মহারাষ্ট্রের নাসিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় কয়েকটি পথকুকুর।
যুবসেনার নেতাকর্মীদের দাবি, এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেলেও এ বিষয়ে কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার জেলা প্রধান বিক্রম রন্ধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে ছোট একটি কুকুর বের করে ধীরজ ভামরের টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।
এ সময় চেয়ারে বসে থাকা কর্মকর্তা চমকে গিয়ে টেবিল থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। পরে আবার নিজের আসনে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতরে আটকে থাকার কারণে ভীত কুকুরটি ছুটে গিয়ে একটি কোণে আশ্রয় নেয়।
কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করা হয়। কুকুরটি টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক পাশে রাখা একটি চেয়ারে বসে পড়ে।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা রন্ধাভে নিজের গলায় ২০ রুপির নোট দিয়ে সাজানো একটি মালা পরিয়ে নেন। তিনি ধীরজ ভামরের কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে ধীরজ ভামরের কাছে কতবার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও তাকে স্মরণ করিয়ে দেন রন্ধাভে।
এক সাক্ষাৎকারে রন্ধাভে বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে পথকুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। গত ছয় মাস ধরে আমি নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলে আসছি।
তিনি আরও বলেন, একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে। আমি তাকে এলাকার পরিস্থিতি দেখিয়েছি, সেখানকার ছবি পাঠিয়েছি এবং বারবার বিষয়টি সমাধানের কথা বলেছি। কিন্তু যখন দেখলাম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তখন প্রতিবাদ হিসেবে তার টেবিলের ওপর চারটি কুকুর ছেড়ে দিয়েছি।
রন্ধাভে অভিযোগ করেন, ধীরজ ভামরে দরপত্রের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ কারণেই যুবসেনার কর্মীরা নোট দিয়ে তৈরি মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলোও তার টেবিলের ওপর রাখা হয়।
এ ঘটনাকে শেষ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে যুবসেনার এই নেতা বলেন, আট দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে আরও কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।
রন্ধাভে বলেন, এখন গণেশ উৎসব চলছে। মানুষ আরতির জন্য বাইরে গেলে কুকুর তাদের পেছনে ছুটছে এবং ছোট শিশুদের কামড় দিচ্ছে। পথকুকুর নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পথকুকুরের উৎপাত: প্রতিকার না পেয়ে কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দেওয়া হলো কুকুর
মহারাষ্ট্রের নাসিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় কয়েকটি পথকুকুর।
যুবসেনার নেতাকর্মীদের দাবি, এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেলেও এ বিষয়ে কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার জেলা প্রধান বিক্রম রন্ধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে ছোট একটি কুকুর বের করে ধীরজ ভামরের টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।
এ সময় চেয়ারে বসে থাকা কর্মকর্তা চমকে গিয়ে টেবিল থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। পরে আবার নিজের আসনে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতরে আটকে থাকার কারণে ভীত কুকুরটি ছুটে গিয়ে একটি কোণে আশ্রয় নেয়।
কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করা হয়। কুকুরটি টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক পাশে রাখা একটি চেয়ারে বসে পড়ে।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা রন্ধাভে নিজের গলায় ২০ রুপির নোট দিয়ে সাজানো একটি মালা পরিয়ে নেন। তিনি ধীরজ ভামরের কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে ধীরজ ভামরের কাছে কতবার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও তাকে স্মরণ করিয়ে দেন রন্ধাভে।
এক সাক্ষাৎকারে রন্ধাভে বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে পথকুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। গত ছয় মাস ধরে আমি নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলে আসছি।
তিনি আরও বলেন, একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে। আমি তাকে এলাকার পরিস্থিতি দেখিয়েছি, সেখানকার ছবি পাঠিয়েছি এবং বারবার বিষয়টি সমাধানের কথা বলেছি। কিন্তু যখন দেখলাম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তখন প্রতিবাদ হিসেবে তার টেবিলের ওপর চারটি কুকুর ছেড়ে দিয়েছি।
রন্ধাভে অভিযোগ করেন, ধীরজ ভামরে দরপত্রের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ কারণেই যুবসেনার কর্মীরা নোট দিয়ে তৈরি মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলোও তার টেবিলের ওপর রাখা হয়।
এ ঘটনাকে শেষ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে যুবসেনার এই নেতা বলেন, আট দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে আরও কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।
রন্ধাভে বলেন, এখন গণেশ উৎসব চলছে। মানুষ আরতির জন্য বাইরে গেলে কুকুর তাদের পেছনে ছুটছে এবং ছোট শিশুদের কামড় দিচ্ছে। পথকুকুর নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার পরও কংগ্রেসের সাড়া না পাওয়ার কারণে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে অংশগ্রহণ করবে না তৃণমূল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে কিংবা বাইরের রাজনৈতিক সমঝোতার পথে তৃণমূল আর হাঁটবে না। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ভাগাভাগি ঠেকানোর জন্য কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে ফোন করে নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তাছাড়া রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়নি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, যদি তৃণমূল সত্যিই জোটে আগ্রহী হয়, তাহলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই আসনেই কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে। তিনি এও জানিয়েছেন, সেখান থেকেই ভবিষ্যতে জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এই অবস্থানের ফলে তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস যদি শুধুমাত্র তাদের স্থানীয় নেতাদের মতামত অনুযায়ী চলে, তাহলে সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই।
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে সংসদে ও বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না করার বার্তা প্রকাশিত হয়। এদিকে, দুই দলই ইতিমধ্যে দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোট একত্রিত করার যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেছে। বরং দুই আসনেই তৃণমূল ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়াই করবে। এর সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণের পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেসের বক্তব্য, আগে দুই আসনেই তৃণমূল তাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক। অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, জোটের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পরও কংগ্রেসের প্রত্যাখ্যানের ফলে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে পাশাপাশি থাকা দুই দলের পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্কও নতুন মোড় নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক সুদের হার তিন বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। খবর বিবিসি বাংলার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাংক সুদের হার কমানোর জন্য আহ্বান জানালেও, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারকরা সর্বসম্মতিক্রমে সুদের হার ৩ দশমিক ৫-৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫-৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বলেছেন, "মূল্যস্ফীতি এখন অনেক বেশি এবং লম্বা সময় ধরেই সেটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।" তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মতে, এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত "বিচক্ষণ" এবং "দায়িত্বশীল"।
ওয়ার্শের সুদের হার বৃদ্ধির ঘোষণার পর, ট্রাম্প সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডের সিদ্ধান্তকে "ক্ষ্যাপাটে" বলে মন্তব্য করেছেন।
সুদের হার বৃদ্ধির ফলে যারা ব্যাংক ঋণ, বন্ধকি ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ড নিতে চান, তাদের খরচ কিছুটা বাড়বে। অন্যদিকে, ঋণের বদলে যারা সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকবেন, তারা লাভবান হবেন।
গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্শ বলেন, "তাদের নেতৃত্বের মধ্যে 'আশাবাদী মনোভাব' থাকলেও এটাই বাস্তবতা যে, মূল্যস্ফীতি এখনও একটি সমস্যা হয়ে রয়ে গেছে।"
অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো, ফেডারেল রিজার্ভও মুদ্রাস্ফীতির হার দুই শতাংশ বা তার নিচে রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে" সেটি লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি মার্কিন ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাইকারি বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। এই কারণে অনেক পণ্য ও পরিষেবার দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ওয়ার্শ বলেন, "কোনো একক পণ্যের মূল্যের ওপর তারা কোনো প্রভাব রাখতে পারেন না।" তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি যেন আর না বাড়ে, সে লক্ষ্যে তারা কাজ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, "কর্মসংস্থানসহ বৃহত্তর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পণ্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার দিকে মনোনিবেশ করছে ফেডারেল রিজার্ভ।" মূল্যস্ফীতি কমে আসলে কম সচ্ছল ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
একটি দেশের অর্থনীতিতে যখন মূল্যস্ফীতি বেশি থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত ব্যয় নিরুৎসাহিত করা এবং সঞ্চয়ে উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এভাবে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে তারা আশা করেন।
তবে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুদের হার বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের উপকৃত হলেও ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে উৎসাহ কম দেখায়। এতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যে বার্তা দিচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে যখন ওয়ার্শের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়, তখন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি ট্রাম্পের "হাতের পুতুল" হবেন।
ফেড পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে, সুদের হার ব্যাপকভাবে কমানোর জন্য তিনি ট্রাম্পের দাবিগুলো পূরণ করবেন। কারণ ওয়ার্শের আগে যিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন, সেই জেরোম পাওয়েল ব্যাংক সুদের হার না কমানোয় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
বুধবার সুদের হার বৃদ্ধির ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্পকে কি কোনো বার্তা দেওয়া হচ্ছে? ওয়ার্শ বলেন, "প্রেসিডেন্টের বিষয়ে আপনাকে বলার মতো আমার কাছে কিছু নেই।"
এদিকে, সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "কেভিনের (ওয়ার্শ) ওপর ভরসা করছি, কিন্তু তিনি খুবই কঠিন একটি বোর্ডের সামনে পড়েছেন।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "আর সুদের হার অনেক বেশি, এগুলো সঙ্গত নয়। আমি কেভিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে বলেছি, তুমি বরং বোর্ডের পক্ষেই ভোট দাও, কারণ তাতে কিছু যায় আসে না। বোর্ডটি খুবই ক্ষ্যাপাটে, অত্যন্ত রাজনৈতিকও বটে।"
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুদের হার কমান, এবং সেটা দ্রুত!"
কেমন প্রভাব পড়বে?
ক্যাপিটল হিলের ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ঋণ নেওয়া এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে এবং এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক আমেরিকান ঋণগ্রস্ত হবে। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, "এর ফলে সবকিছুর দাম আরও বেড়ে যাবে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প জানেন না কীভাবে অর্থনীতি চালাতে হয়।" সুদের হার বাড়ানোর কারণে এখন ঋণের খরচ বাড়বে। বিশেষ করে, যারা ঋণ করে বাড়ি কিনতে চাচ্ছেন, তাদের ব্যয় বাড়বে। সেইসঙ্গে, ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিগত ঋণের খরচও বেড়ে যাবে।
সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণার পর গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ব্যাংকগুলোর মধ্যে জেপি মরগ্যান, কিকর্প এবং বিএনওয়াই তাদের 'প্রাইম লেন্ডিং রেট' ৬.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। গত এক বছরে মর্টগেজের খরচ বাড়লেও তা ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ স্তরের নিচে রয়েছে।
ফ্রেডি ম্যাকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদী ঋণের গড় সুদের হার এখন ৬.৭৬ শতাংশ। আর ১৫ বছর মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ৬.০৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের ৩০ বছর এবং ১৫ বছর মেয়াদী মর্টগেজ রয়েছে। 'ফিক্সড ডিল' হওয়ায় সুদের হারের পরিবর্তন তাদের মাসিক কিস্তির ওপর সেভাবে প্রভাব ফেলবে না।
কিন্তু উচ্চ সুদের হার তাদের প্রভাবিত করতে পারে, যারা নতুন করে মর্টগেজ নিতে চান।
ফেডের সুদের হার কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে নিজের মতামত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা ওয়ার্শ। তবে তার বেশিরভাগ সহকর্মী নীতি নির্ধারক বলেছেন যে, তারা বিশ্বাস করেন এই বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আবারও বাড়তে পারে এবং সেটি বেড়ে ৪ থেকে ৪.২৫ শতাংশ হতে পারে।
নীতি নির্ধারকদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কথাও বলেছেন যে, ২০২৮ এবং ২০২৯ সালে সুদের হার কমতে শুরু করতে পারে। তবে তার আগে আগামী বছর সুদের হার আরও বেড়ে ৪.২৫ থেকে ৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি হ্রাস পাবে এবং সেটি ২০২৯ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে কমে ফেডের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভই কেবল ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছে- বিষয়টি এমন নয়। ইউরোপসহ অন্যান্য দেশগুলোও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সপ্তাহে ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছে। এছাড়া ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে, মাঝ আকাশে একটি বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্লাইট চলাকালীন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে দুই যাত্রী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
ভিডিওতে দেখা যায়, চরম বাকবিতণ্ডার পর দুই ব্যক্তি একে অপরকে কিল-ঘুষি ও চড় মারতে শুরু করেন। মারামারির এক পর্যায়ে একজনের পরনের টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিমানের মধ্যে থাকা সাধারণ যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেবিন ক্রু এবং পাশে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা দুজনকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে তাদের টেনে আলাদা করে শান্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ