বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৩৯ এম
সরকারী চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াতে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর দু-তিনটি সভা করে তারা সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পরে সরকারের প্রস্তুতি চলছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশের জন্য।
মহানগর ডেস্কের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
২০১৫ সালের অষ্টম বেতনকাঠামোর সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন ও ভাতা যাতে দুই বছরে একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে দিচ্ছে পর্যালোচনা কমিটি।
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এই কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেতন কমিশনের সুপারিশের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগের বেতন কাঠামোর ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সভায় অংশ নেয়া পর্যালোচনা কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আরও দুই থেকে তিনটি সভায় বসতে হবে। এখন প্রতিটি সভায় খুঁটিনাটি দিকগুলো পর্যালোচনা করছি। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ যাতে না থাকে, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অষ্টম বেতন কাঠামোতে বেশ কিছু ভুল ছিল জানিয়ে ওই সদস্য বলেন, নতুন বেতন কাঠামোতে যাতে কোন ধরনের ভুল না থাকে, সে বিষয়ে সাবধানতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামো ঘোষণার পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন কীভাবে বাড়বে, সে বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। পরে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এসব বিষয়ের সমাধান করা হয়।
পর্যালোচনা কমিটি সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা মূল বেতন এবং ভাতা কার্যকরের বিষয়ে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত না করে মন্ত্রিসভা থেকে সিদ্ধান্ত চায় পর্যালোচনা কমিটি। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার সম্মতি দিয়েছেন কমিটির বেশির ভাগ সদস্য। সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না করে নির্বাচিত সরকারের হাতে সেই ভার দিয়ে বিদায় নেয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করে সরকার।
একজন সদস্য বলেন, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দুই বছর ২১ দিন পরে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। নবম বেতন কমিশন গঠনের ১১ মাস ২১ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারে পরিবর্তন এসেছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আগের কাঠামোতে বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই কমিটি দ্রুততার সঙ্গে পর্যালোচনার কাজ করছেন।
সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হচ্ছিল। তবে ২০১৫ সালের পর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে যাওয়ায় অনেকের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোয় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ধাপ বাড়ানো হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ থেকে কোন কোন বিষয়গুলোর রদবদল হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা। একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভাতেই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হবে। এর ফলে বিষয়টি এতটাই গোপনীয় রাখা হয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকের অ্যাজেন্ডাও আগে নির্ধারণ করা হয় না।
বেতন কাঠামোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অনুযায়ী ভাতা নিয়ে বেশ কয়েকটি এসআরও জারি করতে হবে। এখন সেসব এসআরওর খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে এসআরওগুলো হালনাগাদ করে রাখা হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসআরও জারি করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় গোপালগঞ্জ লেকপাড়ে নির্মিতব্য জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় গোপালগঞ্জ সদর আসনের এমপি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোপালগঞ্জ পৌর প্রশাসক, জেলা সিভিল সার্জন অফিসসহ বিভিন্ন সংগঠন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসব কর্মসূচিতে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামানসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর জনসাধারণের জন্য সহজ যোগাযোগযোগ্য এবং ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক অবস্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হচ্ছে। এই হরতালের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালন করছে নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ।
হরতালের অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা উপজেলার অন্তত ৮টি স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, "আমাদের দাবি একটাই— উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর জনগণের সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান পেপ্যালকে অধিগ্রহণে যৌথভাবে প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্ট্রাইপ এবং প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পেপ্যালের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৬০ ডলার ৫০ সেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে পুরো চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই গোপনীয়ভাবে এই প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত শেয়ার মূল্য গত মঙ্গলবারের (১৪ জুলাই) বাজার বন্ধের দামের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি দেখা যাচ্ছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই বিশাল অধিগ্রহণ চুক্তির অর্থায়নে বিভিন্ন ব্যাংক প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আলোচনা এখনও চলমান থাকায় পেপ্যাল, স্ট্রাইপ এবং অ্যাডভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল; কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যাপল পে ও গুগল পে-র মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে চাপে রয়েছে পেপ্যাল। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ছিল ৩৬০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ফিনটেক অধিগ্রহণগুলোর একটি। এছাড়া বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের প্রতিযোগিতার চিত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে, তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকতেই থাকবে, তেহরান এই ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এ বিষয়টি নিয়ে ঘোষণা দেন।
মোহাম্মদ আক্রমি-নিয়া, যিনি ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র, তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের কর্তৃত্বে নিশ্চিত হওয়ার পরে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তার কথায়, প্রণালিটি পুনরায় কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রকে গত মাসে হওয়া শান্তি কাঠামো চুক্তির শর্তগুলো মানতে হবে। এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় তেহরানের নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক হামলা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে বাধ্য করতে পারবে না।
আক্রমি-নিয়ার এই বক্তব্যের আগে, ইরানের বিভিন্ন শহরে নতুন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও একটি দফা হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য যে সামরিক হুমকি সৃষ্টি করা হচ্ছিল, সেই সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রত্যুত্তরে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত শান্তি চুক্তিতে উভয় পক্ষ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সম্মত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ