ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পরিবারের সবাইকে বাঁচিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ওপারে পাড়ি জমালেন অর্জুন


পরিবারের সবাইকে বাঁচিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ওপারে পাড়ি জমালেন অর্জুন

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত পরিবারের সকল সদস্যকে সেবা প্রদান করে বাঁচিয়ে তুলে নিজে আক্রান্ত হয়ে ওপারে চলে গেলেন তরুণ অর্জুন বণিক। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ঘটে এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা।

উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট এলাকার এই যুবক বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে ফেরার পর রাতের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতেই তার লাশ সৎকার করা হয়।

আরও পড়ুন: আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

মৃত যুবক অর্জুন বণিক (২৬) ছিলেন হাদিফকিরহাটের অরুপ বণিকের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভোগার পর অসুস্থ শরীর নিয়ে ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়িতে ফেরেন তিনি। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত ডাক্তার নিয়ে আসা হয়, কিন্তু তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রাত ১২টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

অর্জুন বণিকের বাবা অরুপ বণিক অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, "দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সবাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন। তাই পরিবারের সদস্যদের সেবা করতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন অর্জুন। সবাই একটু সুস্থ হতেই অর্জুন ঢাকায় ফিরে যায়। ঢাকায় ফেরার পর অর্জুনেরও জ্বর আসে। শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর সব লক্ষণ ছিল তখন অর্জুনেরও।"

কিশোর বয়স থেকেই অর্জুন এলাকায় নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকতে তিনি ভালোবাসতেন। বই পাঠের মাধ্যমে মানুষের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়, এমন ভাবনা থেকেই তিনি বই ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন।

অরুপ বণিক আরও বলেন, "ও সবাইকে সেবা করে রক্ষা করেছে। কিন্তু ওকে কে দেখবে, তাই তাকে বারবার ঢাকা থেকে বাড়ি আসার তাগাদা দিয়েছি; কিন্তু ছেলে আমার কথা শোনেনি। আর কুলিয়ে উঠতে না পেরে বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ি এসেছিল। বাস থেকে নামার পর জড়িয়ে ধরে কোনোমতে ওকে বাড়িতে নিয়ে আসি। ঘরে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই তার অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং অবশেষে ওপারে পাড়ি জমায়।"

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজশাহী মহানগর বিএনপির জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন

অর্জুন বই পড়তেন এবং অনলাইনে বই ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বইপাড়ার অনেকেই ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নানা ধরনের বই বিক্রি করতেন অর্জুন। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তিনি বই বিক্রির কাজ চালিয়ে গেছেন। এটিকেই জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। অর্জুনের এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না স্বজনরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় সিজারে যমজ নবজাতকের জন্ম, একজনের সন্ধান মিলছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


নওগাঁয় সিজারে যমজ নবজাতকের জন্ম, একজনের সন্ধান মিলছে না

নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে ডা. মাহফুজা খাতুনের বিরুদ্ধে। নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, এ ঘটনার পর নওগাঁ শহরের বেসরকারি বলাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে প্রসূতি শান্তনা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী প্রসূতি শান্তনা আক্তার নওগাঁ শহরের কালীতলা এলাকার বাসিন্দা। প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শান্তনা আক্তারকে যমজ সন্তানের বিষয়ে চিকিৎসার জন্য ডা. মাহফুজা খাতুনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি চেকআপ করে জানান যে, দ্রুত সিজার করতে হবে। তার পরামর্শ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই রাত ৮টার দিকে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়।

শান্তনা আক্তার সিজারের আগে জানতেন যে তার দুটি বাচ্চা হবে; কিন্তু সিজারের পর তাকে একটি মেয়ে নবজাতক দেখানো হয়। প্রসূতির পরিবার বিষয়টি জানার পর চিৎকার শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে যে, এ সময় প্রসূতিকে বিভিন্ন ভয়ভীতিও দেখানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হয়। অপর নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম বলেন, "আমার স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে যমজ জীবিত ভ্রূণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "গত ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে উভয় ভ্রূণের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়।"

তিনি বলেন, "ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃদস্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার প্রতি মিনিটে পাওয়া যায়। সম্ভাব্য ওজন উল্লেখ করা হয় ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম। আমরা জানতাম দুটি নবজাতক; কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশনের পর একজনকে দেখানো হয়। নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।"

শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার বলেন, "সিজারের আগেও জানি আমার দুটি বাচ্চা। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে; কিন্তু সিজারের পর একটি মেয়ে বাচ্চা আমাকে দেখানো হয়। আমার পরিবার জানার পর তারা চিৎকার শুরু করে। এ সময় চিকিৎসক আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে আমাকে প্রায় আধাঘণ্টা রেখে দেয়। তারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে আর বলে, আমরা যদি বিষয়টা মেনে না নিই তাহলে আমাকে এ অবস্থায় রেখে দেবে বলে ভয় দেখানো হয়। দুই বাচ্চাকেই আমি চাই। বিষয়টি তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।"

বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, "ওই প্রসূতি ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী। তার পরামর্শে এখানে ভর্তি হয়েছিল। তিনি নিজে অপারেশন করেছেন। বাচ্চা ১টা না ২টা—তা ওই ডাক্তার বলতে পারবেন। আমরা কিছু জানি না।"

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, "এ বিষয়ে নবজাতকের বাবা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচনে পরেই মার্কিন বিচার বিভাগে বড় ধাক্কা! জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানসহ ৩ শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


নির্বাচনে পরেই মার্কিন বিচার বিভাগে বড় ধাক্কা! জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানসহ ৩ শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর বিচার বিভাগে (ডিআজ) পদত্যাগের হিড়িক দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জন আইজেনবার্গ তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গত এক সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করা তৃতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা।

আইজেনবার্গের পদত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “আইজেনবার্গ অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশি ও বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা জোরদার করেছেন।”

আইজেনবার্গের পদত্যাগের আগে বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের (সিভিল রাইটস ডিভিশন) প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পবিরোধীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ‘গ্র্যান্ড কনস্পিরেসি’ বা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত তদন্তের তদারকিতে থাকা মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনস শুক্রবার সকালে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাশীন দলের পরাজয় এবং সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট বর্তমান মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারেন। সূত্র: সিএনএন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নামে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নামে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শিবু (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ ও শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি টিপু সুলতান, যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও ওয়াসিম, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম।

এছাড়া কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লিখিত মিরু হোসেন ওরফে ল্যাংড়া মিরু, রঞ্জিত মণ্ডল, সাবেক জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম চেঙ্গীস ওরফে চেঙ্গীস খান, ফতুল্লা থানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দীন সরদার, ফতুল্লা থানা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু শরিফুল হক, সাবেক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম, ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ এবং আল আমিন কবিরের নাম রয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন- জাকারিয়া জাকির ওরফে জাকির মেম্বার, রতন, রাকিব এবং শাহ নিজামের সহযোগী হিসেবে এজাহারে উল্লিখিত রাজ্জাক। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, অর্থায়ন ও পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা ছিল। গত ৪ নভেম্বর কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এ মামলা করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোনোর চেষ্টা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কালার স্মোক গ্রেনেড ব্যবহার করেন। এজাহারে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, দুই বাহিনীর সদস্যরা মোট ২০৩টি লং শেল, ৪৪টি শর্ট শেল, ২৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, দুটি কালার স্মোক গ্রেনেড ও পাঁচটি টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেন।

পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে সরে যান। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় শিবুকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শিবু নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই নিয়ে শঙ্কা, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


এআই নিয়ে শঙ্কা, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধস

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়ের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধসের প্রভাবে শুক্রবার এশিয়ান এবং ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই খাতের বিনিয়োগের জোয়ারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে এই ধসের সূচনা হয়। প্রযুক্তি-নির্ভর এশীয় সূচকগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুক্রবারের এই ধসে।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিটে এক নজিরবিহীন ধসে বাজার মূলধনের প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার স্রেফ হাওয়া হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোসপি’ সূচক এবং জাপানের ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক উভয়ই ৬ শতাংশ পতন নিয়ে দিন শেষ করেছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের বেঞ্চমার্ক ‘তায়েক্স’ সূচক ৪.৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে।

বাজারের এই আচরণ মূলত এ বছরের সবচেয়ে লাভজনক খাত এআই বাণিজ্য থেকে বিনিয়োগকারীদের পিছু হটার প্রতিফলন। এশীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, যারা বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তারা মূলত এআই ডেটা সেন্টারগুলো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপের মতো উপাদানগুলোর বিপুল চাহিদার কারণে এতদিন চাঙা ছিল।

ইউরোপীয় বাজারগুলোও পতনের ধারায় ছিল। শুরুতেই ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক ‘স্টক্স ৬০০’ সূচক ১.১ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে ফ্রান্সের ‘সিএসি ৪০’ এবং জার্মানির ‘ড্যাক্স’ যথাক্রমে ১.৪ শতাংশ এবং ১.৩ শতাংশের নিচে লেনদেন করছিল।

চিপ তৈরির সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক ওলন্দাজ প্রতিষ্ঠান এবং এআই শিল্পের সাথে যুক্ত ইউরোপের বৃহত্তম কম্পানি ‘এএসএমএল’-এর শেয়ারের দাম গত বৃহস্পতিবার ৬.৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল; যদিও শুক্রবার সকালের মধ্যে তারা সেই ক্ষতির বেশিরভাগই কাটিয়ে উঠে প্রায় ৬ শতাংশের ওপরে লেনদেন করছিল।

শুক্রবার প্রথম দিকের লেনদেনে মার্কিন বাজার কিছুটা মিশ্র অবস্থায় ছিল। যেখানে ডাও জোন্স ০.৮ শতাংশ কমেছিল এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও প্রযুক্তি-ভারি নাসডাক যথাক্রমে ০.৩ শতাংশ এবং ১.৪ শতাংশ বেড়েছিল। বাজারে বড় পতনের পর অনেক সময়ই কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কারণ কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার জন্য এই সুযোগে এগিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার ৯ শতাংশের বেশি ধস নামার পর প্রাক-বাজার লেনদেনে এনভিডিয়া এবং স্পেসএক্স উভয়ই প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠছিল।

মেটা, অ্যামাজন এবং গুগলের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এআই পরিচালনার জন্য নতুন ডেটা সেন্টারে বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের কারণে ‘হাইপারস্কেলার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের একটি সমীক্ষা অনুমান করেছে যে, গত বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এই এআই-সম্পর্কিত অবকাঠামো বিনিয়োগের হাত ধরে এসেছিল। তবে, নতুন ডেটা সেন্টারগুলোর পরিবেশগত এবং স্থানীয় সামাজিক প্রভাবের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া গণ-অসন্তোষ এবারের ইউএস মধ্যবর্তী নির্বাচনে এআই ব্যয়কে একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছিল। নির্বাচনে একচেটিয়া জয় এখন এই আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে যে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নতুন এআই অবকাঠামোর ব্যয় আটকে দিতে বা মন্থর করতে পারেন; যা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়া—উভয় অঞ্চলেরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি প্রধান চালিকাশক্তিকে হুমকির মুখে ফেলবে।

সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা এশীয় বাজারের জন্য বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা তীব্র ওঠানামারই অংশ। কারণ বিনিয়োগকারীরা এই এআই জোয়ারের স্থায়িত্ব এবং এই ধরনের বিশাল বিনিয়োগের চূড়ান্ত লাভজনকতা নিয়ে প্রতিনিয়ত হিসাব-নিকাশ করছেন। ফাইবোনাচ্চি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জুং ইন ইউন শুক্রবার বলেন, বিনিয়োগকারীরা এআই বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক নীতিমালার চারপাশের প্রত্যাশাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করার কারণেই সম্ভবত শুক্রবারের এই বড় ধসটি নেমেছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, কম্পিউটিং পাওয়ারের চাহিদা বাড়তেই থাকবে এবং এর সাথে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের তৈরি মেমরি চিপগুলোর চাহিদাও বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি-নির্ভর বাজারটি মানুষের সেন্টিমেন্ট বা মনোভাবের পরিবর্তনের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, তাই বাজারে আস্থা ফিরে আসার আগে আমরা আরো কিছু ওঠানামা দেখতে পারি।’

দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান—উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তারাই শুক্রবার তাদের নিজ নিজ শেয়ার বাজারের এই সাম্প্রতিক অস্থিরতার কথা স্বীকার করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, ‘আমি অবগত আছি যে শেয়ারের দাম, বিশেষ করে এআই এবং চিপ খাতের দাম ব্যাপকভাবে কমছে।’ তিনি আরো যোগ করেন যে, সরকার বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার পদক্ষেপগুলোর ওপর মনোনিবেশ করব।’

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতিমন্ত্রী লি হিউং-ইলও শুক্রবার মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেতৃবৃন্দ মূল্যায়ন করেছেন যে বৈশ্বিক বাজারে এর একটি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোরিয়ান শেয়ার বাজারে যেন কোনো অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়, সে জন্য তারা আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এআই খাতের নতুন ডাটা বা অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে খুচরা এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরা প্রতিক্রিয়া দেখানোর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শেয়ারগুলো এই বছর মনোভাবের আকস্মিক পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। হংকংয়ের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ইই ক্যাপিটাল-এর অংশীদার থিওডোর শো বলেন, ‘আমরা যদি বাজারে কেবল এআই-সম্পর্কিত শেয়ারগুলোর ওপর ফোকাস করি, তবে আমি যুক্তি দেব যে এই বছরের শুরুর দিকে এটি নিয়ে অতিরিক্ত হাইপ তৈরি হয়েছিল। আমি মনে করি বাজার এখন নিজেই নিজেকে কিছুটা সামলে নিচ্ছে।’ এআই নিয়ে উদ্দীপনা বাড়ার সাথে সাথে থিওডোর শো বলেন যে, ‘এশীয় প্রযুক্তি শেয়ারগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় তাদের মার্কিন সমকক্ষ শেয়ারগুলোর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বাজারে যে ধস নেমেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিল প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচকের ৫.৫ শতাংশের পতন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পর এটি ছিল নাসডাকের সবচেয়ে খারাপ দিন।

ব্যবসায়ীরা যখন আগামী বছরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তখন বিশ্লেষকেরা বলছেন বৈশ্বিক বাজারগুলো সম্ভবত প্রযুক্তি এবং আর্থিক নীতিমালার পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল থাকবে। এশীয় ইক্যুইটি নিয়ে কাজ করা অ্যান্ড্রু সুলিভান লিখেছেন, ‘বাজার যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে তা হলো অনিশ্চয়তা। এবং বাজার আসলে যা বলছে তা হলো— আগামী জানুয়ারিতে কী ঘটতে যাচ্ছে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। সুতরাং, আসুন আমরা একটু পিছিয়ে যাই। আমরা কিছু টাকা নগদে রূপান্তর করে রাখি। যা পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ব্যবহার করা যাবে।’

সূত্র : সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%