বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০১ পি.এম
ফ্রান্সের জাতীয় ব্লাড সার্ভিসসহ একাধিক দেশের সুপারমার্কেটের কোল্ড স্টোরেজ বা হিমায়ন ব্যবস্থা ইউরোপজুড়ে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। হ্যাকাররা দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে রক্তের সংরক্ষণাগার এবং সুপারমার্কেটের ফ্রিজগুলোর তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে বাড়ানোর চেষ্টা করে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ফরাসি ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট (ইএফএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (নভেম্বর ২) দেশটির তিনটি আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের রেফ্রিজারেশন বা কুলিং সিস্টেমে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। হ্যাকাররা রক্ত সংরক্ষণের কোল্ড চেম্বারগুলোর তাপমাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা করলেও, অন-ডিউটি টেকনিশিয়ানদের সতর্কতায় এবং অ্যালার্ট বেজে ওঠায় দ্রুত রক্ত নিরাপদ রেফ্রিজারেটরে স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে কোনো রক্ত বা ব্লাড প্রোডাক্ট নষ্ট হয়নি এবং এর স্বাস্থ্যগত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
ফ্রান্সের পাশাপাশি একই সময়ে সুইডেন, বেলজিয়ামসহ অন্তত আটটি ইউরোপীয় দেশের সুপারমার্কেটগুলোতেও এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। হ্যাকারদের কার্যকলাপে ফ্রিজ ও কুলিং ইউনিটগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য ও হিমায়িত খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হতে হয়। গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্স ও এর আশেপাশের দেশগুলোতে একই কায়দায় সুপারমার্কেটের ফ্রিজ হ্যাক করার ঘটনা ঘটেছিল। তখন ডাচ সুপারমার্কেট চেইন ‘হোল্ড ডেলহােইজ’-এর বিশাল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত অবকাঠামোর (connected infrastructure) এই দুর্বলতা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ফ্রান্সের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই হামলার উৎস এবং নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চালাচ্ছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ রিমোট অ্যাক্সেস সিস্টেমগুলো সাময়িকভাবে অফলাইন বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। সূত্র: ফক্স বিজনেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই বিক্ষোভ আগামী ৭ নভেম্বর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কোচি শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিজেপি দলটি এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে তারা আবারও আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোচিতে ‘কোচিতে জন্তর মন্তর’ শিরোনামে এই বিক্ষোভ সমাবেশ রাজেন্দ্র ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। সিজেপি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টায় কর্মসূচি শুরু হবে।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন! এসআইআর বাতিল করুন! আমাদের সঙ্গে যোগ দিন—৭ নভেম্বর, বিকেল ৪টা, রাজেন্দ্র ময়দান, কোচি।’
বিক্ষোভে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অংশ নিতে দেখা যাবে। এছাড়া, দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান বিজয় মাল্লাঙ্গি এবং জাতীয় সম্পাদক আফরিন নওয়াজও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।
দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিরুদ্ধে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার সময় দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। কোচির এই কর্মসূচিকে সিজেপির প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মাসে জন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করার চেষ্টা করার জন্য অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির কিছু নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। তাদের মধ্যে ছিলেন আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস।
পরে সরকার জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয়। তবে এর প্রতিবাদে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা নিষিদ্ধঘোষিত ওই এলাকায় প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেন। এ ঘটনার জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়। এক সপ্তাহ কারাগারে থাকার পর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) কাছে তারা মুচলেকা দেন যে ভবিষ্যতে জন্তর মন্তর বিক্ষোভস্থল হিসেবে নিষিদ্ধ থাকা পর্যন্ত সেখানে আর কোনো কর্মসূচি আয়োজন করবেন না।
এর আগে, গত মাসে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপকে। এই ঘটনায় তাকেও গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। পরে শর্তসাপেক্ষে জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনের অন্যতম শর্ত ছিল, পরবর্তী এক বছর তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা যাবে না।
গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে সমর্থন জানিয়েছিল সিজেপি। তবে রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে দলটি অংশ নেয়নি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : আশুলিয়ার একটি জুতার কারখানায় শ্রম আন্দোলনের নামে মো. সেলিম নামক এক শ্রমিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ হামলার ঘটনা ঘটে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে, যখন ট্রেন্ট শুজ লিমিটেডের (ফরচুন জিপার) জুনিয়র অপারেটর সেলিমের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত সেলিমকে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ১০টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বিশেষ নির্দেশে শ্রমসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেলিমকে দেখতে যান। তিনি মন্ত্রীর পক্ষ থেকে আহত শ্রমিকের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এ সময় মন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি সেলিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যাতে আহত শ্রমিকের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয় এবং সার্বিক বিষয়ে নিবিড়ভাবে খোঁজখবর রাখা হয়।
শ্রম সচিব বলেন, "আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা বা শ্রমিকের ওপর হামলা মেনে নেওয়া হবে না।" তিনি জানান, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকার আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ও তার পরিবারের পাশে সর্বাত্মকভাবে রয়েছে।
এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম এবং আহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আহত সেলিম মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার উত্তর কানাইপুর গ্রামের মো. আব্দুর রহিম ও সেলিনা খাতুনের ছেলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা আসনের এমপি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ব্যবহার করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রজন্মকে অপরাধী নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।" এর জন্য মাদক, জুয়া এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের মহনা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের খানা জরিপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু আরও বলেন, "গ্রামের পর গ্রাম মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে ছেয়ে গেছে।" তাই মসজিদ, মন্দির ও গির্জাকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তুলে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাদক বিক্রি ও সেবন, জুয়া, ইভটিজিং, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূল করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, আলেম, সমাজসচেতন মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটি প্রথমে অপরাধীদের চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগ প্রদান করবে। সংশোধন না হলে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
এমপি আরও বলেন, "সরকারি বরাদ্দে এলাকার স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা সম্ভব।" তবে প্রজন্মকে অপরাধী নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক অপরাধ দমনে যে এলাকার কমিটি পিছিয়ে থাকবে, সে এলাকায় সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দও কম দেওয়া হবে।
দুই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুমান হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার উদ্দিন আহাম্মেদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আমির হোসেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান ভাসানসহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিক রবিউলকে আক্রমণের অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিকের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। তিনি মনে করেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে হেয় করা বা তার চরিত্র হনন করা উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে এ কথা বলেন মানসুরা আলম।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "সাংবাদিক ভদ্রলোককে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। দীর্ঘদিনের পরিচয়ে তাকে দেখেছি অত্যন্ত ভদ্র ও সেনসিটিভ একজন মানুষ হিসেবে। সুযোগ পেয়ে কারো গায়ে হাত দিয়ে দিলাম, এইরকম মানসিকতা উনি কখনো পোষণ করেন বলে মনে হয়নি।" ভিডিও বাইট নিতে গিয়ে উনি কতটা সতর্ক থাকতেন, সেটাও দেখেছি। একজন মেয়ে হয়ে এতটুকু অন্তত বুঝি যে কে কীভাবে দেখছে, ভাবছে।
তিনি আরও বলেন, "ইচ্ছা করলেই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু শক্তিশালী নায়িকার কথা ভেবে যেন কারো ওপর মিডিয়া ট্রায়াল করে জুলুম না হয়, চরিত্র হনন না হয়, সেই জন্যই এই পোস্ট। ধন্যবাদ।"
পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিক রবিউলের একটি হাত নেই, জন্ম থেকেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ