বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৪১ পি.এম
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ), তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা এবং তানজীন ওহাব বৃষ্টিসহ ৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ অগাস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও বিচারণ) এবং অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ) তার নিজ নামে এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এজন্য সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ যাত্রা বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু রাতের আঁধারে নিলাম ছাড়াই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রাকে করে এসব বালু সরানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে পরে বালু সরানোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় পূর্বে থাকা দুটি বালুর পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে ১১টি পয়েন্ট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পয়েন্ট ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ কেটে এবং বাঁধের পিচিংয়ের ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে বাঁধের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৩টি পয়েন্ট থেকে প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করে সিলগালা করা হয়।
পরে ৩০ মে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। সেই সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের কয়েকটি রাস্তা ভেঙে দেন।
জব্দ করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক ও মুকুল মণ্ডলকে জিম্মাদার করা হয়। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, ইউপি সদস্য আসলাম হক নিজেই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁকে জিম্মাদার করার সময় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
স্থানীয়দের ধারণা, আসলাম হকের পরামর্শেই ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বালু নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।’
অপর জিম্মাদার মুকুল মণ্ডল জানান, ‘বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন।’
এ বিষয়ে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জব্দ করা বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলে রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস ্ কর্পোরেশন (বিটিএমসি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গত দুই-তিন দশক ধরে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষত তুলনামূলক কম ব্যয়ে উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একটি দেশের সামরিক সক্ষমতাকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
তিনি বলেন, ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখন যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুদ রাখার প্রচলিত ধারণার ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনমুখী করতে হবে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ড্রোন ও অন্যান্য আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তারা তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম উৎপাদন করছে। বাংলাদেশের জন্যও এক্ষেত্রে বড় সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি সম্ভাবনাও রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মাধ্যমে শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগেই দেশের বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলোকে পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেগুলোকে নতুনভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের মানুষের গর্ব ও আস্থার প্রতীক নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই বাহিনীর সুনাম রয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, বিওএফ সম্প্রসারণ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের পক্ষে বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারী এস্টেট অফিসার মিসেস সাজিয়ে তাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত মঞ্চে অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর স্মারক বক্তৃতা দেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। সমাজের বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়। সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও আমরা নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকেই পাই। তিনি বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন।
কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় কোরানখানি অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্দ্বীপের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সন্দ্বীপ উপজেলা শাখা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্দ্বীপবাসীর চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি নাগরিক সেবার একটি বড় অংশ নৌ-যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ এবং শান্তিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্বীপবাসীর মৌলিক নাগরিক অধিকার।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাত, গুলিবর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্মারকলিপিতে গুপ্তছড়া ঘাটে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসার জন্য দ্বীপ থেকে বের হতে না পেরে ঘাটে মৃত্যুবরণ করলে বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এতে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা, জরুরি রোগী পরিবহন এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহির প্রশ্ন উঠেছে।
স্মারকলিপিতে ১৫ দফা দাবি
১. গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌরুটে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
২. সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাটে পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রাখা।
৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যুর কারণ ও নৌযান চলাচল বন্ধের নেপথ্য কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা।
৪. জরুরি রোগী পরিবহনে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ ব্যবস্থা বা রিজার্ভ স্পিডবোট চালু করা।
৫. সরকারি অনুমোদিত ভাড়া, যাত্রী অধিকার ও অভিযোগ জানানোর নম্বরসহ দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. গুপ্তছড়া ও কুমিরা ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি নিশ্চিত করা।
৭. রাতের চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে ইউনিয়নভিত্তিক নাইট পেট্রোলিং, মোবাইল টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা।
৮. অবৈধ অস্ত্রধারী, অস্ত্র সরবরাহকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
৯. ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, বহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা।
১০. কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে বিশেষ অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এনামনাহার থেকে পশ্চিমে সাগরপাড় ও উত্তরে চৌমুহনী বাজার পর্যন্ত এলাকায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো।
১১. আজিমপুর, কালাপানিয়া, হরিশপুরসহ সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
১২. ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন শ্রমিক, পথচারী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তায় বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
১৩. কার্যকর হটলাইন ও অভিযোগ বাক্স চালু করা, যাতে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরাও নিরাপদে অপরাধের তথ্য জানাতে পারেন।
১৪. প্রশাসন, পুলিশ, নৌযান কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভা আয়োজন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তদারক করা।
১৫. গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাছিয়াপাড়-বাঁশবাড়িয়া ও ছোঁয়াখালী ঘাট আধুনিকায়ন করে বিকল্প নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে নয়, বরং প্রশাসনকে সহযোগিতা করেই নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত সন্দ্বীপ গড়ে তুলতে তারা আগ্রহী। তবে জনগণের জানমাল ও মৌলিক অধিকার প্রশ্নে নীরব থাকা সম্ভব নয়।
স্মারকলিপির শেষাংশে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে— “নিরাপদ সন্দ্বীপ—নিরাপদ নৌপথ—নিরাপদ নাগরিক জীবন” হোক সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ