সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
২০২৫-২৬ ইনসেনটিভ স্কিমের চার মাসে ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড ওয়াকারু ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জোড়া জুতা বিক্রি করেছে। এই সাফল্যের জন্য শীর্ষ ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানটি সম্মাননা প্রদান করেছে।
এই উপলক্ষে ঢাকার লে-মেরিডিয়ানে ওয়াকারু ইনসেনটিভ স্কিমের সমাপনী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজন করা এই ইনসেনটিভ স্কিমের এবারের সময়কাল ছিল ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত। এতে ওয়াকারুর ১০ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা এবং শীর্ষ পাইকার ও ডিলার অংশগ্রহণ করেন।
সমাপনী সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩২০ জনের বেশি ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। বিতরণ চেইনের বিভিন্ন স্তরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছয়টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নগদ পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো—বেস্ট ডিলার, হোলসেলার, রিটেইল মেগা ডিসপ্লে, পিইউ, ইভিএ এবং বেস্ট ইমার্জিং ডিলার।
পুরস্কার বিতরণ করেন ওয়াকারু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভি নৌশাদ, গ্রুপের পরিচালক ভি আব্দুল রশিদ এবং ওয়াকারু বাংলাদেশের পরিচালক ড. শামীম ইমাম ও রামেশ উম্মের। অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা আফরান নিশোও উপস্থিত ছিলেন।
ভি নৌশাদ বলেন, "চার মাসে ৩১ লাখের বেশি জোড়া জুতা বিক্রির কৃতিত্ব তাঁদের, যাঁদের দোকানে ওয়াকারুর পণ্য জায়গা করে নিয়েছে।" তিনি এও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এখন তাদের গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া ওয়াকারু ২০১৮ সালে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেই পুরুষ, নারী, শিশু, স্পোর্টস, পিইউ ও ইভিএ ক্যাটাগরির জুতা তৈরি করছে। তাদের সংগ্রহে দেড় শতাধিক ডিজাইন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ওয়াকারুর বিভিন্ন ফুটওয়্যার সংগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ডিলারদের সামনে প্রথমবারের মতো ‘ফ্লিপফ্লপজ’ নামে ফ্লিপ-ফ্লপ ক্যাটাগরির নতুন পণ্য উন্মোচন করা হয়। এটি শিগগিরই বাজারে আসবে বলে জানানো হয়।
রামেশ উম্মের বলেন, "শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য সাধ্যের মধ্যে ভালো মানের পণ্য বাজারজাত করা।" তিনি দাবি করেন যে, এ কারণেই প্রতিবছর তাদের নেটওয়ার্ক বড় হচ্ছে।
ঢাকায় ওয়াকারুর দুটি উৎপাদন কারখানা ও দুটি গুদাম রয়েছে। এসব কারখানায় দৈনিক ৪০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। নিজস্ব ডিজাইন স্টুডিও থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি নতুন ডিজাইন বাজারে আনা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি এক হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন। পরোক্ষভাবে আরও প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানানো হয়।
ম্যাজিক ও মিউজিক্যাল শো এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এম পি বলেন, বর্তমান সরকার মানবিক, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে কাজ করতে ইচ্ছুক।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই ও গতিশীল রাখতে সরকার ব্যবসা, শিল্পখাত এবং একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নভো থিয়েটারের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়কে আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় বৃদ্ধি করে উন্নয়ন প্রকল্পে ওভারল্যাপিং এবং ডুপ্লিকেশন বন্ধ করতে হবে। এর ফলে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্পখাত, একাডেমিয়া এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ দেশের উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সংযোগ ঘটাতে পারলে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান (জিও) এবং বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান (এনজিও)-এর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে চায়। একই প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জিও-এনজিও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ধরনের ইনোভেশন ফেয়ার তরুণ উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং শিল্পখাতের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিখোর সিইও শাহির চৌধুরী, বিআইআইএন’র চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবির, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার ডিএমডি আখতার উদ্দিন মাহমুদ, ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিচালক দুরদানা চৌধুরী এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসাইন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে ধীর গতির ওভার-রেটের কারণে পাকিস্তানকে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) তাদের ১১ পয়েন্ট কাটা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এই সফরটি ছিল বিশৃঙ্খলায় ভরা, যেখানে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। সফরের মাঝপথে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে বরখাস্ত করা এবং সাত খেলোয়াড়কে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাগুলো সফরটিকে ব্যাপকভাবে বিতর্কিত করে তোলে।
আইসিসি জানায়, এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান করার সময় পাকিস্তান গ্রহণযোগ্য ওভার-রেট বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইসিসি বলেছে, “সময়ের জন্য প্রাপ্য ছাড় হিসাব করার পর দেখা গেছে, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে পাকিস্তান ১১ ওভার পিছিয়ে ছিল।”
নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি দল যত ওভার কম বোলিং করে, প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়। তবে সর্বোচ্চ জরিমানা ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
পয়েন্ট কাটার পর নয়টি ডব্লিউটিসি টেস্টে পাকিস্তানের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে পাঁচ। তারা টেবিলের একেবারে তলানিতে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সু-খবর, সু-খবর, সু-খবর...’। প্রতিদিন ফকিরহাট উপজেলার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে মাইকের উচ্চ শব্দে। কখনো বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সুখবর, কখনো ভর্তি কোচিং, দোকান, হোটেল ও শোরুম উদ্বোধনের প্রচার। এ ছাড়া বিভিন্ন পণ্যের অফার, কম দামে ডিম-মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচারে চলছে মাইকিং। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কোথাও আবার রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারের নামে শব্দদূষণের কারণে বিপাকে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। ‘সু-খবরের’ নামে শব্দদূষণের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভোর হলেই বিভিন্ন স্থানে মাইকিং শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারদের প্রচার, কোচিং সেন্টারের ভর্তি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে পণ্যের বিজ্ঞাপনে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষও দুর্ভোগে পড়ছেন।
জানা গেছে, এই উপজেলায় প্রায় ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আসেন। রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি জানান, মাইকিংয়ের জন্য তাদের দৈনিক ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান ও ইজিবাইকে একাধিক মাইক লাগিয়ে তারা প্রচার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও শোরুমের প্রচারেও উচ্চ শব্দে মাইকিং চলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানভির হাসান অনিক বলেন, সাধারণত মানুষের শ্রবণের জন্য শব্দের ৪৫ ডেসিবেল হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। তবে এটি ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে তা ক্ষতিকর এবং ১৩০ ডেসিবেল হলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ভয় থাকে।
ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যে হারে মাইকিং করা হয়, তাতে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৭০ ডেসিবেলের উপরে থাকে, যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে মাইকিংয়ের শব্দ ৫৫ সেকেন্ড ধরে মোবাইলের সাউন্ড মিটার অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এতে গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ৭৮ দশমিক ১ ডেসিবেল এবং সর্বোচ্চ ১০২ দশমিক ৫ ডেসিবেল।
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপরিসরে মাইক, লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, শব্দদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী আকৃষ্ট করতে কোনো চিকিৎসক বা ক্লিনিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে শব্দদূষণ করতে পারবে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শব্দদূষণে ভুক্তভোগী কোনো নাগরিক অভিযোগ করলে প্রচলিত আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ্মা ও যমুনা নদীর অববাহিকায় পানির স্তরের বৃদ্ধি ঘটার ফলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে প্রতিদিন বসত বাড়ি এবং জমিজমা বিলীন হয়ে যাচ্ছে, ফলে হরিরামপুরের মানচিত্র ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। অনেক স্থানে পূর্বপুরুষের শেষ চিহ্ন কবরগুলোও পদ্মার পেটে চলে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হরিরামপুরের কয়েক হাজার পরিবার।
এ বিষয়ে জানা যায়, এই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে নয়টি ইউনিয়ন পদ্মা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে আশির দশক থেকে আজিমনগর, সুতালড়ি ও লেছড়াগঞ্জ তিনটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। নব্বই দশকের শেষ দিকে তিনটি ইউনিয়ন পুনরায় জেগে উঠলে সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠে এবং কৃষি বিপ্লব শুরু হয়। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয় এই চরমচলের তিনটি ইউনিয়নে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে প্রতিবছর এই চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙ্গনে ফসলি জমি পদ্মার পেটে চলে যাচ্ছে। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া এলাকার কবির মোল্লার ছেলে জীবন মোল্লা জানান, “বাড়িঘর, জমিজমার সাথে এবার আমাদের পূর্বপুরুষের কবরটিও পদ্মা নদীর পেটে চলে গেল। চরাঞ্চলের পদ্মার তীব্র ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমির পাশাপাশি এবার বিলীন হয়েছে আমার পিতামহ (বাবার দাদা) মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবরও।” তিনি আরও বলেন, “দেড় যুগ ধরে যে কবরটি তাঁর বাবা, চাচা ও দাদার কাছে ছিল স্মৃতি ও আবেগের জায়গা, নদীভাঙনে সেটিও এখন আর নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, বিগত ৪-৫ বছর ধরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই হাজারের মতো বসতবাড়ি এবং হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। তারা জানান, হরিহরদিয়া, সেলিমপুর, জয়পুর ও হালুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় ভাঙনে এ বছর শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। গত ৪-৫ বছরে চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি ও আজিমনগর ইউনিয়নে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন, হাতিঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কয়েকটি স্কুল ও বাজারসহ হাজার হাজার বাড়িঘর পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
হরিহরদিয়া এলাকার হরিহরদিয়া কিন্ডারগার্টেনের কর্ণধার রাজিব হোসেন বলেন, “সেলিমপুর গতবছর শেষ করেছে পদ্মা। এবার বর্ষায় জয়পুরে ১৫০টির মতো বাড়ি নদীতে চলে গেছে। মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। যারা আগে জমিজমার মালিক ছিলেন, এখন তাদের অনেকেরই থাকার জায়গা নেই।” তিনি আরও জানান, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাশাপাশি ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নেও ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।
হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি কয়েক বছর আগে নদীতে গেছে। এখন আবার হালুয়াহাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। হরিণাঘাট এলাকায় গত বছরও ভয়াবহ ভাঙন ছিল। এ বছরও শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলে পদ্মা ভাঙন ঠেকাতে কেউ কাজ করে না।”
আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দীন জানান, কয়েক বছরে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ৪ তলা ভবনসহ তেঘাটা আশ্রম প্রকল্প বিলীন হয়ে গেছে।
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মোতালেব হোসেন বলেন, “লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভাঙতেছে। দ্রুত বস্তা ফেলা না হলে চর থাকবেনা। খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মহোদয় বিমান মন্ত্রী থাকাকালে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর- হরিহরদিয়া ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে শুনলাম।”
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “চরের মানুষ অসহায়। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল পদ্মা ভাঙনে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর তেমন কিছুই নেই। ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ি ও নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।”
স্থানীয়রা বলছেন, চরাঞ্চলে কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান ইনকিলাবকে জানান, চরাঞ্চলের ভাঙ্গনের বিষয়টি শুনে আজ (সোমবার) মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও উপজেলা প্রশাসনসহ চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে ভাঙন কবলিত এলাকা ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে যাচ্ছি। পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত আপনাকে জানাতে পারবো।” তিনি আরও জানান, এ ছাড়াও হরিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন রোধে আপদকালীন প্রকল্পে একাধিকবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে আগামী বছরের মধ্যে এই হরিরামপুরে ১২ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে স্থায়ী বেরিবাঁধেরও একটা প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, ৫০ দশক থেকে এ উপজেলায় অনবদ্য পদ্মা ভাঙ্গন দেখা দেয়। এর ফলে দিনে দিনে এ উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান অনেকটাই ছোট হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ