০২:২৯ পি.এম
বর্ষায় নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে নৌকার চাহিদা বেড়ে গেছে। আর এই চাহিদার কারণে মানিকগঞ্জের ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট আবারও জমে উঠেছে, যা প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ হলো, এত পুরোনো ও জনপ্রিয় হাট হলেও এখানে এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে হাটে নৌকার কদর বৃদ্ধি পায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। ছোট ছোট যানবাহনে করে হাটে ডিঙ্গি নৌকা আনা হয়। কাঠমিস্ত্রি ও ব্যবসায়ীরাও সঙ্গে থাকেন। নৌকার আকার ও মান অনুযায়ী দাম ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বর্তমান সময়ে ১০ হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রস্থের একটি নৌকার দাম ৭ হাজার টাকা। ১১ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকাও ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৩ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকার দাম ৮ হাজার টাকা। ১৫ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সমস্যা নিরসনে রাজশাহীতে সড়ক ও জনপথ শ্রমিক ইউনিয়নের আলোচনা সভা
ক্রেতারা জানিয়েছেন, বর্ষায় পানি বাড়ানোর সাথে সাথে নৌকার দামও অনেক বেড়ে যায়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার আলতাফ হোসেন বলেন, “কিছু দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে বাড়ির চারপাশে পানি জমে গেছে। নৌকা ছাড়া বের হওয়ার কোনো উপায় নাই। কিন্তু নৌকার দাম অনেক বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছি।”
দৌলতপুরের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বাড়ির পাশেই একটি নদী রয়েছে। গরু-ছাগলের দেখাশোনা ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের জন্য নৌকা প্রয়োজন। তাই বাধ্য হয়েই ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকা কিনেছি।”
শিবালয়ের জরিনা বেগমও একটি ডিঙ্গি নৌকা কিনেছেন। কিন্তু তার অভিযোগ হলো, প্রতিটি নৌকার দাম আগের তুলনায় ১ থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি।
অন্যদিকে, বিক্রেতাদের দাবি, কাঠ, লোহাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে কারিগরদের মজুরিও বেড়েছে। তাই নৌকার দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: রেশম কারখানার উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন পাওয়ার লুম চালু : ভূমিমন্ত্রী
দিন দিন ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী হাটের পরিধি বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ড্রেনেজ, টিউবওয়েল ও টয়লেটের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে। হাটের ইজারাদার মো. মনির উদ্দিন জানান, “প্রতি বছর ডিঙ্গি নৌকার সংখ্যা বাড়ছে। জায়গার সংকটের কারণে এখন ঈদগাহ ও কলেজ মাঠেও হাট বসাতে হচ্ছে। তবে ড্রেনেজ, টিউবওয়েল ও টয়লেটের অভাব দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
প্রতি বুধবার ঘিওরের এই নৌকার হাটে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার নৌকা কেনাবেচা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন