বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪৩ পি.এম
দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে ও ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট এবং অসংখ্য ঘরবাড়িও। হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চারদিকে থৈ থৈ পানির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং অনেক বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে আটকা পড়ে গেছেন। জীবন বাঁচাতে অনেকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষদের বাঁচাতে দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গত সোমবার গুয়াংশি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও এলাকায় তারা এক অভাবনীয় উদ্ধারকাজ চালান। সেখানে বন্যার তীব্র স্রোতে আটকা পড়ে ছিলেন এক ট্রাক চালক। পানির তোড়ে তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না, তাই উদ্ধারকর্মীরা ড্রোনের সাহায্য নেন। তারা ড্রোনের মাধ্যমে আটকে পড়া ওই চালকের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনেন। একইভাবে আরও অনেক সাধারণ মানুষকেও উদ্ধার করা হয়।
ড্রোনের সাহায্যে এই অভিনব উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও প্রকাশ করে স্থানীয় হেংঝৌ রেডিও এবং টেলিভিশন স্টেশন। মুহূর্তেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। ফায়ার সার্ভিসের এই বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসায় ভাসছেন সবাই। অনেকেই মন্তব্য করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ভবিষ্যতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি দারুণ ‘রোল মডেল’ বা দৃষ্টান্ত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অবস্থিত যাত্রীবাহী বাস এবং ফলবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায়, কার্তিক (৫৮) নামের একজন ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়ে গেছেন। এই দুর্ঘটনার ফলে আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ২টার সময় উপজেলার নদোনা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত কার্তিক লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নন্দী গ্রামের গণক ঠাকুর বাড়ির একজন বাসিন্দা। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রামগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে চলে আসা আল বারাকা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ফলবোঝাই পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষটি ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই ফল ব্যবসায়ী কার্তিক মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও, আহত দুইজনের মধ্যে হৃদয় নামে একজনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্রের। সেখানে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এইচপিসিএল-এর একটি এলপিজি বোতলজাতকরণ কারখানার প্রায় তিন হাজার গ্যাস সিলিন্ডার ভেসে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সিলিন্ডারগুলো প্রবল স্রোতের ফলে পাতালগঙ্গা নদীতে ভেসে যাচ্ছে। এই ঘটনার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার পাতালগঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কারখানার সুরক্ষা প্রাচীর ধসে পড়ে। এর পর বন্যার পানি সরাসরি কারখানায় প্রবাহিত হয় এবং প্রবল স্রোতে প্রায় তিন হাজার গ্যাস সিলিন্ডার নদী ও খারপাড়া খালে চলে যায়।
ঘটনার সময় একটি সেতু থেকে অনেক মানুষ নদীতে ভাসতে থাকা সিলিন্ডারের ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসনের আশঙ্কা, নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে কিছু সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস থাকতে পারে। তাই এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
রায়গড়ের জেলা প্রশাসক কিশান জাভলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি কেউ পাতালগঙ্গা নদী বা আশপাশের এলাকায় ভাসমান কোনও গ্যাস সিলিন্ডার দেখতে পান, তবে সেটি নিজের কাছে না রেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা এইচপিসিএলের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন সাধারণ জনগণের প্রতি এসব সিলিন্ডার বাড়িতে না রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। জেলা প্রশাসক কিশান জাভলে আরও বলেন, “নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলোর ভেতর গ্যাস আছে কি না, কিংবা সেগুলো নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে কি না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কৌতূহলবশত এগুলো তুলে নেওয়া, খোলার চেষ্টা করা বা বাড়িতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।”
তিনি যোগ করেন, জনগণের সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব এসব সিলিন্ডার প্রশাসন বা কোম্পানির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। গত এক সপ্তাহ ধরে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অবিরাম ভারী বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি রায়গড়ে বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে বন্যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভেসে যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডারগুলো নতুন করে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার এবং কোনও সিলিন্ডার উদ্ধার হলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমরা একত্রে কাজ করার স্মৃতিকে লালন করি"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সম্মানিত বিদায়ী কমিশনার জনাব মোঃ আশিক সাঈদ-এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা ও বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ০৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিএমপি পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে আবেগঘন পরিবেশে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) জনাব মোঃ আব্দুল হান্নান।
সহকর্মীদের চোখে বিদায়ী কমিশনার
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সহকর্মীদের বক্তব্যে বিদায়ী অতিথির কর্মময় জীবনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক উঠে আসে। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় বিদায়ী পুলিশ কমিশনারকে একজন ডায়নামিক, দক্ষ, গুণী, ফোর্স-বান্ধব ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন পেশাদার চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে অবিহিত করেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বক্তারা বিদায়ী অতিথির ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
বিদায়ী অতিথির অনুভূতি
সহকর্মীদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সম্মানিত বিদায়ী পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ আশিক সাঈদ বরিশালে তাঁর স্বল্পমেয়াদি কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বিদায়ী কমিশনার মহোদয়ের পরবর্তী কর্মস্থল ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ।
সম্মাননা স্মারক প্রদান, অনুষ্ঠান শেষে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী কমিশনার জনাব মোঃ আশিক সাঈদ মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:
জনাব সুশান্ত সরকার, পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)
জনাব মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন– উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর)
জনাব মোঃ শরফুদ্দীন– উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)
এছাড়াও বিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যগণ উক্ত বিদায় সংবর্ধনা ও বিশেষ কল্যাণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়, গতকাল বুধবার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা গুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন মো. দুদু আলামিন (৩০), মো. দুখু মিয়া (২৩), মো. শামীম (১৯), মো. সোহানুর রহমান সোহান (২৯), মো. শান্ত মিয়া (২০), মো. আকাশ (২০), মো. ইসরাফিল (২১), মো. কুতুব উদ্দীন (২৯), মো. রবিন (২৪), মো. সোহান (১৮), মো. রতন (৩৮), মো. সাইনুল ইসলাম (৩০), মো. রাফি (২১), মো. শেখ রাকিব আহমেদ (১৮), মো. শুভ (২১), শেখ শান্ত রহমান (ইমন) (১৯), মো. ইয়াসিন (৩০), মো. হামজা (১৯), মনির হোসেন রতন (২১), মো. ফারুক (৪১), মো. জসিম (২৫), মো. আরিফ (২৬), মো. মিঠুন (৩৭), মো. রনি (৫০), মন্টা পাটোয়ারী (২৭), মো. মনির (৪০), মো. শাকিল আহম্মদ পরি (৫৩), মো. নুরুল আমিন (২২), মো. আকাশ ওরফে পান্না, মো. সাহেব, মো. সাহেব বিশ্বাস (২৭), মো. রুবেল, মো. রকি (২০), মো. তামিম (২৩), মো. রাজীব (২১), মো. কিরন মিয়া (১৯), মো. জালাল উদ্দিন (৩৭), মো. আরিফ (২৮), মো. নজরুল ইসলাম (৩০), মো. সিফাত (২১), সাজু (১৮), মো. রনি (২০), মো. তোফাজ্জাল (৫২), মো. রেজাউল (৭২), মো. মিরাজ উদ্দিন (২৮), রোকসানা বেগম (২৮), ইয়াছিন আরাফাত (২৭), মো. হৃদয় খান (২৪), মো. আনিছুর রহমান (৫২), মোসলেহ উদ্দিন (৩২), শাহীনুর রহমান (৩১) ও মো. আবুল কাশেম (২৪)।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ৬ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ১০ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ২৫ জন, আদাবর থানায় ৪ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৫ জন ও হাতিরঝিল থানায় ৪ জন রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের এরপর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ