০১:৪৮ এম
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং জামায়াতে ইসলামী, মানে বিবেচ্য ‘ইসলাম’ নয় এই বক্তব্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে, ধর্মের দোহাই দিয়ে কিছুতেই মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক আগের সময়ে যে হরিলুট, রাজনৈতিক নিয়োগ ও ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, সেসবের সুষ্ঠু তদন্ত করবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে এক সাধারণ আলোচনার ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথাগুলি বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন হয়।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ সীমান্তে আটক ৯ জনের মধ্যে ৩ ভারতীয়
সংসদে, ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করতে এ আলোচনার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এই প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের উপর তীব্র সমালোচনা করেন।
ব্যাংকটির সাবেক নিয়ন্ত্রকদের (জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট) দিকে ইঙ্গিত করে তিনি কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে...।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে, তাকবির দিয়ে দখল করা হয়েছিল, সেই ব্যাংকটি যখন বেদখল হয়ে যাবে, তখন কী যাতনা, তা আমরা বুঝতে পারি।
আরও পড়ুন: ৫ বছরের মধ্যে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে: আব্দুস সালাম
এখন পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক সাজিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করানোর চেষ্টা হচ্ছে। ইসলামের নাম নিয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মাননীয় স্পিকার, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। তাই ইসলাম নাম দিয়ে অযথা স্পর্শ করা ঠিক নয়।
ব্যাংকটির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নারী গ্রাহক নির্ভর প্রকল্প। ভোটের আগে নারীদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে— কোরআনের দলে ভোট না দিলে জান্নাতে যেতে পারবে না, ভোট দিলে জান্নাত মিলবে এবং আরও ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এই আরডিএস প্রকল্পের অধীনে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো হদিস নেই।
ইসলামী ব্যাংকে গণহারে চাকরিচ্যুতি ও রাজনৈতিক নিয়োগের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি দখল করার পর কোনো আইন-কানুন না মেনে অন্যায়ভাবে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিপরীতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই-তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। এসমস্ত অনিয়ম ইসলামের নাম ব্যবহার করেই করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ নীতি অনুসারে তিনি সুবিধা পাবেন। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে।
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্র আহত, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৫৭ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্ষদ বাতিল করার অথবা নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক নয়। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক নয়। আবার বলে ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের উপর হাত দেবেন না দোহাই দেওয়াটা কিন্তু ঠিক নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন