ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীর ভয়কে অগ্রাহ্য করে বলিউডে ‘সিরিয়াল কিসার’ ইমরান হাশমি


স্ত্রীর ভয়কে অগ্রাহ্য করে বলিউডে ‘সিরিয়াল কিসার’ ইমরান হাশমি

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি দীর্ঘ সময় ধরে ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমাটি ধারণ করে চলেছেন। এই ইমেজ নিয়ে পর্দায় বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হলেও, সম্প্রতি জানা গেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। ইমরান হাশমির এই রোমান্টিক ও সাহসী ইমেজটি মূলত কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না। বরং এটি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বলিউডে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল একটি মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বা জনসংযোগ কৌশল।

সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ হাজির হয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত পিআর প্রফেশনাল পারুল গোসাই।

পারুল জানিয়েছেন, ইমরান হাশমি নিজে এই ইমেজটি নিয়ে এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে তিনি এই সত্যটি সবার সামনে তুলে ধরার অনুমতি দিয়েছেন। তখনকার সময়ের স্মৃতিচারণ করে পারুল বলেন, শুরুতে ইমরানের পিআর বা প্রচারণার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না। মহেশ ভাট তাকে বলেন যে ইমরানের জন্য একটি জোরদার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। পারুল লক্ষ্য করেন, সংবাদমাধ্যমে ইমরানের চুম্বনের দৃশ্য-সংবলিত খবরগুলো পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। তখনই তিনি মহেশ ভাটকে পরামর্শ দেন, ইমরানের এমন একটি ইমেজ তৈরি করা হোক যাতে মনে হয় তিনি প্রতিটি সিনেমায় সকল নায়িকাকেই চুম্বন করেন। মহেশ ভাটও এই আইডিয়াটিকে গ্রহণ করেন। তবে এই পরিকল্পনার কথা শুনে ইমরান প্রথমে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন এবং তার স্ত্রী পারভীন রেগে যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। পরে পারুল নিজেই ইমরানের স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলেন যে এটি বাস্তবের কিছু নয়, এটি কেবল একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন। মূলত মহেশ ভাটের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ইমরান এতে রাজি হন এবং এই কৌশলটি ভারতের মফস্বল অঞ্চলের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%

২০০৩ সালে ‘ফুটপাত’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিষেক হলেও ২০০৪ সালে ‘মার্ডার’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকাখ্যাতি লাভ করেন ইমরান হাশমি। এই ছবিতে মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন এবং চুম্বন দৃশ্যও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। যা পরবর্তীতে তাকে ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

ইমরান নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে তারা জানেশুনে এই ইমেজটিকে ব্যবসার প্রয়োজনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু এক দশক পর নতুন প্রজন্মের দর্শকদের রুচির কথা মাথায় রেখে এবং একই চরিত্রে একঘেয়েমি এড়াতে তিনি ‘জান্নাত’, ‘আওয়ারাপন’ ও ‘সাংহাই’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। ইমরান হাশমি হেসে জানান, ভারতের মতো রক্ষণশীল সমাজে একবার এমন শক্তিশালী ইমেজ তৈরি হয়ে গেলে মানুষ তা সহজে ভুলতে পারে না। তাই আজও যেকোনো সংবাদ সম্মেলনে তাকে পুরোনো ইমেজ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গল অভিযান প্রতিযোগিতায় বিশ্বপর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


মঙ্গল অভিযান প্রতিযোগিতায় বিশ্বপর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন বাংলাদেশের

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬-এ বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-এর দল ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’ বিশ্বব্যাপী টানা দ্বিতীয়বারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দলটি ৯৬.৬৩ স্কোর পেয়ে তৃতীয় স্থানের গৌরব অর্জন করে। প্রথম স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি এসঅ্যান্ডটি মার্স রোভার ডিজাইন টিম রয়েছে এবং দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস নোভা রোভার অবস্থিত।

এবারের আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মাত্র ৩৮টি শীর্ষ দল যুক্তরাষ্ট্রের মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়। সেখানে হাড্ডাহাডি লড়াইয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে পৌঁছে।

বিজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দলের প্রতিনিধিরা বলেন, “বিশ্বমঞ্চে আমাদের দলের পতাকা উত্তোলন এবং তা ওড়ানোর যে অনুভূতি, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা সেখানে গিয়েছি, লড়াই করেছি এবং দেশের জন্য ইতিহাস ছিনিয়ে এনেছি।”

বিশ্বমঞ্চে এই বিজয়ের প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, “এই মাইলফলক ছাত্র, মেন্টর, অ্যালামনাই এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, সঠিক নির্দেশনা ও বিনিদ্র রজনীর ফল। এ বিজয় প্রমাণ করে, কেবল উন্নত রোবোটিক্সের ভবিষ্যতে অংশ নিচ্ছে না বরং এতে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাও রাখে বাংলাদেশ।”

অসাধারণ নেভিগেশন, পারসেপশন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা প্রদর্শন করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-এর দল ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’ প্রতিযোগিতার মর্যাদাপূর্ণ ‘সেরা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম’ (বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম) এর বিশেষ স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য অর্জন করেছে। এ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়টি এশিয়ার সেরা দল হওয়ার মুকুট ধরে রেখেছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আরও দুটি দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দল ‘ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী’ বিশ্বব্যাপী সপ্তম স্থান এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর দল ‘এমআইএসটি মঙ্গল বারতা’ ১১তম স্থান অর্জন করেছে এই বিশ্বমন্ডলীন মঙ্গল অভিযান প্রতিযোগিতায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ডনাল্ড ট্রাম্পকে’ চিড়িয়াখানায় পাঠানোর কারণ জানালেন মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


‘ডনাল্ড ট্রাম্পকে’ চিড়িয়াখানায় পাঠানোর কারণ জানালেন মাহদী আমিন

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডনাল্ড ট্রাম্পকে’ চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য উল্লিখিত করেন।

মহিষটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, 'এটা নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, যা আমাদের কাম্য নয়। তাই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।'

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, 'প্রধানমন্ত্রীর গতি এত বেশি বলেই তিনি এত জনপ্রিয়। তার সঙ্গে আমাদের হয়ত তাল মেলানো হচ্ছে না।'

এদিকে, সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটির পরিচিতিতে ভুল নাম ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হয়। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং পরে সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায়। শুধুমাত্র বানান ভুল নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী বোর্ডে রক্ষিত থাকার ব্যাপারেও আপত্তি ওঠে। এই দুটি কারণ মিলিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর ফলক পরিবর্তন করে মহিষটির নাম ‘সাদা মহিষ’ হিসেবে প্রদর্শন শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেমস মিলনারের ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


জেমস মিলনারের ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি

প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী জেমস মিলনার অবসরের ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ ২৪ বছরের প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানলেন। ২০০২ সালে ১৬ বছর বয়সে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে তার প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়। এরপর তিনি লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, অ্যাস্টন ভিলা এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারেথ ব্যারির প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি ভেঙে দেন। এটি ছিল ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরের লিগে তার ৬৫৪তম ম্যাচ।

রেকর্ডটি ভাঙার পর, তিনি ব্রাইটনের হয়ে আরও চারটি ম্যাচ খেলেন। ফলে, তার মোট ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫৮। ক্যারিয়ারজুড়ে ক্লাব ও দেশের হয়ে তিনি মোট ৯৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন এই ফুটবলার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে, মিলনার বলেন, "প্রিমিয়ার লীগে ২৪টি মৌসুম কাটানোর পর, আমার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার এটাই সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে।" তিনি যোগ করেন, "টিকে থাকার লড়াই থেকে শুরু করে ট্রফি জেতা, ইউরোপে খেলা এবং দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও দুটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মুহূর্তের অভিজ্ঞতা লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।"

তিনি আরও বলেন, "খেলার মাধ্যমে আমি যে মানুষগুলো এবং বন্ধুত্বগুলো গড়ে তুলেছি, সেগুলো আমি চিরকাল লালন করব। ফুটবল আমাকে আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি কিছু দিয়েছে, তার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।"

মিলনার লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং লিগ কাপ জিতেছেন। এছাড়াও, সিটি ক্লাবের হয়ে তিনি দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং এফএ কাপ ও লিগ কাপ জিতেছেন। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার আগে, তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ৬১টি ম্যাচ খেলেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার জোরালো সম্ভাবনা বাংলাদেশে: বিআইডিএস মহাপরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার জোরালো সম্ভাবনা বাংলাদেশে: বিআইডিএস মহাপরিচালক

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, টেকসই বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির ধারা যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে সক্ষম হবে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী বছরগুলোতে কমপক্ষে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্যমতে, ‘বাংলাদেশ যদি ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৬ শতাংশ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০৩০-এর দশকের শুরুতেই অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।’

এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন।

দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজের দেওয়া পূর্বাভাসের ব্যাখ্যায় ড. এনামুল বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ বাংলাদেশের নামমাত্র প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ১২ শতাংশ থাকতে পারে। যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।

তিনি বলেন, ‘সরকার একা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। এতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও প্রকৃত বিনিয়োগ অপরিহার্য।’

ড. এনামুল আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। দেশের প্রতিটি জেলার উন্নয়নের সমান অধিকার রয়েছে।’

তার মতে, রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে এবং সারাদেশে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন ও রাজধানীর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে ড. এনামুল বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি সতর্ক করেন যে, মানুষ যদি ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে তারা আর্থিক ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখবে না।

তিনি আরও জানান, জোরপূর্বক একীভূতকরণের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী হয়ে যাবে না।

ড. এনামুলের ভাষায়, ‘দুটি দুর্বল ব্যাংক মিলিয়ে একটি সুস্থ ব্যাংক তৈরি করা সম্ভব নয়।’

তিনি এ পরিবর্তনের জন্য কঠোর জবাবদিহিতা ব্যবস্থা চালু করতে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নতি করতে ব্যর্থ হলে দুর্বল ব্যবস্থাপনার ব্যাংকগুলোকে তাদের পরিণতি ভোগ করতে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

আর্থিক খাতের সুশাসনের বিষয়ে ড. এনামুল বলেন, আইনের শাসন শক্তিশালী না হলে জনগণের আস্থা ফিরবে না। তিনি জানান, মানুষকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তাদের আমানত নিরাপদ আছে এবং অন্যায়কারীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে ড. এনামুল বলেন, অর্থবহ পুনরুদ্ধারের জন্য আর্থিক খাত ও সুশাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আইনের শাসন বজায় থাকলে ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হলেই পুঁজিবাজার সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

সর্বশেষ, সরকারি ব্যয়ে দুর্নীতি কমানো এবং সঠিক প্রকল্প বাছাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন বিআইডিএস মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, আমাদের মূল সমস্যা প্রকল্প নয়, সমস্যা হলো প্রকল্প বাস্তবায়নে অপচয় ও দুর্নীতি।

তিনি উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়নে আরও শক্তিশালী পেশাগত বিশ্লেষণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি সামাজিক সুফল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন।

তার মতে, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার মূল সমস্যা নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক প্রকল্প নির্বাচন ও সময়মতো সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

সাক্ষাৎকারের শেষে, ড. এনামুল হক বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রধানত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%