আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫০ পি.এম
সন্দ্বীপে এসএসসি ব্যাচ ২০২৫-এর আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে কিং হেজন স্পোর্টিং ক্লাব। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে বিডি স্টার এফসিকে ৫–৪ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মগধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ০–০ গোলের সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।
এরপর শিরোপা নির্ধারণে টাইব্রেকারে মুখোমুখি হয় দুই দল। টানটান উত্তেজনার এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে কিং হেজন স্পোর্টিং ক্লাব। টাইব্রেকারে ৫–৪ গোলে বিডি স্টার এফসিকে পরাজিত করে নিজেদের ঘরে তুলে নেয় কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।
জমকালো পুরস্কার বিতরণী
ফাইনাল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন হাওলাদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মগধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সামশুল আকতার ও বিমল চন্দ্র দাশ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মগধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯৯৩ ব্যাচের জীয়াউল হক শিবলী, ১৯৯৭ ব্যাচের শহীদ সেরোয়ার সুমন, ১৯৯৯ ব্যাচের আবুল হোসেন মিলাদ, আনন্দময়ী স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন, আশরাফুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে শৃঙ্খলাবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে। নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
ধারাভাষ্যে ছিলেন সহেল রানা ও আমিনুল ইসলাম রিয়াদ
ফাইনাল ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহেল রানা ও আমিনুল ইসলাম রিয়াদ। তাদের প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যে ফাইনালের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
আয়োজনে যারা
টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আয়োজক কমিটিতে ছিলেন আফছার, মিনহাজ, শরিফ, জাহেদ, আকিব, জমির, হৃদয়, সম্রাট, ইয়াসিন, মহসিন, রিয়াদ, পনি, কার্যন ও বিজয়।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এসএসসি ব্যাচ ২০২৫-এর আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ আগামী রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে।
“আজকের অর্জনকে সম্মান, আগামী দিনের সাফল্যের অনুপ্রেরণা”
টানা ১৯ বছর ধরে বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের সাফল্য ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে।
একসময় শিল্পখাতের শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের একটি অনুষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট অতিথি এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
এবারের ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস তাদের সম্মান জানাবে, যাদের নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, উদ্যোক্তা মনোভাব ও পেশাদারিত্ব যুক্তরাজ্যের প্রাণবন্ত হসপিটালিটি শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বিসিএ’র জন্য গর্বের মাইলফলক
১৯তম বছরে পদার্পণ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অ্যাওয়ার্ডস শুধু ব্যক্তিগত অর্জনকে স্বীকৃতি দেয় না; বরং এমন একটি শিল্পের দীর্ঘ যাত্রাকেও তুলে ধরে, যা ব্রিটেনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি ব্যবসাগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, স্থানীয় কমিউনিটিকে সহযোগিতা করেছে, বিভিন্ন শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোকে প্রাণবন্ত রাখতে ভূমিকা রেখেছে এবং যুক্তরাজ্যের কোটি কোটি মানুষের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ খাবার ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরেছে।
২০২৬ সালের বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস এসব অর্জনকে তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকেও আলোকপাত করবে।
এবারের আয়োজনের প্রস্তুতি ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে অ্যাওয়ার্ডস ও নৈশভোজ কমিটি যার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আতিক রহমান বিইএম। তিনি এবারের এই বিশেষ আয়োজনকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে কমিটির প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের সমন্বয় করছেন।
বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খাঁন এমবিই বলেন:
১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস আমাদের অ্যাসোসিয়েশন এবং আমরা যে শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করি, উভয়ের জন্যই একটি গর্বের মুহূর্ত। এই অ্যাওয়ার্ডসের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের নিষ্ঠা, উদ্যোগ ও অবদানকে সম্মান জানাই। আমরা তাদের অর্জন উদযাপন করতে এবং আমাদের শিল্প ও কমিউনিটিকে আবারও একটি স্মরণীয় সন্ধ্যায় একত্রিত করতে উন্মুখ।
বিসিএ সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান বলেন:
বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস আমাদের শিল্পে শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। ১৯তম অ্যাওয়ার্ডসের মাধ্যমে আমরা আমাদের সদস্যদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অবদান উদযাপন এবং আগামী প্রজন্মের হসপিটালিটি পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করার সুযোগ পাব।
বিসিএ চিফ ট্রেজারার এম ফয়জুল হক বলেন:
বিসিএ অ্যাওয়ার্ডসের ধারাবাহিক সাফল্য আমাদের শিল্পের শক্তি, ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রতিফলন। ১৯তম এই আয়োজনে আমরা তাদের সম্মান জানাব, যারা সফল ব্যবসা গড়ে তুলতে এবং নিজেদের কমিউনিটি ও যুক্তরাজ্যের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিসিএ প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন:
বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস আমাদের সদস্য এবং বৃহত্তর ব্রিটিশ বাংলাদেশি হসপিটালিটি শিল্পের অর্জন, নিষ্ঠা ও অবদান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ১৯তম অ্যাওয়ার্ডস উপলক্ষে আমরা সেইসব মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানাতে গর্বিত, যাদের কঠোর পরিশ্রম আমাদের শিল্পকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
শিল্পের পেছনের মানুষদের উদযাপন বিসিএ অ্যাওয়ার্ডসের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন সেইসব মানুষ, যারা হসপিটালিটি শিল্পের পেছনে এবং সম্মুখসারিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠিত রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও সফল উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে শেফ, ম্যানেজার, কর্মী এবং উদীয়মান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ—এই অ্যাওয়ার্ডস শিল্পের বিস্তৃত প্রতিভা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেয়।
এই সন্ধ্যা একই সঙ্গে শিল্পের মানুষদের একত্রিত হওয়া, পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিউনিটির অভিন্ন ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা উদযাপনের একটি সুযোগ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের স্বার্থ ও অধিকার প্রতিনিধিত্ব করে। অ্যাডভোকেসি, প্রতিনিধিত্ব, নেটওয়ার্কিং এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বিসিএ তার সদস্যদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি ব্রিটিশ সমাজ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরতে কাজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী-১ সদর আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন মন্তব্য করেন যে, সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য, ইভটিজিং এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি আরও জানান, যুব ও ছাত্রসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদী নাগরিয়াকান্দি এলাকায় আয়োজিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফাইনাল ফুটবল টুর্ণামেন্টের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, সমাজের যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ এবং তরুণ সমাজ যাতে বিপথগামী না হয়, সেজন্য সমাজজুড়ে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং আমাদের কৃষ্টি-কালচারের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। তরুণদের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে সমাজ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চিরতরে দূর করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্কোটার গফুর একাদশ এবং শালিধা একাদশ ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে। স্কোটার গফুর একাদশ ৪-২ গোলে শালিধা একাদশকে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করে। বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ তুলে দেন প্রধান অতিথি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি একেএম গোলাম কবির কামাল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দিন ভূঁইয়া, রবিউল ইসলাম রবি, সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ এবং অন্যান্য নেতাকর্মী বৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ আবদুর রহমানের নির্দেশনায় বনজ সম্পদ পাচার ও অবৈধ কাঠ পরিবহন রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মেহগনি চিড়াই কাঠসহ একটি ট্রাক আটক করেছে বন বিভাগ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জের লস্করপুর ফরেস্ট চেক স্টেশনে এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জের ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী চেক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর তারা বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক তল্লাশি করে প্রায় ৮০ ঘনফুট মেহগনি চিড়াই কাঠ উদ্ধার করেন। এ সময় কাঠ পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-১৮৪২ নম্বরের ট্রাকটি আটক করা হয়।
বন বিভাগের দাবি, আটককৃত কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। জব্দকৃত প্রায় ৮০ ঘনফুট মেহগনি চিড়াই কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কাঠ বাজারের মেসার্স শাহীন টিম্বার মার্টের মালিক মো. শাহীন মিয়ার কাছ থেকে কাঠগুলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার দিশা বাড়ি এলাকার মো. রাকিবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ট্রাকটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় লস্করপুর ফরেস্ট চেক স্টেশনে অভিযান চালিয়ে কাঠসহ আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, ট্রাকের ওপর ত্রিপল দিয়ে কাঠগুলো ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মহাসড়ক থেকে কাঠসহ ট্রাকটি উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ে এনে জব্দ করা হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সংরক্ষিত বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় ফরেস্ট চেক স্টেশনগুলোতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে বনজ সম্পদ পরিবহনের খবর পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জব্দকৃত কাঠের বিষয়ে বন আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শুরু
গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন (ইউএনজিএ)। এই অধিবেশনটি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু সঙ্কটের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতি নির্ধারণ, সংলাপ ও সমঝোতার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর, অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বহুপাক্ষিক কূটনীতি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। বৈশ্বিক সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের বোঝা আন্তর্জাতিক সংহতিকে দুর্বল করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনের মূল আলোচনা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, অবাধ বাণিজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের ওপর আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বরাবরই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে, ফলে এবারের অধিবেশনে ঢাকার ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর কাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি শুরু হবে। তিনি উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি একাধিক বহুপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর কার্যকর অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন মিত্র দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এসডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন।
সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতীয় নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরা হবে। নীতি-নির্ধারণী সূত্র অনুযায়ী, ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বর্তমান চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তর, প্রযুক্তি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সবুজ শিল্পায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের আহ্বান জানানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান:
বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গার নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবি বিশ্বমঞ্চে আবারও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন যাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার অজুহাতে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ এই মানবিক সংকট থেকে সরে না যায়। একই সাথে আন্তর্জাতিক ত্রাণ তহবিলের ঘাটতি পূরণের জোরালো তাগিদ থাকবে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ :
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তির অঙ্গীকার রক্ষা এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ (ক্ষয়ক্ষতি) তহবিলের দ্রুত বাস্তবায়নের স্পষ্ট দাবি জানাবেন।
রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক কূটনীতি। সফরকালে নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট ও শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে একটি বিশেষ বিজনেস গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ