১২:১৯ পি.এম
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভিন বেগম এবং বোন রাইসা আক্তার।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে প্রথম দিনের এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ দিনে আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের পরের নির্মম চিত্র তুলে ধরেন তারা। রামিসার মা জানান, আসামি স্বপ্নার কাছে বারবার আকুতি করার পরেও সে দরজা খোলেনি। বরং মৌলিক ঘটনা প্রধান আসামি তার স্বামী সোহেল রানাকে পালাতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
এর আগে সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসেন রামিসার বাবা। এ সময় তিনি মেয়ে হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচারের দাবি করেন।
এদিন সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরবর্তীতে তাদের আদালতে তোলা হয়।
এর আগে সোমবার, দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
এক সময় আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতেই দেখা যায়। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ রয়েছে এবং মাথাটি বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে পড়ে আছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে সে জবানবন্দিতে জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন