আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
০৮:০২ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ। মধুপুর থানা অফিসার ইনচার্জ একে এম ফজলুল হক জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের জয়নাতলি (ঈদগাহ মাঠ) গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মুনসুর (৬০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানা অফিসার ইনচার্জ একে এম ফজলুল হক এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই উচ্ছ্বাস পাল তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। মুনসুর এলাকায় ইয়াবা ডিলার নামে পরিচিত। গ্রেফতারের সময় তার নিকট হতে ২০ পিচ মাদকদ্রব্য ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুনসুর জয়নাতলি ঈদগাহ মাঠ এলাকার মৃত বাজিতুল্লা শেখের ছেলে।
থানা অফিসার ইনচার্জ ফজলুল হক আরও জানান এধরণের মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মধুপুরকে মাদকমুক্ত করতে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন কারীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস মিলনায়তনে ২৮তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ গাজীপুরস্থ ক্যাম্পাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে পরিবেশ সুরক্ষার এই সিদ্ধান্তসহ একগুচ্ছ আধুনিক ও কার্যকর পরিকল্পনা নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিমনস্ক, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ তৈরির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সর্ববৃহৎ এই উচ্চশিক্ষা পরিবারের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এই সবুজ বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং তা পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সুরক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর সাথে ‘মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট’-এর মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান সহ আরও ৭টি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ ও ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নের জন্য অধিবেশনে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সর্বসম্মতভাবে ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট অনুমোদিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ. টি. এম. জাফরুল আযম এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়। আমরা ধারণা করছি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমন প্রজন্মের হাত ধরে, যারা চাকরি প্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হবে এবং পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।’
অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়্যারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
আনুষ্ঠানিক অতিথি হিসেবে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী হাবিবের জনপ্রিয় গান ‘মহাজাদু’ প্রকাশিত হওয়ার পর পুনরায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে আরেক বাংলা গানের।
যার মধ্যে গত ২২ জুন কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইস্তানা বুদায়া-তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের উপলক্ষে আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মালয়েশীয় জনপ্রিয় গায়ক আফিক শাজওয়ান বাংলাদেশি শিল্পী ইমরানের জনপ্রিয় গান ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ পরিবেশন করেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে ব্যক্তিগতভাবে উষ্ণ প্রশংসা পেয়েছেন এই জনপ্রিয় মালয়েশীয় গায়ক। এই সাফল্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
২৮ বছর বয়সি এই তরুণ শিল্পী, যার আসল নাম মোহাম্মদ শাফিক শাজওয়ান জামরোজ, জানিয়েছেন, বিদেশি ভাষার মধ্যে তার বাংলা উচ্চারণ এত নিখুঁত হবে এবং এটি স্বয়ং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তা তিনি কখনো আশা করেননি। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আফিককে বিশেষভাবে ডাকেন এবং তার পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আফিক লিখেছেন, "আমি ভাবতেও পারিনি পারফর্ম্যান্সের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাকে ডেকে প্রশংসা করবেন। আমার বাংলা উচ্চারণ একদম সঠিক ও নিখুঁত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, তখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমও সেখানে হাজির ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, এটি আমার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল এবং আমার কঠোর পরিশ্রম আজ সফল হয়েছে।"
কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ইস্তানা বুদায়া’-তে অনুষ্ঠিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য আফিককে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিদেশি ভাষায় এত সুন্দরভাবে গান পরিবেশন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন ও প্রশংসা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই বাজেটে ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং জনগণের কল্যাণে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই সফরগুলোর চুক্তি ও অর্জন সম্পর্কে সরকার সংসদ ও জাতির সামনে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবে।
বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ওষুধ শিল্পে প্রণোদনার মতো উদ্যোগের প্রশংসা করে পার্থ বলেন, এই বাজেটের মূল বার্তা হলো— ‘আমরা জনগণের পাশে আছি’।
তিনি বলেন, ‘আমি এই বাজেটে একটি বার্তা দেখেছি— আমরা জনগণের যত্ন নিই। এটাই একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য।’
রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পার্থ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের দু’টি মূল ভিত্তি ছিল— ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। একটি কল্যাণরাষ্ট্রেও একই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।
তিনি বলেন, এতিম, নারী, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার সরকারের সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ যেন এই উদ্যোগে বরকত দান করেন এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন।
দেশের মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্থ বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে যেমন তিনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তেমনি যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবীদের সামনে আনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
যাকাত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে তিনি যাকাতগ্রহীতাদের একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর কত যাকাত বিতরণ হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। প্রতিটি সংসদীয় আসনে যাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হলে দেশ-বিদেশের মানুষ সহজেই সেখানে যাকাত প্রদান করতে পারবেন।
এ লক্ষ্যে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই যাকাত দিতে চান, কিন্তু কোথায় দেবেন তা জানেন না। সহজ প্রাপ্যতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষায়িত টেলিভিশন চ্যানেল চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে একদিনে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও সরকারকে ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ইসলামী অর্থায়নকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশেও এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
কিছু ইসলামী ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নয়, বরং যারা ব্যাংক লুট করেছে তাদের মধ্যে। ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে এবং আল্লাহর রহমত বয়ে আনার জন্যও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীতের দুর্বলতার কথা উল্লিখিত করে পার্থ বলেন, আগের সরকারগুলোর সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির কারণে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছে। তখন জাতীয় উন্নয়নের পরিবর্তে পরিকল্পিত লুটপাটই ছিল মূল লক্ষ্য।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের সময়ে বড় ধরনের কোনো ব্যাংক লুট বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। তাই সরকারকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত।
ভোলার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পার্থ বলেন, বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকায় ভোলাকে দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।
তিনি বলেন, ভোলায় প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রয়েছে। এই সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে ভোলা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এ সময় তিনি ভোলা বিমানবন্দর, আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পৃথক ভোলা উন্নয়ন কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন।
বক্তব্যের শেষ অংশে পার্থ বাজেটকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে তুলে জাতীয় ইস্যু হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওয়াশিংটনে চারদিন ধরে চলমান আলোচনা শেষে ইসরায়েল নতুন একটি চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য প্রদান করেছে। পাশাপাশি, সেই এলাকা দুটির নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হবে।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কথা অনুযায়ী, এই আলোচনার ফলস্বরূপ ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ব্যবস্থা হয়েছে। এই চুক্তি বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘ভবিষ্যৎ সমঝোতার’ পথকে উন্মুক্ত করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ বলেন, এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম পদক্ষেপ হবে।
অন্য দিকে, ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর উত্তরে এবং অপরটি নদীর দক্ষিণে অবস্থিত দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের মধ্যে লিটানি নদীর দক্ষিণের এলাকা আবারও উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায়, নেতানিয়াহু একটি পূর্ব ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর এই পদক্ষেপ বলতে বোঝায় যে লেবাননে আইডিএফ-এর ‘প্রয়োজন নেই’ এমন স্থানগুলো ত্যাগ করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা লেবানন ও ইসরায়েলের জন্য একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা আয়োজনের কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আজকের দিনটি ‘সূচনারও সূচনা’। তিনি বলেন, সামনে অনেক কাজ বাকি। আমরা কোনোভাবেই সামনের কাজের জটিলতাকে অবহেলা করছি না, কিন্তু আমরা এর গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বুঝি। এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এসব এলাকায় প্রবেশ করবে। আলোচনার অংশ হিসেবে এবং লেবাননের সরকারের প্রতি একটি ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ‘প্রতীকী’ সেনা প্রত্যাহার করছে।
বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা লেবাননে তাদের সেনা সংখ্যা ‘সাময়িকভাবে’ কমাবে। তবে, কোন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে তা তারা নিশ্চিত করেনি। আগের দিন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সত্ত্বেও সেনাবাহিনী লেবানন থেকে সরে আসবে না।
নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকার বিস্তৃত একটি অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যতক্ষণ না হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এটি ইরানের জন্যও বড় আঘাত। কারণ ইরান আমাদেরকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। সুতরাং, এখানে তাদের হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই।
রুবিও আরও বলেছেন, লেবানন ও ইসরায়েলের জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করার যোগ্য, কিন্তু তারা দীর্ঘকাল ধরে সংঘাতের শিকার হয়ে আসছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ফলে লেবাননের জনগণ তাদের সম্পূর্ণ মুক্ত ভূমিতে ফিরে আসতে সক্ষম হবে।
দেশটির পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহর সদস্য হাসান ফাদাল্লাহ এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি সরকারের প্রতি আলোচনা এবং জনগণের বিরুদ্ধে নেওয়া সকল সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানান।
সূত্র: সিএনএন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ