ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে অভিনেত্রী গ্রেপ্তার


ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে অভিনেত্রী গ্রেপ্তার

ভারতীয় অভিনেত্রী বর্ষিণী ভেঙ্কট পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। সিনেমায় অর্থ বিনিয়োগে রাজি না হওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর, ভয়ভীতি এবং তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অভিনেত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বর্ষিণীর ব্যাংক হিসাবেও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর মাইলাপুরের বাসা থেকে ২৮ বছর বয়সি এ অভিনেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

মামলার অভিযোগ— ২২ আগস্ট ভোরে নিজের ঘরে ফেরেন তরুণ। এ সময় সেখানে আগে থেকেই ছিলেন বর্ষিণী, তার বন্ধু সঞ্জয়সহ আরও দুজন। তারা সবাই তরুণকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোর করে ৫০ হাজার রুপি নগদ নিয়ে নেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন: পরীমণির জন্মদিনে জাঁকজমক নয়, প্রশান্তির ছোঁয়া

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ষিণী ও তার কয়েক বন্ধু তরুণ নামে এক ব্যবসায়ীকে তাদের প্রস্তাবিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তরুণ। এরপরই শুরু হয় বিরোধ। 

শুরু হয় ভয়ভীতি দেখানো। তরুণকে বর্ষিণীর ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ রুপি এবং সঞ্জয়ের হিসাবে ২ লাখ রুপি পাঠাতে বাধ্য করা হয়। নগদ ৫০ হাজার রুপিসহ মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি নেওয়ার পরও থামেননি অভিযুক্তরা। বরং আরও ২৭ লাখ রুপি দাবি করে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। পরে তরুণ থানায় মামলা করেন। 

তদন্তে নেমে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করে বর্ষিণীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পায় পুলিশ। এরপরই অভিনেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। 

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনামূল্যে ইএমটি প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছরের ঊর্ধ্বে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৌশানি প্রেমিককে নিয়ে নতুন প্ল্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


কৌশানি প্রেমিককে নিয়ে নতুন প্ল্যান

পূজা মানে আনন্দ এবং অসংখ্য স্মৃতির হাতছানি। দুর্গাপূজা উৎসব আর কিছুদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে। সেই উৎসবের আগমনী বাতাস হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বইতে শুরু করেছে। শৈশব ও কৈশোরের পূজার স্মৃতি মনে রেখে যৌবনে এসে সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন। টালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী কৌশানি মুখার্জিও এর ব্যতিক্রম নন।

এই বছরের দুর্গাপূজায় অভিনেত্রী কৌশানি মুখার্জির জন্য একটি বাড়তি উৎসব যোগ হচ্ছে। পূজার সময় মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘বহুরূপী : দ্য গোল্ডেন ডাকু’। বর্তমানে সিনেমার প্রচার জোরেশোরে চলছে। সপ্তমী পর্যন্ত অভিনেত্রী সিনেমার প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন। এরপর তিনি পরিবারের সঙ্গে পূজার আমেজে মেতে উঠবেন।

অভিনেত্রী হওয়ার আগে কৌশানীর পূজা কেমন ছিল? একটি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, 'তখন দড়ির ওপারে থাকতাম। মানে লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখতাম। আর পূজার বিশেষ স্মৃতি বললেই, প্রেমের কথা মাথায় আসে। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে যখন পূজার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হতো, প্রচুর ছেলে এসে ঝাড়ি মারত। সেখানে হঠাৎ করে আমাকে পছন্দ করে নেওয়া, আর সেখান থেকে প্রতিযোগিতায় জেতা।'

কৌশানি আরও বলেন, ‘পূজার সেরা সুন্দরী’ তকমাটা তখন তার কাছে বিশাল ব্যাপার ছিল। তিনি বলেন, পুরস্কার জিতে বাড়িতে ফিরছি—এটাই তো দারুণ ব্যাপার। তার ভাইবোনেরা আবার সেটি সেলিব্রেট করত। গর্ব করে তারা বলত— ‘আমাদের বোন এত সুন্দরী।'

সেই সময় নিশ্চয়ই পূজার প্যান্ডেলে প্রেমটা হতো? এমন প্রশ্নের উত্তরে কৌশানি বলেন, ‘হ্যাঁ নিশ্চয়ই! পূজার কটা দিনের প্রেম, এ বিষয়টি দারুণ মজা লাগত। আবার সেই প্রেম পূজার কটা দিনই টিকে থাকত। এরপর ভেঙে যেত।’

এবারের পূজায় প্রেমিক অভিনেতা বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে কেমন পরিকল্পনা রয়েছে? উত্তরে কৌশানি মুখার্জি বলেন, ‘আমার পূজার সব প্ল্যানেই থাকে বনি।' তিনি বলেন, একসঙ্গে ঠাকুর দেখা, একসঙ্গে রোম্যান্স করা, হইহই করে পার্টি করা—সবই বনির সঙ্গে।

অভিনেত্রী বলেন, এই কদিন তার দিনযাপনের সাইকেল পুরো চেঞ্জ হয়ে যায়। দেখা যায়— পূজার কয়েকটা দিন বের হচ্ছেন হয়তো দুপুরে, আর বাড়ি ফিরছেন ভোরে! বাকি সকালটা ঘুমাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই বেকারত্বের হার বেশি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


ভারতে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই বেকারত্বের হার বেশি!

ভারতে বেকারত্বের হার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, শিক্ষিতদের মধ্যে এই হার বেশি হওয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। দেশের সরকারি নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের সর্বভারতীয় বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ হলেও, স্নাতকদের মধ্যে এই হার ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

অর্থাৎ, দেশের তরুণ জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ডিগ্রিধারী বেকার। শিক্ষিত তরুণরা তাদের হাতে থাকা ডিগ্রির প্রতি গর্বিত, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতির পেছনে আসল কারণগুলো কী?

দিল্লির রাজপথে তরুণদের বিক্ষোভের দৃশ্য অনেকের চোখে পড়েছে। দেখা গেছে, এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী তরুণদের একটি বড় অংশ সচ্ছল পরিবারের সন্তান। অথচ, ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতিতে শিক্ষিতদের একটি বড় অংশ আজও বেকার।

২০১৮ সালে অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রজিৎ বৈরাগ্য সতর্ক করেছিলেন যে, শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বাড়বে। এর কারণ হলো, শিক্ষিত তরুণরা ছোটখাটো বা অনানুষ্ঠানিক কাজ করতে রাজি নন এবং নিরাপদ চাকরির অভাব রয়েছে। নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতক তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পদে কাজ করছেন।

অন্যদের বাধ্য হয়ে তাদের যোগ্যতার চেয়ে নিচু পদের কাজ করতে হচ্ছে বা প্রথাগত ডিগ্রি নেওয়ার পর বিশেষ কোনো দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও-র ‘ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’ বলছে, কৃষি খাত ছেড়ে আসা তরুণদের জন্য উপযুক্ত ও ভালো আয়ের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি অর্থনীতি।

এটি শুধু সরকারি খরার সমস্যা নয়, বেসরকারি খাতও এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ দশটি অর্থনীতির দেশে গবেষণা ও উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অবদান ৬৮ শতাংশ হলেও, ভারতে তা অর্ধেকেরও কম। মহাকাশ বা প্রতিরক্ষা খাতে সরকারি নজর থাকলেও, তা রাতারাতি কোটি কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার সমাধান সহজ নয়। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে হবে এবং উৎপাদনমুখী শ্রমনিবিড় শিল্পে জোর দিতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয় না ঘটলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমানো সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বাংলাদেশের কাছে ১০ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা সংকটের আড়ালে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


রোহিঙ্গা সংকটের আড়ালে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়ছে

রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর সাথে মানবপাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কক্সবাজারের শিবির এবং সমুদ্রপথ উভয় স্থানে ঝুঁকির চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৫ সালে কক্সবাজারে ৪০৭টি মানবপাচারের ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে।

একই বছরে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হন। ৮৯০ জনের বেশি প্রাণ হারান অথবা নিখোঁজ হন। চলতি বছরে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৯ জন এই সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ২০২৬ সালের ‘এএল বিজিডি ৪/২০২৬’ (বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ যোগাযোগ নথির নম্বর) নথিতে এসব তথ্য ও উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। নথিটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।

জাতিসংঘের মানবপাচারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক সিওভান মুলালি, অভিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গেহাদ মাদি এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান-র‍্যাপোর্টিয়ার ক্লডিয়া ফ্লোরেস বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

নথিতে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এবং বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে যাত্রাকারীদের মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং পাচার প্রতিরোধে সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তারা আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না।

কক্সবাজারে ৪০৭ মানবপাচারের ঘটনা

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের যোগাযোগ নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৪০৭টি মানবপাচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

নথিতে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, শনাক্ত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২৪৮ জন পুরুষ, ৮৮ জন নারী, ৪১ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে। একজনের লিঙ্গপরিচয় অন্যভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছিলেন মোট ভুক্তভোগীর ৬১ শতাংশ, নারী ২২ শতাংশ, ছেলে ১০ শতাংশ এবং মেয়ে ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরা মোট ভুক্তভোগীর ২১ শতাংশ।

নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ও ছেলেদের ক্ষেত্রে কৃষি, পশুপালন, মাছ ধরা, বনকাজ ও নির্মাণশ্রমে পাচারের ঘটনা পাওয়া গেছে। নারীদের ক্ষেত্রে কারখানার কাজ, গৃহস্থালি শ্রম এবং জোরপূর্বক যৌনকাজে পাচারের তথ্য রয়েছে।

চাকরি, শিক্ষা ও বিয়ের প্রলোভন

জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সুযোগের সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে মানবপাচারকারী চক্রগুলো—এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে পৌঁছেছে। শিশু ও তরুণদের চাকরি, শিক্ষা অথবা বিয়ের প্রলোভন দেখানোর তথ্যও নথিতে রয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, শিবিরে শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ, নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ না থাকা অনেক রোহিঙ্গাকে অনিরাপদ পথে যাওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। এতে দালাল ও পাচারকারীদের ওপর নির্ভরতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বিয়ে, জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এবং জোর করে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত করার মতো পাচারের ঝুঁকি রয়েছে।

উদ্ধার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণেও উদ্বেগ

জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত আনার পর কখনো কখনো আটক বা গ্রেফতার করা হয়। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দেরি হলে তাদের ভুক্তভোগী হিসেবে সহায়তা দেওয়ার বদলে অনিয়মিত অভিবাসী বা অপরাধী হিসেবে বিবেচনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সমুদ্রপথে ভয়াবহ মৃত্যুর মিছিল

এক বছরে ৮৯০-এর বেশি প্রাণহানি

পাঁচ মাসেই ৪৩৪৯, যাত্রা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ

শিবিরে ৪০৭ মানবপাচারের ঘটনা

চাকরি-বিয়ে-শিক্ষার প্রলোভনে ফাঁদ

শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্ন

বাংলাদেশের কাছে ১০ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতিসংঘ

অর্থ কমছে, বাড়ছে ঝুঁকি

নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্ত ও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, অভিবাসী, রোহিঙ্গা এবং আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পাচারের লক্ষণ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সব সময় নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হয় না।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছেন, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয় এবং তাদের মানবপাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী হিসেবে কীভাবে যাচাই করা হয়।

আন্দামান সাগরে ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ

জাতিসংঘের ওই যোগাযোগ নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে একটি নৌযান ডুবে প্রায় ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন। নথিতে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে নৌযানটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ৯ এপ্রিল প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। নৌযানটি ডোবার আগে বা ডোবার সময় কোনো বিপদসংকেত পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ১১ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়াগামী একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত কয়েকজনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে আটজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন। পরে তাদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নথিতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন ছিলেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী। পাচারের ঝুঁকি যাচাইয়ের পর তাদের সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য রেফার করা হয়। বাকি ছয় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ও আটকের তথ্যও নথিতে রয়েছে।

এক বছরে প্রাণহানি ৮৯০-এর বেশি

জাতিসংঘের ওই নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হন। তাদের মধ্যে ৮৯০ জনের বেশি মারা যান বা নিখোঁজ হন।

নথিতে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আনুমানিক ৬৬ শতাংশ নারী ও শিশু।

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পৃথক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, ওই বছর ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেন। অর্থাৎ প্রতি সাতজন যাত্রীর মধ্যে প্রায় একজন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।

২০২৬ সালেও বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া এবং তাদের যোগাযোগ নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৯ জন সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৬ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরের গত জুলাইয়ের তথ্যে দেখা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌযান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত ২০২৬ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের আগস্টের বিবৃতিতেও সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ জানানো হয়। প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ অবতরণ এবং মানবপাচারবিরোধী আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের কাছে ১০ বিষয়ে জবাব চেয়েছে জাতিসংঘ

জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে মোট ১০টি বিষয়ে তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে ৯ এপ্রিলের নৌকাডুবির পরিস্থিতি ও তদন্ত, সমুদ্র থেকে উদ্ধার ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া, পাচারের ঝুঁকি শনাক্তকরণ, রোহিঙ্গা শিবিরে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, পাচারের ঘটনায় তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণের সুযোগ।

এ ছাড়া দারিদ্র্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, জীবিকার অভাব, পরিচয়পত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথের সংকটের মতো মানবপাচারের মূল ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, উত্থাপিত তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তবে তাদের কাছে পাওয়া তথ্য মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য কাঠামোগত ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

অর্থসংকটেও বাড়ছে ঝুঁকি

জাতিসংঘ ও অংশীদারদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়টিও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গত ২০ মে প্রকাশিত ২০২৬ সালের যৌথ আবেদনে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি সহায়তায় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

আইওএমের ২০২৬ বাংলাদেশ ক্রাইসিস রেসপন্স প্ল্যানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সংস্থাটি বলেছে, সীমিত জীবিকা, চলাচলের বিধিনিষেধ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত আইনি পথের অভাব মানবপাচার, শোষণ, শিশুশ্রম এবং অনিয়মিতভাবে অন্যত্র যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সব মিলিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্য বলছে, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু আশ্রয়, খাদ্য ও প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। নিরাপদ চলাচল, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সমুদ্রপথে জীবন রক্ষার প্রশ্নও ক্রমেই সামনে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে যুবদলের সাবেক নেতাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


ময়মনসিংহে যুবদলের সাবেক নেতাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া (৪০) মারা গেছেন। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত রাজা মিয়া নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্টপুর এলাকার মমরোজ মিয়ার পুত্র। তিনি মহানগর যুবদল ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় রাজা মিয়াকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম রাজা মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রধান আসামি কবিরসহ (৩০) তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্য দুইজন হলেন বিনু (৩৮) ও নিশাত (২৫)। গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নাস্তা খেয়ে রাজা মিয়া ঘরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় কবিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন হামলা চালায়। হামলার সময় কবির শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় আঘাত করে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

কিন্তু, সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় রাজা মিয়াকে আবারও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে শনিবার বিকেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি রাজা মিয়া কবির ও তার লোকজনকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনার জেরে ২২ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়ার উপর হামলা হয়।

পুলিশের একটি পক্ষ দাবি করছে যে, উভয় পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে, কার নামে কতগুলো মাদক মামলা রয়েছে তা জানাতে পারেনি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, রাজা মিয়া মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় দলের সঙ্গে ছিলেন। তাকে যে বা যারাই হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তবে, রাজা মিয়া মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলেও তিনি জানান।

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%