ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগৈলঝাড়ায় পুলিশের উপর হামলা'র ঘটনায় : ভিডিও ফুটেজ থাকলেও আসামি আ.লীগ নেতা ও ২ সাংবাদিক! ওসির ফোন বন্ধ, বরিশাল জুড়ে তীব্র ক্ষোভ


আগৈলঝাড়ায় পুলিশের উপর হামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলা নিয়ে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

হামলার সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং দুই পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর পুরো বরিশাল বিভাগ জুড়ে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া, অসন্তোষ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নতুন করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা’ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে দলটির একাধিক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। লাইভে এসে তারা দাবি করেন, ঘটনার দিন বা সময়ে তাদের অনেকেই দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে তাদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পরপরই থানায় হামলার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে হামলাকারীদের চেহারা এবং তাদের কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন হচ্ছে—যেখানে প্রযুক্তির যুগে স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করা অত্যন্ত সহজ, সেখানে পুলিশ কেন সেই ফুটেজ উপেক্ষা করল? কেন ভিডিওর হামলাকারীদের বাদ দিয়ে ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হলো, তা নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই মামলার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে, পেশাদার দুই সাংবাদিককে মামলার আসামি করা। তারা হলেন—আগৈলঝাড়ার স্থানীয় সাংবাদিক নাজমুল রিপন ও সাইফুল ইসলাম। হামলার ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তাদের এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সিলেটের কিছু এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

এই ঘটনার পর বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, প্রেস ক্লাব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাংবাদিক নেতাদের দাবি হচ্ছে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন থেকে ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, অবিলম্বে সাংবাদিকদের নাম এই ‘হয়রানিমূলক’ মামলা থেকে বাদ না দিলে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

যেখানে ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সেখানে সাংবাদিকদের আসামি করা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। এটি মূলত প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার একটি অপচেষ্টা। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

মামলার এজাহারে এই বিশাল অসঙ্গতি, ভিডিও ফুটেজ উপেক্ষা করার কারণ এবং সাংবাদিকদের আসামি করার বিষয়ে জানতে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোনে (মোবাইল নম্বর) একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওসির ফোন বন্ধ থাকায় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না মেলায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে রহস্য ও সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগৈলঝাড়া থানা এলাকা ও এর আশপাশে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং ভিডিও ফুটেজভিত্তিক সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ভুগছে ড. আখতার হামিদ খানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান কেটিসিসিএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি

আগামীকাল শনিবার, কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের জন্য মাঠে নামতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনা। এই খেলার আগে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি একটি দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রেফারির কথিত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, যা অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে অবস্থান করে। এ সময় মিসরের কোচ হোসাম হাসানের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। জবাবে স্কালোনি বলেছেন, “এ ধরনের কথা নতুন নয়। ১৯৮৬ সালেও এমন অভিযোগ উঠেছিল।” ভিএআর সিদ্ধান্তের কারণে মিসরের একটি গোল বাতিল হলেও স্কালোনির মতে, সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রেফারিরা নিয়মের ব্যাখ্যা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়গুলো বড় করে দেখা হয়, কিন্তু পক্ষপাতিত্বের সুযোগ এখন খুবই কম।” সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল মেসির সাম্প্রতিক পেনাল্টি ব্যর্থতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, “লিও যদি চায়, সে-ই পেনাল্টি নেবে। আমাদের দলে অন্য খেলোয়াড়ও আছে, তবে সে নিতে চাইলে সিদ্ধান্ত তারই।” চলতি টুর্নামেন্টে মেসি তার নেওয়া দুটি পেনাল্টিই মিস করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে, আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ সাতটি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র চারটি সফল হয়েছে তার। তবুও স্কালোনির মতে, মেসির অর্জন ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। মাঠে পজিশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও মেসিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় স্কালোনি। মিশরের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলের জয়ের ম্যাচের শেষদিকে, ডানদিকে সরে গিয়ে আক্রমণ তৈরি করেছেন মেসি, যা দলের জন্য কার্যকর ছিল। স্কালোনি বলেন, “এখন সে বেশি সময় মাঝমাঠে খেলে, তবে পুরো দল তার গতিবিধি অনুযায়ী খেলে। খেলায় স্বাভাবিকভাবেই এমনটা হয়েছে এবং দল বুঝতে পেরেছে সে ওই দিক থেকে বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে পারছে।” মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে মেসি একটি গোলের অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি সমতাসূচক গোলও করেন। চলতি টুর্নামেন্টে ৪১০ মিনিট খেলে, ১৫টি সুযোগ তৈরি করে তিনি করেছেন ৮টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট। শেষ দুই বিশ্বকাপে, তার গোল সংখ্যা ১৫টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। ৩৯ বছর বয়স হলেও স্কালোনি তার ফিটনেস নিয়ে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, “লিও আগের মতোই দৌড়ায়। খুব বেশি বা কম নয়। পার্থক্য হলো, এখন তার প্রতিটি কাজই আরও বেশি কার্যকর।” দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, “কেপ ভার্ডের বিপক্ষে আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম, যদিও ১২০ মিনিট লেগেছে। আর মিসরের বিপক্ষে আরও ভালো খেলেছি। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, ভুলও ছিল খুব কম।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেজাল্ট প্রকাশের আগেই না ফেরার দেশে ববি শিক্ষার্থী সুমাইয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


রেজাল্ট প্রকাশের আগেই না ফেরার দেশে ববি শিক্ষার্থী সুমাইয়া

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার সোহা, যিনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (১০ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন, শনিবার বেঁচে থাকার একটি নতুন সূচনা দেখার আগেই পরলোক গমন করলেন। সামনের সপ্তাহে অনার্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়া উচিত ছিল, যেখানে তার ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ (CGPA) আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু, সেই সুখবর আর তাকে দেখা হলো না। হাস্যোজ্জ্বল এবং প্রতিভাধর এই তরুণী নিয়তির নির্মম পরিহাসে, সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে একেবারে চোখ বুজে গেলেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ২:৩০ মিনিটে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি, সুমাইয়া ক্লাসের অন্যান্য কার্যক্রমেও অসাধারণ ছিলেন। তার প্রজেক্ট সুপারভাইজার এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আহসানুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুমাইয়ার স্মৃতি তুলে ধরে জানান, সুমাইয়া সবসময় সেরা পারফর্মার হিসেবে প্রজেক্টের স্টুডেন্ট ছিলেন এবং ব্যাচের প্রেজেন্টেশনগুলোতে তার পারফরমেন্স অতুলনীয় ছিল।

শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি, সুমাইয়া ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন। সংসার ও ক্যারিয়ার নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু দুঃখের বিষয় ২৪ বছর বয়সে তিনি সবকিছু রেখে চলে গেলেন।

সুমাইয়ার অকাল প্রয়াণে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা জানাচ্ছেন, সুমাইয়া ছিল অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল এবং বন্ধুসুলভ একজন মানুষ। তার এই আকস্মিক চলে যাওয়া সত্যি কেউ মেনে নিতে পারছে না।

পরিবারের পক্ষ থেকে এবং তার সহপাঠীরা সুমাইয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং বলেছেন, জীবনে চলার পথে যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তবে তা মার্জনা করবেন।

১১ জুলাই শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় তার নিজ গ্রামে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং তার পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুশ ড্রোন ও বোমা হামলায় কাঁপছে জাপোরিঝঝিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


রুশ ড্রোন ও বোমা হামলায় কাঁপছে জাপোরিঝঝিয়া

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়াতে রাশিয়ার হামলা নতুন একটি মাত্রা পেয়েছে। সামনের যুদ্ধরেখা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটিতে এখন নিয়মিতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে স্কুল, সরকারি অফিস, গণপরিবহন, জ্বালানি স্টেশন ও আবাসিক ভবন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং প্রতিটি দিন এখন আতঙ্কের মধ্যেই কাটছে।

ভোর পাঁচটার একটু আগে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কোর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে রুশ বাহিনীর গ্লাইড বোমার বিস্ফোরণের শব্দে। শহরের উপকণ্ঠে একের পর এক বোমা আঘাত হানার পর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে শুরু হয় ড্রোন হামলার নতুন একটি দফা। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা চালালেও বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে।

আন্না তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, এরপর আর ঘুমানোর সুযোগ ছিল না। তিনি দ্রুত কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিছুক্ষণ পরে একটি ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন তার কর্মস্থলের কাছেই বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি ড্রোন বিদ্যুতের তারে আঘাত করলে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তার কথায়, “জাপোরিঝঝিয়ায় এখন এটাই স্বাভাবিক একটি দিনের চিত্র।”

গত কয়েক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন স্কুল, সরকারি অফিস, জ্বালানি স্টেশন, গণপরিবহনের বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বহু আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

জাপোরিঝঝিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজিনা খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, একদিনের তীব্র হামলার সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে নিজের বাসার বাথরুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি মন্তব্য করেছেন, “শত্রুপক্ষ এখন বেসামরিক মানুষ, পৌর পরিবহন, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস, আবাসিক ভবন, এমনকি শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।”

ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে জাপোরিঝঝিয়া সিটি কাউন্সিলকে সম্প্রতি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বৈঠক করতে হয়েছে, যেখানে শহরের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন প্রতিরোধী জাল বসানো এবং স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি ভবনের জানালায় বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী বিশেষ সুরক্ষা ফিল্ম লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মেয়র খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবেও খুব ভয় পাই। রাতে অনেক সময় নিজের অ্যাপার্টমেন্টের করিডরের মেঝেতে ঘুমাই। আমি সাধারণ একজন মানুষ, আমার ব্যক্তিগত কোনও বাঙ্কার বা দেহরক্ষী নেই।”

ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকায় রুশ সেনাদের শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার পিছিয়ে দিতে সক্ষম হলেও হামলা কমেনি; বরং বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো এখন রাশিয়া ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ব্যবহার করছে, যা আগে এত দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট-এর সামরিক বিশ্লেষক স্যাম ক্র্যানি-ইভানস জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী এখন দীর্ঘপাল্লার ‘মাদারশিপ’ ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো বহন করে নিয়ে যায় একাধিক ছোট ড্রোন। পরে সেগুলো আলাদা হয়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

তিনি আরও যোগ করেছেন, রাশিয়া এখন ‘মেশ নেটওয়ার্কিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেখানে একটি ড্রোন অন্য ড্রোনের মাধ্যমে রেডিও সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে। ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং এড়ানো সহজ হয় এবং অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার কিছু অংশ অন্য ফ্রন্টে সরিয়ে নেওয়া জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার ৮৮৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

যদিও দক্ষিণাঞ্চলে রুশ বাহিনী কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবু ইউক্রেনের অন্য কয়েকটি ফ্রন্টে তারা ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং দখলকৃত অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রা কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেও জাপোরিঝঝিয়ার কয়েক লাখ মানুষ এখনো শহর ছেড়ে যাননি। বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কো বলেন, “আমাদের খাবার আছে, জ্বালানি আছে। তাহলে কেন চলে যাব? হয়তো আমি সহজে ভয় পাই না।”

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, শহর ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা মাঝে মাঝে মাথায় আসে। তারপরও তিনি চান না, জাপোরিঝঝিয়াও ইউক্রেনের অন্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোর কাতারে নাম লেখাক।

তার কথায়, “আমরা শুধু নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছি। বিজয় না আসা পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার, তাই করছি।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে চলছে জোর প্রস্তুতি। সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ২৮তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে উৎসবের হাওয়া। বর্ণিল আয়োজনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়কে সজ্জিত ও আয়োজন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জোর প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো হবে। এসময় কেক কাটা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এর পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন ও ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর উপস্থিতিতে কেক কাটা, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজনগুলো সম্পূর্ণ করতে কয়েকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তাগণ ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল হোসেনকে সভাপতি ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোঃ ফুয়াদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট মূল আয়োজক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নিলয় কুমার দে কে সভাপতি ও ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রক্টরিয়াল বডির প্রধান কনক চন্দ্র রায়কে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট শৃঙ্খলা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোঃ ফুয়াদ হোসেনকে সভাপতি ও সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন সুলতানাকে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট অভ্যর্থনা ও নিমন্ত্রণ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আয়েশা সিদ্দিকা রাত্রিকে সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবু রায়হানকে সভাপতি এবং ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুর রহমানকে সদস্য সচিব করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট আপ্যায়ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শাহ-আলমকে সভাপতি এবং বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. কয়েছ আহমেদকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট সাজসজ্জা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. ফুয়াদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে আয়োজক কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আসায় একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী গত বছরগুলোর তুলনায় ভিন্নভাবে পালন করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীও ঢাকা ১৯ ও ২০ এর সংসদ সদস্য আগমনে সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১৪ই জুলাই ঢাকার অদূরে সাভারে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষা পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠিত হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ৫টি অনুষদ এবং ১৭টি বিভাগে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%