০৬:২৪ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় কনটেইনার পরিচালনাকারী টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন একটি রেকর্ড গড়েছে। টার্মিনালটি গত মে মাসে এর পরিচালনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এই রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদায়ী মে মাসে টার্মিনালটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা এনসিটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এই মাধ্যমে টার্মিনালটি পূর্ববর্তী সব মাসিক রেকর্ডকে অতিক্রম করে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এনসিটিতে একক মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পূর্বের রেকর্ড ছিল।
এখন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এনসিটি পরিচালনা করছে। মে মাস জুড়ে এই টার্মিনালে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৮১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। মোট হ্যান্ডলিং হওয়া কনটেইনারের মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউ ছিল আমদানি কনটেইনার এবং ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউ ছিল রপ্তানি কনটেইনার। এটি আমদানি ও রপ্তানি উভয় বাণিজ্য কার্যক্রমেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।
আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত
চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই এনসিটির অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিডিডিএল টার্মিনালটির কার্যক্রমে গতি এনেছে। জাহাজ পয়েন্ট, ডেলিভারি পয়েন্ট, অ্যাপ্রাইজ পয়েন্ট, সিএন্ডএফ শেড এবং বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের তৎপরতা কনটেইনার খালাস ও লোডিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এনসিটি। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই টার্মিনালে একই সময়ে পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব। এই টার্মিনালে চারটি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের মোট কনটেইনারের প্রায় অর্ধেক হ্যান্ডলিং করা হয় এই টার্মিনাল দিয়ে। এটি ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ হিসেবে উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ইয়ার্ড এবং ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে। পাশাপাশি, কনটেইনার স্থানান্তরের জন্য সব আধুনিক যন্ত্রপাতি এসেছে টার্মিনালটিতে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালে মোট ৩৪ লাখ ১০ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে পুরোপুরি বিনিয়োগ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তাদের নেতাদের মাধ্যমে কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই টার্মিনালটি থেকে সাইফ পাওয়ার টেক হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। তখন বিদেশি বা দেশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনসিটি থেকে বিতর্কিত সাইফ পাওয়ারটেককে সরিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর বন্দর বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষ সরব হয়ে ওঠে। আন্দোলনের মধ্যে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেডকে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিডিডিএলের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পেশাদারিত্বের ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই অর্জন দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে, বৈদেশিক বাণিজ্য সহজতর করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশ্বাস।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন