ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার শিক্ষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী


অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার শিক্ষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সকল শিক্ষকের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধের জন্য এককালীন দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী অতি দ্রুত এই টাকা ছাড়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট শিক্ষকরা একযোগে পাচ্ছেন অবসর-কল্যাণের টাকা।

বেসরকারি শিক্ষকদের শেষ জীবনের সম্বল বলতে তাঁদের অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের এককালীন টাকা। শিক্ষকরা শেষ জীবনে হজ করা, নিজের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে বা ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে এই টাকার ওপরই ভরসা রাখেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

কিন্তু ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তাঁরা অবসর-কল্যাণের টাকা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই টাকা পেতে তাঁরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রধানমন্ত্রী টাকা পরিশোধের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই। এটি বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে শিক্ষকসমাজ মনে করছেন।

এই বিষয়ে, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধে এককালীন দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধের ব্যাপারে আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম। কারণ ২০২২ সাল থেকে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা এখনো কোনো টাকা পাননি। শিক্ষকরা প্রতি মাসে নিজেরা চাঁদা দেন এবং সরকার একটি অংশ দেয়। কিন্তু গত ১৭ বছরে সেই জামানতের অনেক টাকাই বেহাত হয়েছে। আবার দুর্বল ব্যাংকেও অনেক টাকা আটকে রয়েছে। আমরা আগে থেকেই এই খাতে অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা-চেতনা বিশাল। শিক্ষকদের জন্য তাঁর ভালোবাসা অন্য যে কারো চেয়ে বেশি এবং প্রধানমন্ত্রী সবাইকে তাঁদের অবসরের টাকা দিতে চান। এ জন্য আমাদের কাজ করার নির্দেশ দেন।’

আবদুল খালেক বলেন, ‘এরপর আমরা বিস্তারিত হিসাব করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাই। কিন্তু যে টাকা প্রয়োজন তা সরকার একবারে দেওয়ার জন্য সম্ভব নয়। তাই একাধিক ধাপে অবসরের টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে শিক্ষকরা যে টাকা জমা রেখেছিলেন, তা পরিশোধে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রয়োজন ছিল দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা। একবারে প্রধানমন্ত্রী দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। বাকি ১০০ কোটি টাকা অবসর-কল্যাণের ফান্ড থেকে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সবাই একবারে পাচ্ছেন পাঁচ থেকে সাত লাখ পর্যন্ত টাকা। আবার ছয় মাস পর বা তার আগেই দ্বিতীয় ধাপের টাকা পরিশোধ করা হবে।’

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

শিক্ষাসচিব বলেন, ‘এখন অবসর সুবিধা বোর্ডে আবেদন জমা আছে ৭৫ হাজার। আর কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদন জমা ৪৪ হাজার। মোট এক লাখ ১৯ হাজার আবেদন জমা। কিন্তু যে শিক্ষক অবসরে আবেদন করেছেন, তাঁর কল্যাণেও আবেদন জমা আছে। ফলে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৭৫ হাজার। তাঁদের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমাদের হাতে রয়েছে। সবাইকে আগামী ১৫ আগস্ট ইএফটির (ইলেকট্রনিকস ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে একযোগে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা হবে। এর আগে আগামী ১৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতার জন্যই শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা সমাধানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি আমরা।’

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি মাসের মূল বেতন থেকে অবসর বোর্ডে কাটা হয় ৬ শতাংশ টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে কাটা হয় ৪ শতাংশ টাকা। বেতন থেকে কাটা অর্থে পেনশনের পুরো টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আগের সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ না দেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদনের স্তূপ জমা রয়েছে। অবসর বোর্ডে দেওয়া ৬ শতাংশ অর্থে প্রতি মাসে জমা হয় ৭০ কোটি টাকা। আর বোর্ডের এফডিআর থেকে আসে তিন কোটি টাকা। প্রতি মাসে মোট আয় হয় ৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে যত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যান তাঁদের পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় ১১৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতি মাসে ঘাটতি থাকে ৪২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দেওয়া ৪ শতাংশ অর্থে ফান্ডে প্রতি মাসে জমা হয় ৫০ কোটি টাকা। আর ট্রাস্টের এফডিআর থেকে মাসে পাওয়া যায় দুই কোটি টাকা। ফলে সব মিলিয়ে মাসে আয় হয় ৫২ কোটি টাকা। অথচ প্রতি মাসে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৬৫ কোটি টাকা। এতে প্রতি মাসে ঘাটতি থেকে যায় ১৩ কোটি টাকা। এরপর আবার দুর্বল ব্যাংকে শিক্ষকরা এসব টাকা রাখার কারণে অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায় অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব শিক্ষকের পাওনা একবারে পরিশোধ করতে সরকারের কাছ থেকে এককালীন সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ প্রয়োজন। কিন্তু অবহেলিত এসব শিক্ষকের পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে আগের সরকারের তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। এমপিওভুক্ত এসব শিক্ষকের দুর্দশা ঘোচাতে এবার বিএনপি সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করল।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দ্বিতীয় ধাপে আবার কবে টাকা দেওয়া হবে, সে ব্যাপারে আমরা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। কারণ একবার একটা অংশ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপের টাকা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে। যা আমাদের আশঙ্কার কারণ। আমরা চাই শুধু শিক্ষকদের দেওয়া অংশ নয়, সরকারের অংশসহ পুরো টাকাটাই শিক্ষকরা যেন পান। বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন কম। শেষ জীবনে তাঁদের এই টাকাই ভরসা। তাঁরা একবারে একটি বড় অঙ্কের টাকা পেলে তা কাজে লাগিয়ে অবসর জীবনটাকে কাটিয়ে দিতে পারবেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ এম


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে আগুন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে আগুন লেগেছে।

এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাতের দিকে। আগুনের কারণে মুহূর্তের মধ্যে লাউঞ্জ এবং আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একজন অপারেটর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগুনের সংবাদ পেয়ে ছয়জন কর্মকর্তা লাউঞ্জে গেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা হঠাৎ করে লাউঞ্জের ভেতর ধোঁয়া দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ভরে যায়। সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ শুরু করেন।

শোনা যাচ্ছে, রাতে বলাকা লাউঞ্জের রান্নাঘরের একটি কেবল থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দর ভিতরের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এ সময় বলাকা লাউঞ্জে যাত্রীসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বলাকা লাউঞ্জ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের একটি লাউঞ্জ, যা যাত্রীদের অপেক্ষা এবং বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে যাত্রীদের খাওয়া-দাওয়া, বসার ব্যবস্থা, অপেক্ষার স্থানসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ এম


সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম দেশের মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত না করে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শুক্রবার রাতে রাজধানীর টিকাটুলীর ভোলানন্দগিরি আশ্রমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এ কথা বলেন। আবদুস সালাম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জাগরণ এখন জরুরি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে দেশের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও কৃতি থেকে মানুষ অনেকটা বিচ্যুত হয়ে গেছে। এর প্রভাব বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর পড়ছে। তরুণদের যদি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা যায় তবে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি ভালোবাসা বাড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকের চিন্তা শুধুমাত্র ‘আমি কী পেলাম, কী পাব, কী পাচ্ছি না’ এই ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। দেশের জন্য, ধর্মের জন্য ও মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তরুণদের মধ্যে যদি এই চেতনা জাগাতে না পারা যায়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার নেমে আসবে। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া এবং সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের বিষয় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে ধর্ম-বর্ণের বিভাজন ছিল না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ সবাই একসঙ্গে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মশা দমনে ছয় লাখ ‘বিশেষ’ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ এম


মশা দমনে ছয় লাখ ‘বিশেষ’ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের বাসিন্দা টড মন্টগোমারি তার বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট টিউবের ঢাকনা খুলে শত শত মশা ছাড়েন। তবে এটি কোনো দুষ্টুমি নয়, বরং মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। খবরটি দ্য স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি যে মশাগুলো ছাড়েন, সেগুলো সকলেই পুরুষ। কারণ, পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। এদের শরীরে ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যখন এসব পুরুষ মশা ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম ফুটে না। এতে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর ৩২ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেন একটি টিকটিক করা সময়বোমার ওপর বসে আছি।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে রোগবাহী মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়কালও দীর্ঘ হচ্ছে।

‘জ্যাপ মেলস’ নামে বাজারজাত করা এই পদ্ধতি শুধু এশিয়ান টাইগার মশার ওপর কার্যকর। এই মশাগুলি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়, তবে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করে। সম্প্রতি উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

কেন্টাকির বাসিন্দা ও সাবেক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মন্টগোমারি প্রতিরক্ষা খাতের চাকরির ঠিকানায় ওয়াশিংটন আসেন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল আবাসিক এলাকায় মশা দমনে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের বিকল্প তৈরি করা।

বর্তমানে কীটতত্ত্বে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত মন্টগোমারি বলেন, ‘দেশীয় উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারী প্রাণীর প্রতি আমার আগ্রহ থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা। নিজের বাড়ির আশপাশে কীটনাশক ছিটাতে দেখে মনে হয়েছে, এর একটি নিরাপদ বিকল্প প্রয়োজন।’

ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে মশার শরীরে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যদি পুরুষ মশার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে কিন্তু স্ত্রী মশার শরীরে না থাকে, অথবা ভিন্ন ধরনের ওলবাকিয়া থাকে, তবে তাদের মিলনের পর বংশবিস্তার হয় না।

এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সরকারি উদ্যোগ সিঙ্গাপুরে চলছে। ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামক প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে।

সূত্র: দ্য স্ট্যান্ডার্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে নৌজোট গড়ার মার্কিন উদ্যোগে ইউরোপের অনাগ্রহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ এম


হরমুজে নৌজোট গড়ার মার্কিন উদ্যোগে ইউরোপের অনাগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

লক্ষ্য হলো, নৌবাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্রযুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এখন আর এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। টেকসই যুদ্ধবিরতি হলে, এমন একটি মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে দেশ দুটি আগে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্রমেই বাড়তে থাকলেও নৌজোট গঠনের উদ্যোগ খুব একটা এগোচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগে অচলাবস্থা ইউরোপীয় সরকারগুলোর গভীর সতর্কতারই প্রতিফলন। তাদের আশঙ্কা, এমন একটি অনিশ্চিত ও সহজেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, যা তারা নিজেরা শুরু করেনি কিংবা সমর্থনও করেনি, শেষ পর্যন্ত বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের সামরিক উদ্যোগের সুস্পষ্ট সমর্থন না থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ আরও বাড়ছে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, ‘অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব একটা আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দাবি না থাকে।’

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%