০৭:২৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের বাসিন্দা টড মন্টগোমারি তার বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট টিউবের ঢাকনা খুলে শত শত মশা ছাড়েন। তবে এটি কোনো দুষ্টুমি নয়, বরং মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। খবরটি দ্য স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি যে মশাগুলো ছাড়েন, সেগুলো সকলেই পুরুষ। কারণ, পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। এদের শরীরে ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যখন এসব পুরুষ মশা ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম ফুটে না। এতে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর ৩২ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেন একটি টিকটিক করা সময়বোমার ওপর বসে আছি।’
আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে রোগবাহী মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়কালও দীর্ঘ হচ্ছে।
‘জ্যাপ মেলস’ নামে বাজারজাত করা এই পদ্ধতি শুধু এশিয়ান টাইগার মশার ওপর কার্যকর। এই মশাগুলি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়, তবে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করে। সম্প্রতি উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
কেন্টাকির বাসিন্দা ও সাবেক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মন্টগোমারি প্রতিরক্ষা খাতের চাকরির ঠিকানায় ওয়াশিংটন আসেন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল আবাসিক এলাকায় মশা দমনে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের বিকল্প তৈরি করা।
বর্তমানে কীটতত্ত্বে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত মন্টগোমারি বলেন, ‘দেশীয় উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারী প্রাণীর প্রতি আমার আগ্রহ থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা। নিজের বাড়ির আশপাশে কীটনাশক ছিটাতে দেখে মনে হয়েছে, এর একটি নিরাপদ বিকল্প প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি আরব রুটে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ২০ হাজার যাত্রী আটকে
ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে মশার শরীরে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যদি পুরুষ মশার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে কিন্তু স্ত্রী মশার শরীরে না থাকে, অথবা ভিন্ন ধরনের ওলবাকিয়া থাকে, তবে তাদের মিলনের পর বংশবিস্তার হয় না।
এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সরকারি উদ্যোগ সিঙ্গাপুরে চলছে। ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামক প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য স্ট্যান্ডার্ড
আরও পড়ুন: ভারতে যাওয়ার পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন