ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

আ.লীগ ফেরার হাওয়া-বাতাস শুধু স্যোশাল মিডিয়া আর ভারতে: সারজিস


আ.লীগ ফেরার হাওয়া-বাতাস শুধু স্যোশাল মিডিয়া আর ভারতে: সারজিস

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার হাওয়া-বাতাস শুধু স্যোশাল মিডিয়া আর ভারত— এই দুইটা জায়গায় দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। 

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার হাওয়া-বাতাস শুধু দুইটা জায়গায় দেখা যায়। একটা স্যোশাল মিডিয়া, আরেকটা হয়তো ভারতে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফেরার কোনো বাতাস আসার সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন: কুবি ক্যাম্পাসে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ৩ জনকে আটক, মারধরের অভিযোগ

শেখ হাসিনার ফিরে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডে গণহত্যাকারী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কিংবা কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফিরতে পারবে না। বাংলাদেশে যখন ঢুকবে, তখন জনগণ ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবে।’

এরপর জ্বালানি সমস্যার কথা উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, যদি অর্থমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রী এই কথা বলেন যে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাহলে এই সেক্টরগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। এখানে শুধু একজন মন্ত্রীকে দায় দিয়ে লাভ নেই। 

এনসিপির এ নেতা বলেন, এই দায়ভার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনোভাবে এড়াতে পারেন না। তিনি যদি দেখেন যে একজন মন্ত্রী সঠিকভাবে তার মন্ত্রণালয় চালাতে পারছেন না, তাহলে অবশ্যই তাকে অপসারণ করতে হবে। সেটা না করে তাকে যদি বসিয়ে রাখেন এবং ব্যর্থতার নাটক দেখতে থাকেন; তাহলে এই দায়ভার আপনি এড়াতে পারেন না।

এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে সারজিস বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন তার মন্ত্রণালয়ে একটু নজর দেন। তিনি তো বর্তমানে আসলে প্রধানমন্ত্রীর প্রক্সি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এটা করতে গিয়ে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি নজর দিতে পারছেন না। আমরা তাকে আহ্বান করব, তিনি যেন তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে নজর দেন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল

এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আশরাফ উদ্দিন মাহদি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক বাকের মজুমদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাপা মোহনপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


বাপা মোহনপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন

 

রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় পরিবেশকর্মীদের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা শাখার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সভার পর, উপস্থিত পরিবেশকর্মীদের মতামত ও সম্মতিক্রমে বাপা মোহনপুর উপজেলার শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিক্রমে পরিবেশকর্মী মো. মিরাজুল ইসলাম মতিন-কে আহ্বায়ক এবং সমাজকর্মী মো. আব্দুস সালাম-কে সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জামাত খান। সভার সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক সেলিনা বেগম, কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হাসান, সদস্য শাহনাজ পারভীন এবং সেলিনা বেগম। সভাটি সঞ্চালনা করেন পবা উপজেলা শাখার সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরী।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা বাবলু, সাদিকুল ইসলাম স্বপন, এম এম মামুন, রাবেয়া খাতুন সীমা, আজগর আলী, তোফাজ্জল হোসেন, মোস্তফা হোসেন ভিক্টর, হাসান মাহমুদ লিটন, বাবুল স্বর্ণকার, খায়রুজ্জামান লিটন, দুলাল হোসেন ফয়সাল, সারোয়ার হোসেন, কাওসার আলী প্রমুখ।

সভায় অতিথিবক্তাগণ আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন আহ্বায়ক কমিটি এই অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদী ও জলাশয় রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ মাঠপর্যায়ে কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ “নদী বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও” এই স্লোগানকে ধারণ করে নদী, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা

ইরানের যুদ্ধের রেশ কিছুটা স্থবির হতেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন আমেরিকান কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। গত মার্চ মাসে ইরান ও তার মিত্রদের সাথে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর নিরাপত্তার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই দেশগুলোতে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্য এবং জরুরি নয় এমন কর্মীদের বাধ্যতামূলক বা অনুমোদিত প্রস্থান নির্দেশের আওতায় নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছিল। 

তবে মানবসম্পদ নীতির আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর ভাতা ও আবাসনের সুবিধা হারাতে বসার আইনি জটিলতার কারণে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখন এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করেছে। যদিও বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতি ইরান সংকটের ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে মূলত অর্থনৈতিক চাপের ওপরই বেশি কেন্দ্রীভূত রয়েছে, তবুও এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার দিনটিতে কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো ঘোষণা দেয় যে, কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যরা দেশগুলোতে ফিরে আসতে পারবেন। তবে কুয়েত ও বাহরাইনের ক্ষেত্রে এই অনুমতি কেবল আঠারো বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য প্রযোজ্য। 

এর আগে চলতি সপ্তাহের অন্যান্য দিনে ইসরায়েলে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের সব পরিবারের সদস্য এবং লেবাননে কর্মরত কর্মীদের একুশ বছরের বেশি বয়সীদেরও নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। 

গত মার্চ মাসে যখন ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুমকি দিয়ে পুরো অঞ্চলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তখন থেকেই এই দূতাবাসগুলোকে বাধ্যতামূলক বা অনুমোদিত প্রস্থান স্ট্যাটাসে রাখা হয়েছিল।

বাধ্যতামূলক প্রস্থান বলতে বোঝায় যে সকল অ-প্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ত্যাগ করতে হবে, আর অনুমোদিত প্রস্থান হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কর্মীরা স্বেচ্ছায় সরে যেতে পারেন। তবে মার্কিন সরকারি প্রবিধান অনুযায়ী এই বিশেষ স্ট্যাটাসগুলোর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যা ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। এই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অর্থ দাঁড়াত যে ক্ষতিগ্রস্ত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারগুলো তাদের সরকারি আবাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা হারাতেন, যা এই বিশাল কর্মীবাহিনীর মধ্যে মারাত্মক মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি করছিল। এই জটিলতা উত্তরণে স্টেট ডিপার্টমেন্ট 'সীমাবদ্ধ অপারেশন' নামের সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রতিটি দূতাবাস তাদের নিজস্ব বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত জনবল নিয়োগ, পরিবারের উপস্থিতি এবং বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন দূতাবাসে এখনই পুরোপুরি স্বাভাবিক জনবল ও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এই উদ্যোগ একটি বড় অগ্রগতি। স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা তাদের কর্মীবাহিনী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেটগুলো যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া এই অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসে যেখানে কূটনীতিকদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেও আগামী দিনে এই নীতিমালার আলোকে অনুরূপ পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিতে ইবি ছাত্রশিবিরের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইবি প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিতে ইবি ছাত্রশিবিরের হুঁশিয়ারি

২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার থেকে অপহৃত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীর এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ছাত্র আল মোকাদ্দাস। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শাখা ছাত্রশিবির।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুব আলী দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরেন।

শাখা শিবির সভাপতি লিখেছেন, "৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। রাষ্ট্রীয় মদদে এবং ফ্যাসিবাদের নগ্ন থাবায় বিশ্বস্ত ও প্রিয়জনদের হারানোর বেদনায় যে পরিবারগুলো বছরের পর বছর প্রহর গুনছে, তাদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। এই দিনে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র, আল মুকাদ্দাস এবং ওয়ালিউল্লাহ ভাইদের।"

মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ কেবল তাদের নিজ নিজ বিভাগে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেননি, বরং তাদের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলির কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তাদেরকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনা সরকারের, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নীতিভ্রষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই দুই মেধাবী ছাত্রনেতাকে গুম করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অকাতর ত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশে দাঁড়িয়েও আমরা আমাদের এই প্রিয় ভাইদের কোনো সন্ধান পাইনি। এটি শুধু রাষ্ট্রের নয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও চরম ব্যর্থতা ও উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা এই বর্বরোচিত গুমের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনো স্বপদে বহাল আছেন, যা শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে এক চরম নির্লজ্জতা ও তামাশার শামিল। আজও মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ভাইয়ের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মা পথ চেয়ে বসে আছেন-মৃত্যুর আগে অন্তত একবার হলেও আদরের সন্তানের মুখটি দেখার আশায়।"

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, "স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, অনতিবিলম্বে এই গুমের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আমাদের ভাইদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।"

সতর্ক করে দিয়ে তিনি লিখেছেন, "এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেওয়া হবে না। কোনো স্বাধীনচেতা নাগরিক যেন আর গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন। একই সঙ্গে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশের আনাচে-কানাচে যে নতুন ফ্যাসিবাদের অপছায়া বা গন্ধ আমরা পাচ্ছি, তা অঙ্কুরেই উপড়ে ফেলতে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।"

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তারা একসাথে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী (হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর) বাসে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ক্যাম্পাসে না ফেরায় তাঁদের বন্ধুরা পরিবারকে অবহিত করেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬৭৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬৭৫

সম্প্রতি হিমালয়ের বরফ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটি। গত বুধবার চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদী দিয়ে তীব্র শক্তি নিয়ে ছুটে আসে ঢল। যারসঙ্গে ছিল বড় বড় পাথর ও কাদা। এসব পাথর ও কাদার নিচে পড়েই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন সরকার। এতে দুই দেশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৮২ জনে।

ভয়াবহ বন্যার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ আছেন তিন হাজার মানুষ। তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন সেটিও অজানা। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি এত বেশি হয়েছে যে উদ্ধারকারীরা সব জায়গায় যেতে পারছেন না। কিছু জায়গায় শুধুমাত্র হেলিকপ্টারই পৌঁছাতে পারছে। ফলে অনেক মানুষের কাছে উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতেও পারেনি।

ওই বন্যার পানির এতই শক্তি ছিল যে এটিকে পাহাড়ের সুনামি হিসেবে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বন্যার পানির শক্তি অনেক বেশি থাকায় কিছু মরদেহ ভাসতে ভাসতে কয়েকশ মাইল দূরের ভারতেও চলে গেছে। ভারত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নদীর নিম্নাঞ্চলের অন্যান্য জায়গাতেও মরদেহ ভেসে চলে গেছে।

যেখানে এ দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের কাজ চলছিল। নেপাল জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯৩৩ হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট কর্মী নিখোঁজ আছেন।

সূত্র: এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%