০৪:০৬ পি.এম
বাম্পার ফলনের পরও আলু সংরক্ষণের খরচ কৃষকের লাভ গিলে খাচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে। এ অবস্থায় তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: ভলাকুট বিএনপির রাজনীতিতে এখনো আলোচনায় দুই সহোদর আয়ূব ও সোয়াব খান
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করেই হিমাগার মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারের প্রতি দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি কৃষক-ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চাষি-ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি সংবাদ সম্মেলনে। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ ২০২৫ সালে সেটি এক লাফে ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়। এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এরপর থেকেই তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা-সমাবেশ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত বছর ব্যবসায়ী ও চাষিদের আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসন জেলার সব হিমাগারকে পরিচালন ব্যয়ের তথ্য জমা দিতে চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬টি হিমাগার তথ্য জমা দিলেও বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, বেতন ভাউচার, লুব্রিকেন্ট ক্রয়ের রসিদসহ কোনো দালিলিক প্রমাণ দেয়নি। ফলে রাজশাহীর প্রকৃত পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সুপারিশ কমিটিকে নিজস্ব অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যয়ের একটি ধারণা নিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আগমনী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়,
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অন্যান্য জেলায় প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী, প্রতি কেজিতে ৪ টাকার বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অন্যায্য ও অযৌক্তিক হবে। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনিসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন