১১:৪৬ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনের জন্য চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি নতুন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ দলের অধিকাংশ সদস্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছেন তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু চিকিৎসক রিচার্ড প্যানের নির্বাচনি প্রচারের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় বড় করে লেখা রয়েছে তিনটি শব্দ—‘জনস্বাস্থ্যের নায়ক’। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন পেতে প্যানের মতো আরও অনেক জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী লড়াই করছেন।
আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে তেলবাহী জাহাজে দুই দফা হামলা, নাবিকরা নিরাপদ
আমেরিকান কলেজ অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির এক হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ জন চিকিৎসক কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে কংগ্রেসে চিকিৎসক আইনপ্রণেতাদের একটি নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটবে। তবে বর্তমানে কংগ্রেসে থাকা চিকিৎসক আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অনেকেই রিপাবলিকান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এবারের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি আসনেও লড়ছেন চিকিৎসকেরা। মিশিগানের শূন্য হয়ে যাওয়া সিনেট আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল আল-সাইয়েদ। অন্যদিকে, দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজের প্রার্থিতার কারণে রিপাবলিকানদের জন্য সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত একটি সিনেট আসনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠনের মতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাদের অসন্তোষ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করতে হবে
তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞানবিরোধী বলে বিবেচিত নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।
মহামারি বিশেষজ্ঞ এরিক ফেইগল-ডিং বলেন, বিজ্ঞানীরা নিজেরাও এখন সচেতন হয়ে উঠেছেন। ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে তারা আর জনপরিসর ছেড়ে দিতে চান না। তিনি ‘ভ্যাক্স পিএসি’ নামের একটি রাজনৈতিক অধিকারকর্মী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি দায়িত্বশীল টিকানীতির পক্ষে থাকা প্রার্থীদের সমর্থন দেয়।
ফেইগল-ডিংয়ের মতে, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কোনো দলীয় অবস্থান নেওয়ার বিষয় নয়। বরং এর মাধ্যমে তারা দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যনীতির পক্ষে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য খাত রাজনীতির নোংরা জায়গায় নেমে হাতা গুটিয়ে কাজ করছে না। বরং আমরা রাজনীতির প্রভাব থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করছি।’
আরও পড়ুন: সৌদি আরবের উপকূলের কাছে পারস্য উপসাগরে ট্যাংকারে হামলা
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়গুলো বরাবরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাস্থ্যসেবাও তাদের বড় উদ্বেগের একটি। গত ৮ অক্টোবর পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের কাছে নির্বাচনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্বাস্থ্যসেবা। এর আগে রয়েছে অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।
ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জরিপে তাদের ৮২ শতাংশ বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ৫৩ শতাংশ।
বস্টন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ম্যাট মোত্তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাজনীতি নতুন নয়। তবে সময়ের সঙ্গে এর ধরন বদলেছে। আগে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও তা সব সময় দলীয় বিভাজনে রূপ নিত না। এখন বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্তিমূলক হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে মুরাসু, পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস
আলজাজিরাকে মোত্তা বলেন, ‘স্বাস্থ্য সব সময়ই রাজনৈতিক বিষয় ছিল। কিন্তু সব সময় তা দলীয় বিভাজনের বিষয় ছিল না। এখন আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভাবনাও ক্রমেই দলীয় পরিচয় অনুযায়ী বিভক্ত হয়ে পড়ছে।’
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এই বিভাজনের শুরুর দিকের একটি উদাহরণ ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওই নির্বাচনের আগের বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসন স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকান নেতা নিউট গিংরিচসহ দলের অন্য নেতারা ওই উদ্যোগকে ‘সমাজতন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরেন। ওই বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায় রিপাবলিকানরা। নির্বাচনটি ‘রিপাবলিকান বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পায়।
২০১০ সালে ডেমোক্র্যাট নেতা বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সির সময় সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন (এসিএ) পাস হওয়াও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এরপর থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন মোত্তা।
২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সদ্য পাস হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের বিরোধিতা করে প্রচার চালান। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডেমোক্র্যাটরা তার ওই আইন বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রচার চালান। আর ২০২২ সালের নির্বাচনে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় নেওয়া বিধিনিষেধকে পুঁজি করে রিপাবলিকানরা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুন: পিসিটির পর সিসিটির দিকে নজর দিচ্ছে সৌদি কোম্পানি
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া?
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের অক্টোবরের শেষ দিকের এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি তার প্রেসিডেন্সির সর্বনিম্ন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সন্দিহান ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষকদের ওপর মানুষের আস্থা কমছিল। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে টিকাবিরোধী মনোভাবের জন্য পরিচিত রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকে নিজের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত করেন ট্রাম্প।
কেনেডি ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার সুস্থ করে তুলি’ স্লোগানে সমর্থকদের সংগঠিত করেন। এটি ছিল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের আদলে তৈরি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরলে কেনেডিকে স্বাস্থ্য খাতে ‘যা খুশি করার’ সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি কেনেডিকে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটের শেষ মুহূর্তের বার্তা প্রকাশ
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে কেনেডি কেন্দ্রীয় সরকারের টিকাদানসংক্রান্ত নির্দেশনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বৈজ্ঞানিক ঐকমত্যের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) মতো সংস্থার বাজেট কমানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে গত বছর ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ আইন পাসে রিপাবলিকানদের একজোট করেন ট্রাম্প। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় কমানো হয়েছে। ওই আইনের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকির মেয়াদও শেষ হতে দেয় রিপাবলিকানরা। এতে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তির খরচ বেড়েছে।
ম্যাট মোত্তার মতে, নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক প্রার্থীরা এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে নির্বাচনি প্রচারে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ তার রাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যনীতির ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ওই রাজ্যে হামে আক্রান্তের আনুমানিক ৯৯৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে এ প্রাদুর্ভাব নিয়ে লেখা এক নিবন্ধে অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘আমরা আবারও এক পুরোনো প্রাণঘাতী রোগের ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি করছি। বিজ্ঞানের পরিবর্তনের কারণে নয়, ভাইরাসটির নিজের কোনো পরিবর্তনের কারণেও নয়; বরং আমাদের রাজনীতি বদলে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে।’
তিনি আরো লেখেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা দেখেছি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতামত সরিয়ে রাখা হচ্ছে, আর ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
মিশিগানের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদও নিজের চিকিৎসাবিষয়ক অভিজ্ঞতাকে প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি সাইক্লোস্পোরা নামের এক পরজীবীর সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই পরজীবীর কারণে ডায়রিয়া হতে পারে। লেটুসপাতার মতো তাজা খাবারের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে নির্বাচনি প্রচারের এক অনুষ্ঠানে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক হব।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লেটুসপাতা এড়িয়ে চলতে চলতে যদি আপনারা ক্লান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা সবাই একমত হতে পারি যে এই মুহূর্তে সিনেটে একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।’
ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কমানোর কারণে খাদ্য পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় সরকারের সক্ষমতা কমেছে। আল-সাইয়েদসহ অন্য ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রে ওই পরজীবীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য এ ঘাটতিকে দায়ী করছেন।
‘ইতিহাসে এমন ঘটনা কতবার ঘটেছে?’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে কর্মরত চিকিৎসকদের বেশির ভাগই রিপাবলিকান। এর মধ্যে আগে সিনেটে নির্বাচিত হওয়া চারজন চিকিৎসকই রিপাবলিকান দলের। তবে দলীয় এই চিত্র বদলে যেতে পারে। রিপাবলিকান দলের আলোচিত চিকিৎসক ও সিনেটর বিল ক্যাসিডি এবার সরে দাঁড়াচ্ছেন। কানসাসের সিনেটর রজার মার্শালের মতো অন্য কয়েকজন রিপাবলিকানও পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।
অন্যদিকে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের ১২০তম অধিবেশনে যোগ দিতে অন্তত পাঁচজন নতুন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি রয়েছে। নার্সদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। নার্সদের বিষয়ভিত্তিক প্রকাশনা ‘নার্স ডট অর্গ’-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অন্তত ১০ জন ডেমোক্র্যাট নার্স কংগ্রেসের আসনে লড়ছেন। রিপাবলিকান নার্স প্রার্থীর সংখ্যা চার।
তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব স্বাস্থ্য পেশাজীবী স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে একই মত পোষণ করেন না। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নিউজ নেশনকে বলেছেন, সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ একটি ‘সেকেলে ও বাস্তবসম্মত নয়’ এমন নীতি। অন্যদিকে আবদুল আল-সাইয়েদ এ নীতির জোরালো সমর্থক। এ বিষয়ে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল: আ সিটিজেনস গাইড’ নামে একটি বইও সহলেখক হিসেবে লিখেছেন।
উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয় সবচেয়ে বেশি। তাই স্বাস্থ্যসেবাকে সাশ্রয়ী করার বিষয়টি ডেমোক্র্যাট চিকিৎসকদের অনেকের নির্বাচনি প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
অ্যানি অ্যান্ড্রুজ তার রাজনৈতিক কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘রোগী ও চিকিৎসা ব্যয়ের প্ল্যাটফর্ম’। একই নামে তিনি নিজের রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারও চালিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও চিকিৎসক অ্যামি বেরা আলজাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়ছেন বেরা। তার প্রচারের অন্যতম বক্তব্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে চিকিৎসক ও রোগীদের। শুধু ব্যয় নিয়ে আলোচনা করলে চলবে না।
বেরা বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার খরচ ফেরত পাওয়ার হিসাব নিয়ে কথা না বলে আমরা কেন চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে গিয়েছিলাম, তা নিয়ে কথা বলি। আমরা রোগীদের সেবা করতে চেয়েছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেসব চিকিৎসক বাস্তবে রোগীদের সেবা দিয়েছেন, চিকিৎসাকক্ষে বা অস্ত্রোপচারকক্ষে কাজ করেছেন, রোগীর সেবা সম্পর্কে তাদের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা সেই অভিজ্ঞতা কংগ্রেসে নিয়ে আসতে পারেন।’
এ বছর স্বাস্থ্যসেবাকে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে বেরা ‘ডেমোক্র্যাটিক ডক্টরস পিএসি’ গঠন করতে সহায়তা করেছেন। স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক অন্য সংগঠনগুলোও নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ও নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। বিজ্ঞানপন্থি অধিকারকর্মী সংগঠন ‘৩১৪ অ্যাকশন’ গত অক্টোবরে জানিয়েছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা প্রায় তিন কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
তবে বেরা আশাবাদী, স্বাস্থ্যসেবা শেষ পর্যন্ত কোনো একটি দলের একক ইস্যু বা দলীয় বিভাজনের কারণ হয়ে থাকবে না। তিনি বলেন, ‘এত দিন আলোচনাটি এমনই ছিল, তাই না? ডেমোক্র্যাটরা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনকে রক্ষা করেছে, আর রিপাবলিকানরা এর বিরোধিতা করেছে। আমার মনে হয়, এখন পরিস্থিতি এমন এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
ভ্যাক্স পিএসির প্রতিষ্ঠাতা ফেইগল-ডিংও মনে করেন, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি ওহাইওর সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক অ্যামি অ্যাকশনের কথা উল্লেখ করেন। অ্যাকশন ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এখন তিনি রাজ্যটির গভর্নর পদে লড়ছেন।
মারিস্ট ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে অ্যাকশন তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ফেইগল-ডিং এ ফলকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ইতিহাসে কতবার এমন হয়েছে যে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন পরিচালক গভর্নর পদে নির্বাচন করে দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জিতেছেন এবং এখন গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন?’
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন