শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শুক্রবার, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের বিমানবাহিনী জানায় যে, ফিনল্যান্ড উপসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া রাশিয়ার যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে তারা তাদের যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে।
বিমানবাহিনী জানায়, উত্তর ইউরোপের (নরডিক) এই দুই দেশের ‘কুইক রিঅ্যাকশন অ্যালার্ট’ (কিউআরএ) যুদ্ধবিমানগুলোকে গত বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপি হেলসিঙ্কি থেকে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তারা ‘ফিনল্যান্ড উপসাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়’ একটি রাশিয়ান বহর শনাক্ত করে, যার মধ্যে ছিল একটি টিইউ-১৩৪ পরিবহন বিমান, মিগ-৩১ এবং সু-৩০ যুদ্ধবিমান।
সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, এটি ছিল দুটি বিমানবাহিনীর প্রথম যৌথ কার্যকরী ‘শনাক্তকরণ অভিযান’।
বাল্টিক সাগরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাশিয়ার বিমানগুলোকে বাধা দিতে নরডিক দেশগুলোর যুদ্ধবিমান প্রায়শই জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়ে থাকে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড কয়েক দশকের সামরিক জোটনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে এসে ন্যাটোতে যোগ দেয়।
সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এই অভিযানের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ মন্তব্য করে বলেন, ‘বাল্টিক সাগর এর আগে কখনো এতটা ঝুঁপিূর্ণ ছিল না—তবে এটি রক্ষায় এত জোরদার নিরাপত্তাও আগে কখনো ছিল না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ২০০২ সালের পর থেকে ভারতের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে জয়লাভ করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল।
বর্তমানে ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিততে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন সামি।
তিনি উল্লেখ করেন, "সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এবার আমরা ভারত সফরে এসেছি। ২৪ বছর ওয়ানডে সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চাই।"
সর্বশেষ ২০০২ সালে ভারতের মাটিতে সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর থেকে ভারতের মাটিতে সাতটি ওয়ানডে সিরিজ খেলে ক্যারিবীয়রা প্রতিটি সিরিজেই পরাজিত হয়েছে।
২০২২ সালে ভারতের মাটিতে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে অংশগ্রহণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে তারা হোয়াইটওয়াশ হয়।
এবারের ভারত সফরে অতীতের রেকর্ড মুছে ফেলতে চান কোচ সামি। তিনি বলেন, "২৪ বছর ধরে আমরা ভারতে কোনো সিরিজ জিততে পারিনি। তাই এবারের ভারত সফর আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে করি, বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সামর্থ্য আছে। আশা করছি, এই দলটি এবার ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিততে সক্ষম হবে।"
ভারতীয় কন্ডিশনকে তিনি কোনো সমস্যা মনে করছেন না। সামির মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান দলটির সকল খেলোয়াড়েরই ভারতের কন্ডিশনের খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, "এই দলটির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আইপিএলে খেলেছে। ভারতের কন্ডিশন সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা আছে। তাই আমরা ভারতের কন্ডিশন নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই। আমরা যদি তিন বিভাগে আমাদের সেরা পারফরমেন্স করতে পারি, তাহলে সাফল্য আসবে।"
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিতে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কারণে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এখনও মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন
নিখোঁজদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ট্রলারটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি খুঁজে পাওয়া গেছে, কিন্তু নিখোঁজদের খোঁজ এখনও মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন- হেলালউদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজির হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং ছেলে সামিন হোসেন (৫)। তারা কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চেষ্টা চালান, কিন্তু নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করেন। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ট্রলারের সন্ধান মিললেও নিখোঁজদের খোঁজ মেলেনি। তবে ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ও নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বিয়ে বাড়িতে যান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত এবং বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অন্যদিকে, নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) এর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ। নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
আমান সিমেন্ট কম্পানির একটি ট্রলার ৮ জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হয়ে যান।
বিয়ের কনে সাজিয়া আক্তারের চাচা আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রলারডুবিতে তাদের ৪ আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া তার ফুফাতো বোন রায়েশা বেগম পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, অন্ধকারের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধান চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে শুক্রবার সকাল থেকে তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) লেবাননের প্রতিনিধি সালাম কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য বা লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনের অধিকারের ওপরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্ভর করছে।
সালাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী স্থায়িত্ব না থাকলে লেবাননেও স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। আর যতদিন এই সংস্থা (জাতিসংঘ) বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনে ব্যর্থ থাকবে, ততদিন এই অঞ্চলে কোনো শান্তি আসবে না—কমও নয়, বেশিও নয়।"
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত জাতিসংঘ সংস্থা 'আনরোয়া' (UNRWA)-র তহবিল বন্ধ বা কার্যক্রম সীমিত করার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন সালাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটিকে দুর্বল করা হলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আইনগত ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করা যাবে না।
গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে 'ভিটো' (Veto) ক্ষমতার ব্যবহারে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান সালাম। গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে একাধিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার ভিটো দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
লেবানন সরকারের একক সার্বভৌমত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সালাম স্পষ্ট জানান, যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার কেবল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ত্র থাকবে শুধুই সরকারের হাতে।
তিনি আরও বলেন, "১৯৪৯ সালের সাধারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পর্যন্ত লেবাননের সম্পূর্ণ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা আমাদের সকল বন্দির মুক্তি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণ এবং নিজ নিজ গ্রামে নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চাই।"
প্রসঙ্গতঃ ইসরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের শর্তে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণের একটি চুক্তির কথা উল্লেখ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত উদ্যোগটি বর্তমানে অনেকটাই থমকে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর এবং উপজেলা শহরগুলোতে যানজট সমস্যা বর্তমানে একটি মারাত্মক দৈনন্দিন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জেলা এবং উপজেলা শহরের প্রতিটি সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সবসময় যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের ব্যক্তিরা এসব রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি এবং সময়ের অপচয়ের শিকার হচ্ছেন। যেখানে ১৫ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে সময় লাগছে অর্ধঘণ্টা। যানজটের কারণে অর্ধঘণ্টার পথ যেতে সময় আরও বেশি লাগছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তীব্র হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা শহরগুলোর যানজটের মূল কারণ হলো—ফুটপাত দখল করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দোকানপাট এবং ভ্রাম্যমাণ দোকান। বর্ষায় রাস্তার বেহাল দশার সঙ্গে গাড়ি, ট্রাক এবং প্রাইভেট গাড়ি মেইন রাস্তায় যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে যাত্রীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার্কিং করে রাখা, সিএনজিচালিত এবং ব্যাটারিচালিত অটো-ইজিবাইক রাস্তার ওপর থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা, অনেক উপজেলা সদরে ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় আইন অমান্য করা এবং চালকদের প্রতিযোগিতামূলক চলাচল, অদক্ষ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের চলাচল প্রধান সড়কপথকে বিষিয়ে তুলেছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্কুলের সম্মুখস্থ রাস্তা, মোড়, শেরপুর জেলা শহরের কলেজমোড়, খরমপুর মোড়, নিউমার্কেট, থানামোড়, গোয়ালপট্টি মোড়, হাসপাতাল রোড এবং খোয়ারপাড়-শাপলা চত্বর এলাকায় অবৈধ পার্কিং এবং ইজিবাইক চলাচল এখন ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেকোনো মোড় এলাকায় সিএনজি স্টেশন ও ঢাকা-যাত্রীবাহী বাসের বিভিন্ন কাউন্টার রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সারাদিন অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে বারবার আলোচনা সত্ত্বেও থানা মোড় ও ধানহাটি মোড়ে পুলিশ না থাকায় সড়কে চলাচলকারী হাটুরেদের সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষের এদিকে কোনো দৃষ্টি নেই।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধানহাটি মোড় ও কলেজ মোড়ে পুলিশ থাকার কথা। আচ্ছা, আলাপ করে দেখা যাক কী করা যায়।”
শেরপুর জেলা শহরের বাসিন্দারা জানান, থানা মোড়ের রাস্তার বাম পার্শ্বে অবস্থিত তোতার অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে সোবাহান স্যানিটারির দোকানের সামনে পর্যন্ত দীর্ঘ স্ট্যান্ড তৈরি হয়ে ২৪ ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নিষিদ্ধ নছিমন-ভটভটি শহরের ভেতর দিয়ে চলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
এক ট্রাফিক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, শহরের যানজট নিরসনে ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বড় ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।
অপরদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ইজিবাইক-অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান এবং লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা শহরে প্রবেশ ও নাবালক চালকদের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো শহরের যানজট বাড়ার অন্যতম কারণ। জেলায় ৫২টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা একযোগে ইজিবাইক-অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান করছে। বর্তমানে জেলায় আনুমানিক ৪০-৫০ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-অটোরিকশা চলাচল করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ইজিবাইক-অটোরিকশার চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে আনা না হলে যানজট থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই। শেরপুর জেলা ও উপজেলা শহরের এই যানজট সমস্যা এখন জেলা ও উপজেলা শহরবাসীর জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ