০৭:১৩ এম
রান্নাঘরে পরিচিত ভেষজ পাতা পুদিনা শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্য এর নানা উপকারিতা রয়েছে। সালাদ, শরবত, চাটনি কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত পুদিনা হজমশক্তি বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুদিনায় থাকা মেনথল পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশি শিথিল করে। ফলে বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও পেটব্যথার মতো সমস্যা কমতে পারে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)–এর উপসর্গ উপশমেও পেপারমিন্ট তেল কার্যকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। নিয়মিত পুদিনা খেলে পাচক রসের ক্ষরণ বাড়ে, অ্যাসিডিটি কমে এবং হজমপ্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পুদিনার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেপারমিন্ট তেলের সুগন্ধ উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতে কাজ করে। সুগন্ধিভিত্তিক চিকিৎসায়ও পুদিনা ব্যবহৃত হয়। এর ঘ্রাণ শরীরের সেরোটোনিন ও কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা মনকে প্রশান্ত রাখতে সহায়ক।
আরও পড়ুন: যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান
তাজা পুদিনা পাতা চিবালে মুখের দুর্গন্ধ কমে এবং লালারসের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাড়ির রোগ ও মুখের জীবাণু প্রতিরোধে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে খুসখুসে কাশি, বুকে জমে থাকা কফ কমাতে পুদিনা চা বা গরম পানির ভাপও উপকারী হতে পারে।
এছাড়া, পুদিনায় থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি শরীরকে সতেজ রাখে, গরমের সময় পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কিছু গবেষণায় স্মৃতিশক্তি উন্নত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকাতেও পুদিনা রাখতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা, হাইটাল হার্নিয়া বা পিত্তথলির সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত বা অতিরিক্ত পেপারমিন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেহেতু উপকার পাওয়ার জন্য পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পুদিনা খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: সামা টিভি
আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন