ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিয়াদের পর বিমানের দাম্মামগামী ফ্লাইটও ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত


রিয়াদের পর বিমানের দাম্মামগামী ফ্লাইটও ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রিয়াদের পর, বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ফ্লাইটের জন্য পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সতবিন্দর ও হরজিৎ: ভারতকে না জানিয়েই যাদের শিরচ্ছেদ করল সউদী

এর আগে, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। সোমবারের ঘোষণায় দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ঘটে গত শনিবার। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৩ জন নিহত হন। আহত এক বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার পর ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল হতে শুরু করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড. ইউনূসকে হয়রানির নিন্দা জানালেন সাবেক ১২ উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


ড. ইউনূসকে হয়রানির নিন্দা জানালেন সাবেক ১২ উপদেষ্টা

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, তাকে হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং শারীরিকভাবে হেনস্থার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই নিন্দার কথা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে সই করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, ড. এম. ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, ইউবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় জিয়া সৈনিক দলের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় জিয়া সৈনিক দলের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ থেকে উপজেলা জিয়া সৈনিক দলের উদ্যোগে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি খাইরুল ইসলাম রনির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মনসুরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আলফাডাঙ্গা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান, জিয়া সৈনিক দলের ফরিদপুর জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মহসিন শেখ, আলফাডাঙ্গা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন, জিয়া সৈনিক দলের পৌর শাখার সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জুয়েল ও উপজেলা জিয়া সৈনিক দলের সদস্য হাসিবুল হাসান লাভলু।

বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সাংগঠনিক দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় বিএনপি, যুবদল, জিয়া সৈনিক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ পি.এম


ঢাবিতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে সেমিনার, মানসিক স্বাস্থ্য মেলা, কাউন্সেলিং সেবা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘লিভড এক্সপেরিয়েন্স হিয়ারড : রিয়েল ভয়েসেস, রিয়েল চ্যালেঞ্জ’।

এ উপলক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের নাসিরুল্লাহ ফাউন্ডেশন কনফারেন্স হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি (বিসিপিএস) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মন্তব্য করেন, জীবনের নানা অনিশ্চয়তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমাজ ও জাতীয় উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি সবার জন্য মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আজ ক্যাম্পাসের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্জন হল, টিএসসি, বিজয় একাত্তর হল এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের এম.এস, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি গবেষকগণ বিভাগীয় শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফ্রি মেন্টাল হেলথ অ্যাসেসমেন্ট ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করেন। এছাড়া, আগামী ১৬, ১৭, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধনের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধনের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে বিরোধী দল অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না, এমনটি জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন গ্রহণ করুক। বিরোধী দলকে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আলোচনায় অংশ নেয়। তবে তারা একান্তই না এলে আমাদের সাংবিধানিক সংশোধন তো নিতেই হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকার এখন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দিলে তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিফলিত করা যায়, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা অতিরিক্ত নমনীয়তা—কোনোটিই যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত এসেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় মতামত এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত দেবেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ অংশে থাকা কিছু নীতি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নযোগ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বা উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষে কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, প্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না—এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত লিখিতভাবে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শোনা, তা রেকর্ড করা এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রাখতেই দিনব্যাপী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিয়া লুৎফা, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেসার ইউ আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির সভাপতি বলেন, শিক্ষাবিদদের লিখিত ও মৌখিক মতামত পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে কমিটিতে আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রয়োজন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয় সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%