মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে বিরোধী দল অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না, এমনটি জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন গ্রহণ করুক। বিরোধী দলকে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আলোচনায় অংশ নেয়। তবে তারা একান্তই না এলে আমাদের সাংবিধানিক সংশোধন তো নিতেই হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার।’
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকার এখন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দিলে তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন।
বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিফলিত করা যায়, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা অতিরিক্ত নমনীয়তা—কোনোটিই যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত এসেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় মতামত এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত দেবেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ অংশে থাকা কিছু নীতি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নযোগ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বা উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষে কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, প্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না—এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত লিখিতভাবে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে কমিটিতে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শোনা, তা রেকর্ড করা এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রাখতেই দিনব্যাপী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিয়া লুৎফা, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেসার ইউ আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সভাপতি বলেন, শিক্ষাবিদদের লিখিত ও মৌখিক মতামত পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে কমিটিতে আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রয়োজন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয় সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে শুধু কোনো সংগঠন বা গ্রুপের ওপর নির্ভর না করে, যুগোপযোগী চিন্তাভাবনা, দক্ষতা ও সাহসী লেখনীর মাধ্যমে নিজেকে একজন যোগ্য ও দক্ষ সংবাদকর্মী হিসেবে গড়ে তুলুন।
নিউজ টু নারায়ণগঞ্জ—একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। নারায়ণগঞ্জসহ সমগ্র বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে পোর্টালটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সার্ক স্টিকার ভিসা প্রাপ্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
নিজের দক্ষতা বাড়ান, কলমকে শক্তিশালী করুন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় এগিয়ে চলুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, "সরকারকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "এই গাড়ির চাকা ও ইঞ্জিন নেই। দক্ষ চালক হলেও এই গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে।"
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণ বিষয়ক কমিটি ‘জুলাই গণহত্যার বিচার : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমরা চেয়েছিলাম, রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন হবে। সবাই ন্যায়সংগতভাবে সমান আচরণ পাবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, শুধু চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "কেউ এমপি হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে অনেকের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন হয়নি।" তিনি বলেন, "ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমানকে বসানো হয়েছে। এই গাড়ির ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং ও চাকা ঠিক না থাকলে যত দক্ষ চালকই হোন না কেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না।"
বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তিনি মন্তব্য করেন, "বিএনপির মুখে জুলাই, কিন্তু অন্তরে আওয়ামী লীগ—এমন একটি সম্পর্ক দেশের রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে।" তিনি বলেন, "দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে আসা নতুন অংশের পার্থক্য রয়েছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখন দলের ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছেন না।" তিনি আরও বলেন, "অন্যদিকে, নতুন করে বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।" তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, "ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করে অনেক মামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "পরে এসব মামলাকে অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।"
এনসিপির এই নেতা বলেন, "বাংলাদেশের থানাগুলোতে হওয়া মামলাগুলোর কয়টির চার্জশিট হয়েছে, সাংবাদিকদের কাছে সেই প্রশ্ন রাখতে চাই।" তিনি বলেন, "আমরা বারবার বলেছি, দ্রুত চার্জশিট দেন। প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়ে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের ব্যবস্থা করেন।"
তার অভিযোগ, "মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।" তিনি মনে করেন, "এসব মামলার দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া জরুরি।"
সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, "সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বললেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা অর্জন করা কঠিন।" তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে আসার কথা বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি অভিযোগ করেন, "কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ বণ্টনে সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।" তিনি সার ও অন্যান্য পণ্যের ডিলারশিপ বণ্টন এবং সরকারি ঠিকাদারি কাজেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সম্পদ বৃদ্ধি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, "সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।"
আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রশ্নে হাসনাত বলেন, "শুধু ব্যক্তি বিশেষের বিচার নয়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি অভিযোগ করেন, "আওয়ামী লীগ এখনো দল হিসেবে অতীতের অপরাধ স্বীকার করেনি।"
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আওয়ামী লীগ কি কোথাও স্বীকার করেছে যে তারা অপরাধ করেছে? অপরাধ স্বীকার না করে পুনর্মিলনের আলোচনা কীভাবে আসে?" তিনি বলেন, "গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনতে হবে।"
দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, "দেশটির বর্ণবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ন্যাশনাল পার্টির রাজনৈতিক পরিণতি বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টি দেখতে হবে।" তিনি এ সময় দাবি জানান, "আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ করা, আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা এবং পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার।"
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "দীর্ঘদিন নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও অনেক নেতাকর্মী এখনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত।" তিনি অভিযোগ করেন, "অন্যদিকে, তাদের দলের প্রভাবশালী নেতাদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছেন।"
তিনি বলেন, "বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। বিএনপি সরকারের যত বড় মন্ত্রীই হোন না কেন, তাদের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে এবং দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে, ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সচিবালয়ে আগুন লাগার খবর ফায়ার সার্ভিসে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের সিলিংয়ে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু, ইউনিটটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার চেয়ে জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদি গ্রামের বড় খান বাড়ীর মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জেলেরা যদি মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সচেতন না হন, তাহলে ২৫ কেজি কিংবা ১০০ কেজি চাল দিলেও ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে আগামী বছরের ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সরাসরি ইলিশ আহরণের সঙ্গে জড়িত। ফলে ইলিশের জীবনচক্র, প্রজনন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে আপনাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে আগামী বছরও ইলিশ পাওয়া যাবে। তাই মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই সবচেয়ে বেশি।
মন্ত্রী বলেন, জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ও জেলেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি জেলেদের নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে, যার সুফল জেলে পরিবারসহ দেশের মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ভোগ করবেন।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট এ কে এম সেলিম উল্যা সেলিম। এ সময় স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ