০৮:২০ এম
খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রধান অবলম্বন হচ্ছে খালগুলো, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো দখল, ভরাট ও দূষণে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের দাবি করা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।
বুধবার (১০ জুন) সরেজমিনে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে, এক সময়ের প্রমত্তা বাস্তুহারা খাল এখন হয়ে গেছে বর্জ্য ও কচুরিপানার ভাগাড়ে। ড্রেন ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের এই প্রধান পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বাস্তুহারা খালের পাশাপাশি তালতলা, রায়ের মহল-মোল্লাপাড়া বাটকেরি, নিরালা ও কারিকরপাড়া খালের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। অনেক স্থানে খালের জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। কোথাও কোথাও খাল এতটাই সংকুচিত হয়ে গেছে যে সেটিকে এখন সরু ড্রেন বলে মনে হচ্ছে। ময়ূর নদে পানি পড়ার পথগুলো বর্জ্যের স্তূপে রুদ্ধ হয়ে আছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
নিরালা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার জানান, আগে পানি দ্রুত নামলেও এখন মাত্র কয়েক ফোঁটা বৃষ্টিতেই পানি উপচে সড়কে চলে আসে। বছরের পর বছর ধরে খাল খননের কথা শোনা গেলেও তার বাস্তবিক প্রতিফলন দেখা যায় না।
গৃহিণী শিউলি বেগম অভিযোগ করেছেন, খালের মুখ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণে বর্ষা এলেই ঘরে পানি প্রবেশ করে। তালতলা এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, 'খাল খননের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে পানি চলাচলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দোকানপাটে পানি ঢোকার শঙ্কা থাকে।'
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে কেবল খাল খননেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা। তবে পরিবেশবাদী ব্যক্তিরা এই ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, 'খাল পুনরুদ্ধারের জন্য বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।'
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট খাল রক্ষার বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবিরুল জব্বার জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে টেকসই সুফল পেতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সম্প্রতি বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে খুলনার ২২টি খালের মধ্যে ১৬টির দায়িত্ব রয়েছে কেসিসির এবং বাকি ৬টি খালের দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের। বর্ষা সমাগত হলেও এই দুটি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের অভাব এবং খালের বেহাল দশা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন