রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৪ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তিতাস নদীর তীরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিতাস নদীর বুকে এই ঐতিহ্য ফিরে আসায় নদীর পাড়ে মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
হরিপুর জমিদার বাড়ি পয়েন্টে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, "গ্রাম বাংলার পুরনো ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। হাজার হাজার মানুষ এই নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। এটি আমাদের বাংলার ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর আমাদের এলাকার সকলের সহযোগিতায় এই নৌকা বাইচ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।" ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান।
উদ্বোধনের পর রঙিন পোশাক পরিহিত মাঝিমাল্লারা তাদের সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে বাইচে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। প্রতিযোগিতাটি হরিপুর জমিদার বাড়ি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের নরহা গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ছয়টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকা বাইচ তিতাসের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ এই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে হরিপুর তিতাস নদীর পাড়ে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। দুপুর থেকেই নদীর পাড়ে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত নৌকা ও মাল্লার বাইচ শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। পুরো সময়জুড়ে নেচে-গেয়ে, হেইও হেইও ধ্বনিতে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। নৌকা বাইচে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী এই নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির সভাপতি তিতন ফকিরের সভাপতিত্বে হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজয়ী 'সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ক্ষমতাপুর শাপলা ভয়েজ ক্লাব' দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এম এ হান্নান। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ এরফান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার(ভূমি) চৌধুরী বিশ্বনাথন আনন্দ, থানার অফিসার ইনর্চাজ(ওসি) শাহিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামাল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আর্টিন ফার্নিচারের চেয়ারম্যান ইয়াসিন হোসাইন রুমানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অফিসের প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার একটি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পলাশ পাল। সরকারি দপ্তরের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি নান্দনিক ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন। পানছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসের ছাদজুড়ে সারি সারি টব ও বিভিন্ন আকৃতির পাত্রে শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির ফুল, ফলজ ও সবুজ গাছ। এই সবুজ পাতার সমারোহের সঙ্গে ফুটে থাকা বাহারি ফুলে পুরো ছাদ পেয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। ব্যস্ত কর্মঘণ্টার ফাঁকে এই সবুজ বাগান এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশান্তির এক ছোট্ট ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, পরিবেশবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেও এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিমত, সরকারি একটি দপ্তরের ছাদে এমন বাগান অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকেও অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে বাগান তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, শহর ও উপজেলা পর্যায়ে দিন দিন সবুজ জায়গার পরিমাণ কমে আসছে। এ অবস্থায় ভবনের ছাদে ফুল, ফল ও সবুজ গাছ লাগানোর উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে মনোরম ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পলাশ পালের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অব্যবহৃত ছাদকে সবুজে সাজিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, ইচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে ছোট পরিসরেও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করা সম্ভব। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পানছড়ির এই ছাদ বাগান শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং সবুজ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদী রক্ষা ও নদীর প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর আহ্বানে পিরোজপুরে বিশ্ব নদী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নদীবন্ধু সমাজের উদ্যোগে আলোচনা, নদীর কবিতা ও গান, বর্ণাঢ্য পদযাত্রা এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
দামোদর ব্রিজ সংলগ্ন বাংলাদেশ নদীবন্ধু সমাজের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণ কৃষ্ণ বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা স্কাউটসের সম্পাদক, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব পিরোজপুরের সভাপতি এবং বাংলাদেশ নদীবন্ধু সমাজের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনায়েত কবির খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চ্যানেল আই ও দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি এবং পিরোজপুর কণ্ঠের সম্পাদক ফসিউল ইসলাম বাচ্চু।
আলোচনায় নদীবন্ধু জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী রতন, লোকমান হোসেন, হাসনেয়ারা হক, মনিরুল আলম সেলিম এবং কবি সমর কৃষ্ণ হালদার, দেবনাথ মন্ডল, দেলোয়ার হোসেন আলম, দিলীপ কুমার মিস্ত্রী ও নাহিদ সরদার অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, নদী শুধু জলধারা নয়; নদী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নদী দখল, দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। নদী রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নদীবন্ধু শামীম আহমেদ জালাল, কবি অপূর্ব রায় চৌধুরী, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সসস্ত্র বাহিনী পরিষদের সদস্য মো, জাকির হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলী টিপু, কবি ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক, কবি পলি, সুমনা বেপারি , সিনথিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঐকতান সঙ্গীত একাডেমির ব্যানারে সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন কবি ও সাংবাদিক সুমন বেপারী ও তবলা শিল্পী দীপু নন্দী। নদীর গান পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন কণ্ঠশিল্পী পূজা রাণী সেন। নদীর কবিতা ও গানে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
পরে নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রা শেষে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নদী সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকেরা বলেন, নদীর স্রোত বাঁচলে বাঁচবে প্রাণ-প্রকৃতি; নদী রক্ষার দায়িত্ব তাই শুধু কোনো একটি সংগঠনের নয়, সবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার দেওয়ানপাড়ায় অবস্থিত জে.এস.এন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেছেন ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের সাংসদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইঁয়া। এই ভবনটি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এবং এর প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিলো ২ কোটি টাকা। শুক্রবার দুপুরে, দেওয়ানপাড়া জে.এস.এন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনের মাধ্যমে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিএইচটি মিশনারী বুড্ডিস্ট মংক অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি রাজগুরু ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের। প্রধান অতিথি সাংসদ ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, "শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।" তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসময় সাংসদ দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে সলিমপুরে, যা শুধুমাত্র ফগিংয়ের মাধ্যমে নয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার, মশক নিধনে ফগিং এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ‘সচেতন হই, পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
শনিবার সকালে লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বাড়িঘর ও আশপাশে মশক নিধনে ফগিং করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচি পরিদর্শনকালে আসলাম চৌধুরী ফগিং কার্যক্রম দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফগিং মূলত উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে সাময়িক ভূমিকা রাখে। তবে বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে থাকা লার্ভা ধ্বংস না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মশার বিস্তার ঘটতে পারে। এ কারণে বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং উৎসস্থল ধ্বংসকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৭ জন। এর মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর-মাত্র ১৫ দিনে মারা গেছেন সাতজন। মৃতদের মধ্যে তিনজন শিশু। সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছে। ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, জেলেপাড়া, বাড়বকুণ্ড, ফুলতলা, বার আউলিয়া ও কলেজ রোডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে সাত দিনের সরকারি ক্র্যাশ প্রোগ্রামও শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ১৬টি ফগার মেশিন ও কারিগরি দল মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় ফগিংয়ের পাশাপাশি এডিসের সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, কয়েক দিনের অভিযান বা ফগিংয়ে স্থায়ীভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। একটি এলাকায় অভিযান চালানোর পর অন্য এলাকায় যদি পানি জমে থাকে, পরিত্যক্ত পাত্র পড়ে থাকে কিংবা নালা-নর্দমা অপরিষ্কার থাকে, তাহলে সেখান থেকেই এডিসের বংশবিস্তার ফের শুরু হতে পারে। তাই সরকারি অভিযানের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার আশপাশের পরিবেশেও এডিসের প্রজননস্থল রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি।
সীতাকুণ্ডে এখন সরকারি ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি সলিমপুর থেকে শুরু হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক উদ্যোগ। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ ফগারের ধোঁয়া নয়, এডিসের জন্মস্থল কতটা নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা যাচ্ছে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। এক দিনের অভিযান শেষ হয়ে গেলে যদি জমে থাকা পানি ও পরিত্যক্ত পাত্র পড়ে থাকে, তাহলে মশার বংশবিস্তারও থামবে না। তাই সাময়িক মশক নিধনের পাশাপাশি ধারাবাহিক উৎসস্থল ধ্বংস ও জনসম্পৃক্ততাই সীতাকুণ্ডের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ