পারভিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জেলা,
০৩:৩৫ পি.এম
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার অন্তর্ভুক্ত পাইকপাড়া কবরস্থানের মিঝুর অবৈধ কারেন্ট জলের সরঞ্জাম তৈরি কারখানায়, মোহাম্মদ আল আমিন নামে, কর্মচারীর হাতের কব্জির উপরে ৩০ টন ওজনের অটোমেটিক বলপাসার চাপে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে,
বর্তমানে আলামিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, ডাক্তারের বক্তব্য আল আমিনের এই হাত আর কখনো কাজ করার ক্ষমতা থাকবে না,
মিঝুর কারখানার মালিক, মারাত্মক জখম কর্মচারী আল-আমিনকে, দশ হাজার টাকা দিয়ে দাস সারার পায়তারা শুরু করেছে,
এইদিকে আলামিনের পরিবার, উক্ত ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করতেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া স্বপনের সহধর্মিণী মরহুমা মেহজাবিন আক্তারের নামাজে জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা আলিপুর গোলপুকুর ড্রিম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজায় ফরিদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জানাজার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় মরহুমার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন তার স্বামী ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি জনাব বেনজির আহমেদ তাবরিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পরে পূর্ব খাবাসপুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ আব্দুল কাইয়ুম দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী সোমবার বাদ আসর পূর্ব খাবাসপুর জামে মসজিদে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
জানাজা শেষে মরহুমা মেহজাবিন আক্তারকে আলিপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সূত্র থেকে জানা গেছে যে, শনিবারের পরীক্ষাটি স্থগিত হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বন্যা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মতামত বিবেচনায় নিয়ে বিকেলের মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষা বোর্ডগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ করে আজ বিকেল ৪টার মধ্যেই পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শনিবারের আলিম পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার মন্তব্য এসেছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক), আলিমের ইংরেজি প্রথম পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের হিসাববিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২ বিষয়ের পরীক্ষা।
এর আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক এলাকায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবের পরে রোদ ওঠার খবর পাওয়া গেছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি এবং হাটহাজারীসহ বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বাঁশখালী উপজেলায় দৃষ্টান্ত ভিন্ন দেখা গেছে। সেখানে যদিও পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করেছে, উপকূলবর্তী খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া এবং সরলসহ আটটি ইউনিয়নে উল্টো পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২১২টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এক লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী, গত চার দিন ধরে অধিকাংশ ঘরে রান্নার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেক পরিবার নারী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেলেও ঘরের মালামাল পাহারা দিতে পুরুষ সদস্যরা বুক সমান পানিতে অবস্থান করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু অতিরিক্ত পানির চাপে পুরো এলাকা এখনও প্লাবিত। সরকারিভাবে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামের যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন ভেসে উঠছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ভেঙে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং মাছের খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি কমায় শহরের এলাকা থেকে পানি নামছে এবং মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু দীঘিনালা-লংগদু, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি এবং সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও পানির নিচে রয়েছে, যার ফলে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এবং একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করে খুব ঝুঁকির মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির ধীর উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কসহ রুমা, রোয়াংছড়ি এবং থানচির সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি আগের তুলনায় কমে এলেও আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মনে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়িতে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটি ও মহালছড়ির যোগাযোগ এবং দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক ও লংগদু উপজেলার যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন আছে। এছাড়াও, আশ্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে কিছু লোক খাগড়াছড়ির বাড়িঘরে ফিরলেও, স্থানীয় লোকজন দুর্ভোগে পড়ছে।
কৃষি বিভাগের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, দীঘিনালায় মাইনি নদীর পানি বর্তমানে অপরিবর্তিত থাকলেও, চেংগী নদীর পানি নামতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আউশ ধান ১৩৮ হেক্টর, আমান বীজ তলা ২০২ এবং ১৪৩ হেক্টর সবজি ক্ষতি হয়েছে। খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটি ও মহালছড়ির যোগাযোগ এবং দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক ও লংগদু উপজেলার যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন আছে।
এদিকে, বৃষ্টিপাত থেমে থেমে অব্যাহত থাকায় আবারও বাড়তে পারে চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি। খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখনও পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্যে খাগড়াছড়ির শালবন, সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়িতে মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোতে দুর্গত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে জেলা পরিষদ ও জেলা বিএনপিও পৃথকভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ