বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫২ এম
ডেনমার্কের বিভিন্ন কোম্পানিতে রাশিয়া নাশকতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে, যা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদান বন্ধ করার জন্য পূর্বের বড় পরিসরের কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বুধবার ডেনমার্কের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে ওই কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। তিনি ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ মস্কোর ছায়াযুদ্ধের বড় ধরনের বিস্তারকে নির্দেশ করছে।
তিনি বলেন, ‘বসন্তকালে আমরা অনেক পরিকল্পনা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন খুবই কম হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে আমরা লক্ষ্য করেছি, তারা অনেক বেশি তৎপরতা শুরু করেছে।’
রাশিয়া বুঝতে পেরেছে যে, তাদের পূর্বের বিস্তৃত লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে বাধা দিতে পারেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, মস্কো এখনো এসব অভিযানের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তবে তাদের অভিযানের সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া এখন ‘এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার চেষ্টা করছে, যার সরাসরি প্রভাব যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পড়ে। এর অর্থ অস্ত্র উৎপাদন।’ নাশকতা বা ছায়াযুদ্ধের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রাশিয়া বারবার অস্বীকার করেছে। বুধবার কোপেনহেগেনে রুশ দূতাবাসও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা দাবি করেছে, ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তালিকার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এপ্রিলে রাশিয়া বলেছিল, এসব প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়া ক্রমশ প্রশিক্ষণহীন লোকজনকে এসব কাজে নিয়োগ করছে। তাদের মধ্যে গৃহহীন মানুষ এবং মাদকাসক্তরাও রয়েছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত খুব সহজ কাজের মাধ্যমে এসব লোককে কাজে নেওয়া হয়, যেমন কোনো স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা বা ছবি তোলা। পরে ধীরে ধীরে তাদের প্রকৃত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন যে কেউ হতে পারে, যে দ্রুত কিছু টাকা আয় করতে চাইছে। প্রথম ব্যক্তি সফল না হলে, তারা আরেকজনকে কাজে লাগাবে। সফল না হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা গত মাসে জানায়, আগামী কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে আগস্টে জার্মানি লেইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেনমার্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে, দেশটির ছয়টি বিমানবন্দরে ড্রোনের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে কোপেনহেগেন বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নর্ডিক অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ওই ঘটনাকে তার দেশের বিরুদ্ধে একটি ছায়াযুদ্ধের হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আজ দিল্লিতে বিরোধীরা আবারও এক বিশাল বিক্ষোভে অংশ নিতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগদান করবেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কিছু বিরোধী দলের নেতাকে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আজকের বিক্ষোভের জন্য বিরোধী ইন্ডিয়া (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স) জোট আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলো একত্রে বিক্ষোভে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এ সময় সংসদ সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে বাসগুলো অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু দিল্লির অশোক রোডে শাংরি-লা হোটেলের কাছে বাসগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়। এই স্থান যন্তর মন্তর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এরপর ভারতের রাজধানীতে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। যন্তর মন্তরে যেতে না পেরে বিরোধী নেতারা সেখানে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং সিইসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।
বুধবারের সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বাধা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আরও বড় বিক্ষোভের ঘোষণা করেছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা।
বুধবারই বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতারা জানিয়েছেন, এবারের আন্দোলনে আরও বেশি সংখ্যক সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করবেন।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মূল অভিযোগ হলো, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কমিশন এমন একটি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে বিরোধীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন তাদের উদ্বেগ যথাযথভাবে আমলে নিচ্ছে না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এই কারণেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতা আটক হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ইন্ডিয়া জোট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় বিরতিহীনভাবে রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে একটি সম্পূর্ণ ‘উন্নত ভারত’-এ রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানের সময় দেশবাসীকে ‘আমরাই করব’ মনোভাব ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ভারতের থমকে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ বা কারণ নেই। এক শতক আগে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম, আর আজ আমরা ১৪০ কোটি। এই ১৪০ কোটি নাগরিক মিলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলব—এটি নিশ্চিত। আমরা তা করেই ছাড়ব।’
২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির একটিতে উন্নীত করার, বৈশ্বিক ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে স্বাবলম্বী হওয়ার, অলিম্পিক গেমসের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে অংশ নেওয়ার এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর বিষয়গুলোকে তিনি তুলে ধরেন।
দেশের মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমার কাছে দেশের জনগণই ঈশ্বর, আর কঠোর পরিশ্রমী বিজেপি কর্মীরাই আমার মূল শক্তি।’
তিনি আরো বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছেন এবং সমালোচকরা তাকে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে শিখিয়েছেন।
নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘পঁচিশ বছর আগে, ৫০ বছর বয়সে আমার সময় কাটত বনাঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সেবা করে এবং পাহাড়ের সান্নিধ্যে। পরবর্তীতে আমি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাজের পথ বেছে নিই। আমার রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে ছিল কেবল একজন সাংগঠনিক কর্মীর কাজ। আমি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি।’
নির্বাচনী রাজনীতিতে তারকা হওয়ার কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা তার ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী রাজনীতিতে আলো ছড়ানোর মানসিকতা থাকলে আমি অনেক আগেই মাঠে নামতাম। জীবনে কী হবো বা আমার ভবিষ্যৎ কী—তা নিয়ে থামার সময়ও আমার ছিল না। আমার জীবনের একমাত্র দর্শন হলো—শৈশব থেকে আমাকে যা শেখানো হয়েছে, তা হলো কোনো মিশন বা লক্ষ্যের জন্য বাঁচা, কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়।’
নিজের সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যা একসময় অকল্পনীয় বলে মনে হতো, তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশে ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনার বিষয়টি এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২৫ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি এখন বলতে পারেন যে, ভারতের এই বৈপ্লবিক রূপান্তর সবার চোখের সামনেই ঘটছে।
বক্তব্যে ফ্লাইদুবাইয়ের সাহসী ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন মোদি। ককপিটে কো-পাইলটের ছুরিকাঘাত সত্ত্বেও ইসরায়েলগামী বিমানটিকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করায় স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে মোদি বলেন, ‘আজ পুরো বিশ্ব ভারতের এই পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একদিন এমন আসবে যখন পুরো বিশ্ব ভারতে তৈরি (মেড ইন ইন্ডিয়া) বিমান নিয়েও কথা বলবে।’
ভোটের রাজনীতি এবং সামাজিক বিভাজনকে ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন স্লোগান দেন। তিনি বলেন, “যখন একজন কৃষকের ক্ষেতে পানির অভাব হয়, তখন সেই সমস্যা কি কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতির ওপর পড়ে? যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন কি অন্ধকার কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে? উত্তর হলো ‘না’। সুতরাং সমস্যা যদি সবার হয়, তবে তার সমাধানও হতে হবে সবার জন্য।”
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার দিনে ২৫ বছরের এই দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন জনসেবার যাত্রার মাইলফলক ছোঁবেন বলে কখনো ভাবেননি বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেদারল্যান্ডসে মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে মাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটি, যা ইউরোপের একটি জনপ্রিয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে NL-High Potential Scholarship-এর আওতায় ১৮টি পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি প্রদান করা হবে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
ভার্সিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৃত্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি, ভিসা, স্বাস্থ্য ও দায়বদ্ধতা বিমাসহ বিভিন্ন খরচ বহন করবে। শিক্ষার্থীদের মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ ইউরো জীবনযাপনের জন্য দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য বৃত্তির মেয়াদ ১৩ মাস। এই সময়ের মধ্যে জীবনযাপনের জন্য মোট ২০ হাজার ১৫০ ইউরো প্রদান করা হবে। দুই বছরের মাস্টার্সের ক্ষেত্রে মেয়াদ ২৫ মাস এবং জীবনযাপনের জন্য মোট ৩৮ হাজার ৭৫০ ইউরো দেওয়া হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
ইউ/ইইএ, সুইজারল্যান্ড ও সুরিনামের বাইরের দেশের নাগরিকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স ১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ তারিখে ৩৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না।
এছাড়া, আগের শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল থাকতে হবে। সর্বশেষ একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে ১০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৭.৫ জিপিএ থাকতে হবে, যা ১০০ নম্বরের হিসাবে অন্তত ৭৫ শতাংশের সমতুল্য।
আবেদনকারীকে মাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটি-এর বৃত্তিতে অংশ নেওয়া কোনো পূর্ণকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন সম্পূর্ণ করে সব ভর্তি-শর্ত ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পূরণ করতে হবে।
যারা আগে নেদারল্যান্ডসে কোনো ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, তারা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তবে সেখানে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
কী সুবিধা মিলবে
বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, ভিসা আবেদন এবং স্বাস্থ্য ও দায়বদ্ধতা বিমার খরচ বহন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আবাসনের ব্যবস্থা করবে।
তবে বরাদ্দ করা আবাসন গ্রহণ করা বৃত্তির বাধ্যতামূলক শর্ত। দুই বছরের মাস্টার্সে দ্বিতীয় বছরের বাসস্থানের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে নিজেকেই করতে হবে।
বিমান টিকিটের খরচ বৃত্তির আওতায় নেই। এ ছাড়া বাসস্থানের জন্য আনুমানিক ৭৫ ইউরোর ক্লিনিং ফি শিক্ষার্থীকে দিতে হবে।
আবেদনের সময়
মাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটি এর তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট CET পর্যন্ত।
তবে বৃত্তির জন্য বিবেচিত হতে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন ও সব প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ ডিসেম্বর ২০২৬।
আবেদনের সঙ্গে CV, Motivation Letter, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, আর্থিক প্রয়োজনের বিবৃতি এবং একজন অধ্যাপক, লেকচারার বা নিয়োগকর্তার Reference Letter জমা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি। মোট আবেদনকারীর মাত্র প্রায় ২ শতাংশ এই বৃত্তি পান।
বাছাই শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে তাদের আবেদনের বিষয়ে জানানো হবে। বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগস্ট ২০২৭-এর প্রথম সপ্তাহে দুই সপ্তাহের বাধ্যতামূলক Pre-Academic Training-এ অংশ নিতে হবে। বিস্তারিত জানুন এখানে ...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার একদিন পর, পুকুরপাড় থেকে মো. মারুফ (২১) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারুফ ওই এলাকার মো. রিপনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে নিজের মোবাইল ফোনটি ভেঙে পেলে। পরে তার জামা কাপড় একটি ট্রাভেল ব্যাগে বহন করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মারুফ। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে, ডার কোন সন্ধান পাননি।
বুধবার রাতে বাড়ির পাশে ধানখেত সংলগ্ন পুকুরপাড়ে মারুফের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে, স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হযরত আলী মিলন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, গলায় গামছা বাঁধা লাশটি পুকুর পাড ও ধানখেতের মধ্যে পড়ে আছে। গামছার একটি অংশ পুকুর পাড়ে গাছের ঢালেরৈ মধ্যে বাঁধা ছিল, ওপর অংশ লাশের গলায় পেঁচানো ছিল। গলায় থাকা গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানখেতে পড়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ