০৬:৫৬ পি.এম
বিরোধী দলীয় প্রধান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আন্দোলনের জন্য ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে এ আহ্বান জানান।
সমাবেশে জামায়াত আমির সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "ভালোয় ভালোয় আমাদের দাবি মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে, শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কিভাবে হাঁটতে হয়।"
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তিনি বলেন, "এখন যারা সরকার গঠন করেছে, তারাও মজলুম ছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন। সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন।"
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, "আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করবো না। জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করবো না। ১৮ crore মানুষের সঙ্গে বেইমানি করবো না।"
জামায়াতের আমির আরও বলেন, "আমরা গণভোটকে অপমান করতে দেব না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চায় না।"
বিরোধী দলের প্রধান বলেন, "সমাজের সব ক্ষেত্রে সরকার বেপরোয়া, নির্লজ্জ, দলীয়করণ করছে। দুর্নীতিকে তারা জাতীয়করণ করতে যাচ্ছে। জনগণ এটা মানবে না। শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছে। যদি আপনারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তাহলে আপনাদেরকেও জনগণ তাড়াবে। আপনাদেরকেও ছেড়ে জনগণ কথা বলবে না।"
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
ডা. শফিকুর রহমান এরপর বলেন, "আন্দোলনের জন্য ডাক আসবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়তে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজ দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।"
তিনি সিলেটের উন্নয়নকে অবহেলিত উল্লেখ করে বলেন, "সিলেটের মানুষের কিছু ন্যায্য দাবি যুগ যুগ ধরে ঝুলে আছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে নামে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। এখনো তা পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। আমরা সংসদে বলেছি সমুদ্রের ঢেউ উপলব্ধি করার জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার দরকার নাই। ঢাকা থেকে সিলেট গেলেই তা বুঝা যাবে। আমরা চাই অবিলম্বে এই সড়কের কাজ সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া হোক।"
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক्रमের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুমিনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন