১০:৪৫ এম
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ পরিচালনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামক প্রকল্পের অধীনে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু এবং একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাওয়ার পর, এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ বলে উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা, দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন, এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি আঙ্কারার সমর্থনের সমালোচনা করা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি কুর্দিদের হত্যা করেছেন, হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং সাইপ্রাসের একটি অংশ দখল করে রেখেছেন। অনেক সাংবাদিক এবং রাজনীতিকের বিরোধিতার কারণে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় আরও বলেছে যে, এরদোয়ান এখন তাঁর আগ্রাসন সিরিয়ান ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে দিতে চান, কিন্তু ইসরায়েল তা মেনে নেবে না। তুরস্ক আন্তর্জাতিক আইনের নানা প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে এই উদ্যোগেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের নেতা ও সেনাদের ভয় দেখানোর জন্য এরদোয়ানের এই প্রচেষ্টা মোটেও কার্যকর হবে না। ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র ‘সত্যিকারের গণতন্ত্র’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে, তুরস্কের আইনমন্ত্রী আকিন গুরলেক নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা আফেক মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন।
‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামের প্রকল্পের ওপর সশস্ত্র অভিযান চালানোর অভিযোগে ইস্তাম্বুলের একটি ফৌজদারি আদালত নেতানিয়াহু এবং মোস্কোভিচদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই মামলায় মোট ৩৫ জন আসামি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস সামরিক অভিযান চালানোর। তুরস্কের আইনমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই বিষয়টি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচকে আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের প্রত্যর্পণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
২২ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাদের আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। গুরলেক বলেছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।
ইস্তাম্বুলের ফৌজদারি আদালতে চলমান মামলায় নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচ সহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। গুরলেকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদনও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এছাড়া, তুরস্কের আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, গাজায় গণহত্যার নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা কোনো প্রকারের জবাবদিহি থেকে রেহাই পাবেন, এমন রূঢ় ধারণা তুরস্ক গ্রহণ করবে না। গাজায় সংঘটিত অপরাধগুলো ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না এবং এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এই ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তুরস্কের অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের আটক ও আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুতর অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর লুটপাট এবং পরিবহন যানবাহন ছিনতাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন