০৫:২১ এম
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সূচনাতেই ফ্রান্স নিজেদের বিধ্বংসী শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। সুইডেনকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে তারা অনায়াসে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফ্রান্স এই বিপর্যয়কর আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করেছে।
ফ্রান্সের জয়ের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল দিয়েছেন। এই জোড়া গোলের ফলে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চের সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির আরও কাছে পৌঁছে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম) ফ্রান্স শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের আক্রমণের গতি, বলের দখল এবং সুযোগ তৈরি সবকিছুর ক্ষেত্রে সুইডিশদের তুলনায় তারা অনেক এগিয়ে ছিল। প্রথম ৪৫ মিনিটে, সুইডেন ৩টি শটের বিপরীতে ফ্রান্স ১৫টি শট নিয়েছে।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড
ম্যাচের শুরুটা ফ্রান্সের জন্য আবেগময় ছিল। মায়ের মৃত্যুর কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না কোচ দিদিয়ের দেশম। আজ তিনি ডাগআউটে ফিরতেই প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) উসমান দেম্বেলের সঙ্গে দুর্দান্ত একটি ‘গিভ অ্যান্ড গো’ থেকে সুইডিশ ডিফেন্ডার ভিক্টর ইয়োকেরেসকে বোকা বানিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। গোল করার পর এমবাপ্পে উদ্যাপন না করে ডাগআউটের দিকে ছুটে যান, যেখানে তিনি শোকপালিত কোচকে জড়িয়ে ধরেন।
বিরতির পর ফ্রান্স আক্রমণ আরও শানিত করে। এই আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। যদিও গোল পাননি, তবু ফ্রান্সের তিনটি গোলের পেছনে তাঁর অসাধারণ অ্যাসিস্ট ছিল। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে, ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
এরপর ৭৪ মিনিটে ওলিস এবং এমবাপ্পের জুটির ঝলক দেখা যায়। ওলিসের দুর্দান্ত রক্ষণভেদী পাস থেকে এমবাপ্পে তাঁর দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮। পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হয় ১০, যা বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ। তিনি ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাসকে (উভয়ের ৮ গোল) ছাড়িয়ে গেছেন। এছাড়া, ২৯ ম্যাচ খেলা লিওনেল মেসির (১৯ গোল) কাছ থেকে তিনি এখন মাত্র ১ গোল পিছিয়ে রয়েছেন।
নিউ জার্সির প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরম আর আর্দ্রতার মধ্যে সুইডেনের আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ ফরাসি রক্ষণকে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করতে পারেনি। বরং সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের পর, নকআউট পর্যায়েও এমন দাপুটে সূচনা করে ফ্রান্স শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের পরবর্তী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন