০৩:৫৪ পি.এম
সিলেট নগরের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরায় ডেলিভারির সময় নবজাতকের শরীরে মাথা, গলা, পিঠসহ একাধিক কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা। তাদের বক্তব্য, অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় এই পরিণতি ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। নবজাতকের পরিবার সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার উত্তর কলাউড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের অভিযোগ, প্রসূতিকে দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আলট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি হতে পারে বলে উল্লেখ ছিল, তাই চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের জন্য তারা শুরু থেকেই অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। তবে চিকিৎসকেরা মা ও শিশু সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের দাবি, বারবার অনুরোধ করার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: দিরাই থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো, সামান্য যানজটেই মানুষের ভিড়
শিশুটির চাচা মো. জোবায়ের হোসাইন মজুমদার জানান, স্বাভাবিক প্রসবের সময় নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় টানাটানির কারণে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ তাদের। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হয়। তবে ততক্ষণে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসকেরা দুর্ব্যবহার করেন এবং নিরাপত্তার কথা বলে ধাক্কা দিয়ে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।
এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর অভিযোগ তুলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিশুটির চাচা সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন সাগর। তিনি বলেন, "কতটা অদক্ষ মানুষয় চিকিৎসা করলে ডেলিভারির সময় শিশুর মাথায় একাধিক কাটা থাকে।" তিনি আরও জানান, গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই ডেলিভারি শুরু করে হাসপাতালের স্টাফরা। তারা জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন বলেছিল ডাক্তার ম্যাডাম আসতেছেন আমরা সব প্রস্তুত করছি। এর মাঝে ডেলিভারির খবর পেয়েছি। গায়ে কাটার চিন্হ দেখে জানতে চাইলে তারা বলেন, "আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে।"
হাসপাতালের ম্যানেজার শফিক আহমদ বলেন, পরিবারের অভিযোগ থাকলে তারা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। এতে আমাদের কিছু করার নাই।
আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন