০৩:৫৮ পি.এম
‘তুরাস-এর উত্তরাধিকার’ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে, যা শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর স্মরণে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠান শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইসলামি বইমেলায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আলেম-ওলামাদের অবদান সংরক্ষণ, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের সম্পাদক মাওলানা ত্বহা মাহমুদ এবং সহসম্পাদক মাওলানা শারাফাত শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী।
আরও পড়ুন: মক্কায় ওমরাহ পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী উল্লেখ করেন, ‘উত্তরাধিকার’ সংখ্যায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা আলেমদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লামা আহমাদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তাঁদের আপসহীন ভূমিকার কারণে ফ্যাসিস্ট হাসিনার রোষানলে পড়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আলেমদের বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ইতিহাস থেকে তাঁদের অবদান মুছে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলেমদের সংগ্রামী ইতিহাস ও উত্তরাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গবেষণা ও প্রকাশনা সেল এই উদ্যোগ নিয়েছে। ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য আলেমের অবদানও তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ আলেম-ওলামাদের রাজনৈতিক খেলার গুটি না হয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট নীতি ও শক্তির ওপর দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের কার্যকর ও সুষ্ঠু ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, ‘আমি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সাড়ে চার ঘণ্টা সঞ্চালনা করেছি। করোনার সময় সাড়ে চার হাজার লাশ নিজে দাফন করেছি। অথচ আমাদের মূলধারার পরিসর থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।’
আরও পড়ুন: মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানালো তুরস্ক
বিগত সরকারের আমলে আলেমদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে আলেমদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অবমূল্যায়ন ও নানা ধরনের অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে আরও আগেই প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক মানের তথ্য-প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা উচিত ছিল।
দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক (ধর্ম) মনযূরুল হক প্রকাশনাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান বা প্রকাশনা নয়, বরং ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইনজিমামুল ইসলাম ও মুখপাত্র মাওলানা রফিকুল ইসলাম আইনী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী, আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরাম, লেখক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন