ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অনিক রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার


পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অনিক রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার

পুলিশ রাজধানী থেকে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. অনিরুজ্জামান অনিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টা ২০ মিনিটে ভাটারা থানার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া অনিক পিরোজপুর পৌরসভার খামকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. আকতারুজ্জামান ফুলু ও শিরিন আক্তারের ছেলে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে মিছিল করে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে আসছেন।

আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে কাঁঠাল চাঁদপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান

পুলিশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ কুড়িল সাহারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে গেলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এর আগে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে অনিককে একাধিকবার উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা গেছে।

আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাই এবং ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে অনিককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, ‘গ্রেপ্তার অনিরুজ্জামান অনিকের পিসিপিআর (পুলিশ ক্রিমিনাল পেট্রোল রেকর্ড) যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।’

আরও পড়ুন: বান্দরবানে তিন্দু সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে নবীন বরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


কাউখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে নবীন বরণ

পিরোজপুরের কাউখালী সরকারি কলেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সবুজ কুমার রবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবীর, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদ এবং কাউখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বাবু।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহিন।
কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাকিব তালুকদার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সোলায়মান কাজী যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চাও করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নার, প্রান্তিক রোগীদের জন্য নতুন সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নার, প্রান্তিক রোগীদের জন্য নতুন সেবা

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত উপজেলা হালুয়াঘাটের খন্দকপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. রফিক মিয়া (৫৫) উচ্চ রক্তচাপের রোগী। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারের নিয়মিত ফলো আপে আসেন এবং প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এক মাস করে ঔষধ নিয়ে যান। তিনি উল্লেখ করেন, "আগে এমন কোনো সেবা পাইনি আমরা, রক্তচাপ পরিমাপের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ বরাদ্দ ছিল না। কিন্তু এখন নিয়মিত এনসিডি কর্নারে এসে রক্তচাপ মাপাতে পারেন এবং ডাক্তার ও নার্সের পরামর্শে ঔষধ সেবন করেন।"

বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষের আয়ু বাড়ছে, জীবনযাত্রা ক্রমেই কম কায়িক পরিশ্রম নির্ভর হচ্ছে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে এবং দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে আসছে আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি, যেটি অসংক্রামক রোগ বা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি)। দেশের জনসংখ্যার মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। এর মধ্যে শতকরা ৩৪ ভাগই হৃদরোগ ও স্ট্রোক জনিত কারণে ঘটে। এই বাস্তবতায় উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি সেবা জোরদার করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউণ্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ’ পরিচালিত হয়ে আসছে। এর আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঠামোবদ্ধ সেবা জোরদারের কাজ চলছে। রোগীদের নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা, চিকিৎসা অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ, জীবনাচারণ পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফলোআপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে হৃদরোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পরিবর্তে হৃদরোগ ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঔষধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। উচ্চ রক্তচাপের একজন রোগীকে দীর্ঘ সময়, অনেক ক্ষেত্রে সারা জীবন, নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় থাকতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হলে রোগীর চিকিৎসা ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এনসিডি কর্নারে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, রোগীকে শুধু শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; তাকে প্রয়োজনীয় ঔষধ, পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং নিয়মিত ফলোআপের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিডি সেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত জনবল। এনসিডি কর্নারগুলোকে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' সেন্টারে রূপান্তরের কথা বলা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় এনসিডি কর্নারে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত মানের নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইন জানান, উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীরা তাদের নিজ এলাকার কাছাকাছি নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন। তবে এনসিডি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষের দিকে ন্যাশনাল প্রোটোকল অনুসারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পাঁচ ধরণের সরকারি ঔষধ বরাদ্দ পেয়েছে যেগুলো প্রায় শেষের দিকে। এনসিডি কর্নারে পর্যাপ্ত ঔষধ না থাকলে এনসিডি কর্নারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. ফখরুল হাসান চৌধুরী জানান, ময়মনসিংহ জেলার আওতায় এখন প্রায় ৩৪ হাজার উচ্চ রক্তচাপের রোগী এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এই কার্যক্রমকে সামনে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন মেডিসিন সরবরাহ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন। এছাড়াও ঔষধের পাশাপাশি রোগীদেরকে স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে জোরদান করেন তিনি।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, এখন অপারেশনাল প্ল্যান না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের এমএসআর ফাণ্ড ব্যবহার করে ওষুধ ক্রয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এমএসআর ফাণ্ডের মাধ্যমে ইনডোরসহ অন্যান্য অনেক কিছু ক্রয় করার কারণে প্রোটোকল অনুসারে পর্যাপ্ত ঔষধ ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা। তাই এনসিডি ঔষধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ময়মনসিংহ জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভীষণভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বিশ্ব হার্ট দিবসে যখন সারা বিশ্ব হৃদস্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে, তখন বাংলাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর এনসিডি কর্নারগুলো সেই বার্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

দেশের সব বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করে সুস্থ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি উল্লেখ করেছেন, বন্দর পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি বা প্রটোকল ছাড়াই হঠাৎ বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বন্দরের বিভিন্ন শেড পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ব রয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অনেক সময় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। সরকার এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়। বন্দরগুলো প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে। এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দর কোনো রাজনৈতিক বলয়ের জায়গা নয়। দেশের অর্থনীতির জন্য বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হলে বন্দরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বেনাপোল বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বন্দরের গুরুত্ব অনেক। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না; বন্দরের সেবার মান, পণ্য খালাসের গতি, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বন্দরের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তাদের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অনিয়ম, প্রভাব বা স্বার্থের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জড়িত। তাই এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন শেড ঘুরে দেখেন এবং সেখানে পণ্য সংরক্ষণ ও খালাস কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বন্দরের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে বন্দরকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তার পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


তিস্তার পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যা তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার অনুরোধও করেন।

মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে রাষ্ট্রপতি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষীয় আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।

রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরো সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি চীনের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরো সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য।

রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, "চীনের উদ্যোগ এ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে।" বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%