মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৬ পি.এম
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত জানানো, টিকিট পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে সোমবার (১৩ অক্টোবর) জারি করা নির্দেশনায় এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমে বিঘ্ন ও সীমিত পরিচালনার পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বেবিচকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। এ জন্য এসএমএস, টেলিফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
শুধু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য জানানো নয়, পরিবর্তিত সময়সূচি, পুনঃবুকিংয়ের সুযোগ, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এবং যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও সুস্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে যেতে বলা যাবে না।
এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বেবিচক পৃথক নির্দেশনা দিয়েছিল। ওই নির্দেশনায় জানানো হয়েছিল, বিমানবন্দরটি ১২ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। রিয়াদে সরাসরি বা ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোকে তখন যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ১২ অক্টোবর জারি করা আরেক নির্দেশনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে নির্দেশনায় সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কথা বলা হয়নি।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে বা নির্দেশনা পাওয়ার আগেই যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। তাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে।
ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তা
ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে কোনো যাত্রীর সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের সহায়তা করতে হবে।
তবে নির্দেশনায় ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি বা নবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সমন্বয়ের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ
ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল ফোকাল পয়েন্ট বা সমন্বয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক।
মনোনীত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য এবং পরিচালনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করতে হবে।
বেবিচকের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ। এগুলোর অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির (এওসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিতরণ তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার আরাবিয়া, এয়ার এশিয়া ও এয়ার চায়নার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী ও দেশটি হয়ে ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে টিকিট পুনঃবুকিং, অর্থ ফেরত এবং ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এক বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে অবিলম্বে তাদের বিচারের দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। আমরা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের এমন অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, "এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই।"
এনসিপির এই আহ্বায়ক দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট আমলের গুম, খুনে জড়িতদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।"
সবশেষে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" এই স্লোগানকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এই বিশেষ দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রাফিউরজ্জামান, উপজেলা খাদ্র নিয়ন্ত্রক সাইদুর রহমান, বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের (ভারপ্রাপ্ত) ষ্টেশন অফিসার আব্দুল কুদ্দুছ, সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিগণ এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় অতিথিরা দিবসটির গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরেন। এর পর উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের পরিবেশনায় ভূমিকম্প এবং অগ্নি নির্বাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৫ ঘণ্টা ধরে তার অফিসে অবরুদ্ধ রয়েছেন। গতকাল সোমবার চুয়েট ছাত্রদলের একাধিক নেতা ও কিছু সাবেক ছাত্রের সহায়তায় তালা ভেঙে ২১ দিন পর তিনি দপ্তরে প্রবেশ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা নতুন তালা দিয়ে আবারও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সেই সময় থেকে বিদ্যুৎ, পানি ও ওয়াইফাই সংযোগবিহীন অবস্থায় রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন উপাচার্য এবং তার সঙ্গীরা। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আন্দোলনের মুখে সরে যেতে হয়েছিল। ১৮ মাস পর তিনি আবারও আন্দোলনের মুখে পড়লেন।
জানা যায়, সোমবার সকাল ৮টায় উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পরে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিদ্যুৎ, পানি ও ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা সময়ে সময়ে খাবার ও নাস্তা পাঠাচ্ছেন। সোমবার দিনভর আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে। বিকেলে মদুনাঘাটসহ একাধিক স্থানে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার অভিযোগ ওঠে উপাচার্যের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
রাতভর পাহারা দিয়ে, খিচুড়ি খেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান তারা। রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিনু মারমা শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগের অনুরোধ করলেও তারা প্রত্যাখ্যান করেন।
জানা যায়, গত বছরের এপ্রিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কুয়েটের তৎকালিন ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ ও উপ-উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে সরে যেতে হয়েছিল। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ৫৬ দিনের মাথায় চুয়েটের ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কেন তাকে সরানো হয়েছে সে বিষয়ে সরকার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। একই প্রজ্ঞাপনে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে তাকে প্রত্যাখ্যান করে আগের ভিসি আবু সাদাতকে বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন।
দুই পক্ষের দুই চাপ
চুয়েটে আন্দোলনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নতুন ভিসি ভিন্ন চাপ সৃষ্টি করেছেন। নিয়োগের ২১ দিন পরও ক্যাম্পাসে যেতে না পেরে প্রথমে কয়েকজন সাবেক ছাত্রের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। পরে ১০৮৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বরের বেতন বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে ব্যাংকে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে সোনালী ব্যাংক ঘেরাওয়ের মধ্য দিয়ে বেতন-ভাতা আদায় করতে সক্ষম হন আন্দোলনরত শিক্ষক ও কর্মচারীরা। পরে ১২ সেপ্টেম্বর চুয়েট ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে যান শেখ শরীফুল আলম। সকাল ৮টায় আনসার সদস্যকে সাধারণ শিক্ষক পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করলেও পরে ছাত্রদলের নেতাদের সহযোগিতায় তালা ভেঙে কক্ষে ঢুকেন। এরপর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চুয়েটের পরিস্থিতি।
বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ বিচ্ছিন্নের চাপ আন্দোলনকারীদের
উপাচার্য প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রথমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ে ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ, পানি ও ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এভাবে রাতভর অন্ধকারে কাটে উপাচার্যসহ তার সঙ্গে থাকা ১১ জনের।
পাল্টাপাল্টি আবেদন আহ্বান
চুয়েটের ভিসি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোনো আবেদন আসেনি। লিখিত আবেদন আসলে তিনি বিবেচনা করবেন। তবে বাসে হামলায় তার হাত নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, "আমি অবরুদ্ধ ও অমানবিক অবস্থায় আছি। আমার তো হামলার প্রশ্নই আসে না।" অপর দিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তালা খোলার জন্য কোনো লিখিত আবেদন আসেনি। আবেদন আসলে বিবেচনা করব।
চুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হিশাম বলেন, "আমরা নিয়মিত খাবার পাঠাচ্ছি। কিন্তু কয়েকবার তিনি খাবার গ্রহণ করেননি। পরে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে তিনি খাবার আনিয়েছেন। আমাদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন চলবে। তালাও খোলা হবে না।"
এম এইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"ঘর থেকেই শুরু করি,দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা বিভাগের আয়োজনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন। র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন ইনচার্জ পারভেজ আহমেদের নেতৃত্বে দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন,উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা রিপন আহমেদ ও নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনিছুর রহমান প্রমুখ।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ