বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৩ পি.এম
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমার আওতায় গৃহবন্দি থাকার অনুমতি দেওয়ার ফলে ৪৫০ কোটি ডলারের ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে মালয়েশিয়ায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচকরা দাবি করছেন, নাজিবের কারাগারে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, তার সমর্থকেরা সাবেক এই নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরের জন্য জরিমানা পরিশোধে সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেছেন।
২০২২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল ওয়ানএমডিবি থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ানএমডিবির পূর্ণ নাম ১মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ।
কুয়ালালামপুর থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবের ছয় বছরের কারাদণ্ডের বাকি সময় গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে, এর জন্য তাকে ৫ কোটি রিঙ্গিত (১ কোটি ২০ লাখ ডলার) জরিমানা দিতে হবে।
নাজিব ওয়ানএমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, ২০১০-এর দশকে রাষ্ট্রীয় ওই তহবিল থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই কেলেঙ্কারি ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এর পতনে ভূমিকা রেখেছে, যা ২০১৮ সালে দলটির ছয় দশকের ক্ষমতার অবসান ঘটায়।
তবে, নাজিব এখনও তার রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী এবং ইউএমএনওর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়।
৪৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা জেমস চাও বলেন, "আরও কয়েকটি মামলা বিচারের অপেক্ষায় থাকা একজন দোষী সাব্যস্ত অপরাধীকে কীভাবে গৃহবন্দি থাকার সুযোগ দেওয়া যায়?"
তিনি এএফপিকে বলেন, "এটি সময় ও অর্থের অপচয় এবং আইনের প্রতি উপহাস।"
একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ৫২ বছর বয়সী শ্যাম প্রিয়াহ বলেন, ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজার "সাংবিধানিক বিশেষাধিকারকে" তিনি সম্মান করেন।
তবে, নাজিবের জরিমানা পরিশোধে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এএফপিকে বলেন, "একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ৫ কোটি রিঙ্গিতের জরিমানা পরিশোধে সাধারণ মালয়েশীয়দের ১০ রিঙ্গিত করে দিতে সংগঠিত হতে দেখে সমাজ হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার নিয়ে আমার মনে আরও বড় একটি প্রশ্ন তৈরি হয়।"
তিনি বলেন, "১০ রিঙ্গিত কোনো অসচ্ছল মানুষের এক বেলার খাবারের অর্থ হতে পারে।"
তবে, নাজিবের সমর্থকেরা রাজার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
৬৮ বছর বয়সী সমর্থক রাদিয়া রশিদ এএফপিকে বলেন, "নাজিবকে ভালোবাসেন এমন সমর্থকেরা তিনি কবে গৃহবন্দিত্বের সুযোগ পাবেন, সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিলেন।"
৪৩ বছর বয়সী সমর্থক সুজ্জালিনা আনুরা বলেন, "আমরা নাজিব রাজাককে মিস করি। তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত তিনি তাঁর পরিবার, নাতি-নাতনি ও সন্তানদের সঙ্গে বাড়িতে থাকতে পারবেন।"
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রচারণা শুরুর পর সোমবার পর্যন্ত অনুদানের পরিমাণ ১০ লাখ রিঙ্গিত ছাড়িয়ে গেছে। তবে কিছু সমালোচক প্রতিবাদ হিসেবে মাত্র এক সেন (০.০১ রিঙ্গিত) করে অনুদান দিয়েছেন।
২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে সাবেক নেতার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং কেলেঙ্কারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় ইউএমএনওর চলমান সংকটও এ ঘটনা সামনে এনেছে।
মালয়েশিয়ার নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশীয় রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রিজেট ওয়েলশ বলেন, ইউএমএনওর অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ দলটিকে "কঠিন অবস্থানে" ফেলেছে।
তিনি বলেন, একদিকে দলটিকে নাজিবের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং ঐতিহ্যগত সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে হবে। অন্যদিকে দুর্নীতির বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া তরুণ ভোটারদের কাছেও দলটিকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
তিনি এএফপিকে বলেন, "গৃহবন্দিত্ব দলের ঐক্য জোরদারে সহায়তা করছে। তবে এর ফলে দলটির জনসম্পৃক্ততার সুযোগ কমছে, কারণ এতে দলটির বহন করে চলা পুরোনো রাজনৈতিক বোঝা আবারও সামনে আসছে।"
তিনি বলেন, "কিছু ঐতিহ্যগত সমর্থকের কাছ থেকে" অর্থ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ নাজিবের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ প্রচারণা তরুণ ভোটার এবং রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী ভোটারদের দূরে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ওয়েলশ বলেন, "তরুণ ভোটার ও মধ্যপন্থীদের কাছে এটি বিচ্ছিন্নতামূলক। তাঁদের কাছে মনে হচ্ছে, দলটি নিজেদের ভুল স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের তিনটি রেস্তোরাঁকে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে, কারণ টয়লেটের ভেতরে মাংস ধোয়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রৌশন আরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের ফলস্বরূপ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪২ ও ৪৩ ধারার অধীনে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজকে ১ লাখ টাকা, হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজকে ২৫ হাজার টাকা এবং দ্বীন দুনিয়া রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজের রান্নাঘরের পরিবেশ এবং খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে টয়লেটের মধ্যে মাংস ধোয়ার বিষয়টি চরম উদ্বেগের। এছাড়া খাবার তৈরিতে নিষিদ্ধ কেমিকেল ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে রান্নাঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রান্নাঘর স্থানান্তর না করলে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে, যেন তারা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি না করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারের এপ্রোন পরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শারমিন আক্তার (৩৪) নামে এক নারীকে আটক করেছেন আনসার সদস্যরা। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারেন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। পরে পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অভিযান চালায়।
অভিযানের একপর্যায়ে ৩১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ডাক্তারের এপ্রোন পরা অবস্থায় শারমিন আক্তারকে দেখতে পান আনসার সদস্যরা। তার পরিচয় ও হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শারমিন আক্তার ডাক্তারের এপ্রোন পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিষয়টি জানতে পেরে আনসার সদস্যরা নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া আনসার সদস্যরা হলেন পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চু, এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম ও আনসার মো. আকিদুল ইসলাম।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই নারীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। দালালি, প্রতারণা কিংবা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অন্যত্র নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও তারা নজরদারি করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ফুটবল দল বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছে ফিফা আসিয়ান কাপের অংশগ্রহণের জন্য। এই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে ভক্তদের মধ্যে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও, দলের অন্যতম প্রধান তারকা হামজা চৌধুরী এটি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাফুফেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার বলেন, "এই টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত ও সম্মানিত বোধ করছি। আমাদের চেয়ে উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়া একটি বড় বিষয়।"
দলের লক্ষ্য সম্পর্কে হামজা চৌধুরী জানান, "আমাদের মূল লক্ষ্য যতটা সম্ভব পয়েন্ট অর্জন করা। আমরা কাউকে ভয় পাই না এবং আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কতটুকু। এটি আমাদের জন্য একটি শেখার প্রক্রিয়া, এখান থেকে সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।"
প্রতিপক্ষ দল ও সুবিধা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হামজা ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ, অনুশীলনের মাঠ এবং আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্যান্য উদীয়মান ও তরুণ খেলোয়াড়দেরও প্রশংসা করেছেন।
তিনি যোগ করেন, পুরো দলের মনোযোগ এখন শুক্রবারের ম্যাচের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। সকল ফুটবলার ইতিবাচক মানসিকতায় আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ৭ বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে ২ জন নারীও রয়েছেন। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পাচারের সময় দালালের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
২২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- বাগেরহাট জেলার বকুলতলা গ্রামের মো. সাইফুল (২১), খুলনা জেলার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের মো. রাব্বি শিকদার (১৭), খুলনার কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাট জেলার বকুলতলা গ্রামের মো. ওমর ফারুক (১৮), একই জেলার মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের শম্পা (২৪) এবং ঢাকা জেলার যাত্রাবাড়ী সুতারপুর গ্রামের মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, তারা অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতনের আশায় প্রথমে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলং এলাকায় আসেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতের বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং ৫ যুবককে ভারতের বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে মিজান নামে এক ব্যক্তি তাদের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং সেখানে তারা অবৈধভাবে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অবস্থান করার বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই ৭ নাগরিক নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এই চক্রের পেছনে থাকা দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ