০১:০১ পি.এম
ঈদুল আজহার ছুটির পর রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি বেশ কমে গেছে, তবে সবজির দামের ওপর এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ঈদ শেষ হওয়ার পরেও বাজারে সবজির দাম অত্যন্ত চড়া থাকার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে। মূলত সরবরাহের অভাবের কারণেই বেশির ভাগ সবজি গত সপ্তাহের মতোই উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, তালতলা ও আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে যে, ঈদের যেকারণে অনেক পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকান এখনও পুরোপুরি খোলা হয়নি। এর ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, আড়ত বন্ধ থাকা বা সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
বর্তমান বাজারের চিত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম মানভেদে ৬০ থেকে ১২০ টাকা এবং কচুর লতির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই
কিন্তু কাঁচামরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কেজিতে প্রায় ৪০ টাকার কমে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা প্রতি কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ২০ টাকায়। দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকা প্রতি কেজি এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেপসিকামের দাম প্রতি কেজিতে ৩২০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে।
শাকের বাজারে লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুটি আঁটি ২০ টাকায়, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুটি আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ঈদের পর মুরগির বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে আজ সোনালি কক মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫৫ টাকা। এছাড়া, লাল লেয়ার মুরগির দাম ৩৭০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ৭৭০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ঈদ-পরবর্তী ছুটির কারণে রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ দেখা যাচ্ছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের দাম এখনও বেশ চড়া রয়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাগুরের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং দেশি শিং মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সময় ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন