০২:৩০ পি.এম
পারস্য উপসাগরে চলমান আমেরিকা এবং ইরানের তীব্র সংঘাতের মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন মন্তব্য করেছেন।
নাটকীয় এই মন্তব্যটি তিনি তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনের পরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি ওই বিমানে হামলা চালায়, তবে এতে থাকা সাংবাদিকরাও রেহাই পাবেন না। তার এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আবারো বিশ্বমঞ্চে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে, যেখানে বিমানে থাকা সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন করেছেন এবং সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকির সম্পর্কে জানতে চান। ট্রাম্প তাদেরকে বলেছেন যে, তিনি সবসময়ই একধরনের বড় ঝুঁকির মধ্যে আছেন এবং ইরানের তালিকায় তার নাম এক নম্বরে রয়েছে। এরপর তিনি সাংবাদিকদের দিকে ইঙ্গিত করে স্বভাবসুলভ কড়া ও হাস্যরসাত্মক সুরে বললেন, “যদি আমি মারা যাই, তবে তোমরাও মরবে। তাই হয়তো তোমাদের মধ্যে কয়েকজনের এখনই পেশা পরিবর্তন করা উচিত।”
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
জানা গেছে, নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে ট্রাম্প তার নতুন বিলাসবহুল বিমানের পরিবর্তে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেছেন।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ‘ইটের বদলে পাটকেল’ নীতি এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বৃহস্পতিবার রাতে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে গত মাসে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এসেছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর, ট্রাম্প পূর্বেই ইঙ্গিত দিয়ে ছিলেন যে, তারা ইরানকে বড় ধরনের শিক্ষা দিতে যাচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের জবাব দিতে এই মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে সুর চড়িয়েছে তেহরানও। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের সামনে কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নেই। তিনি ট্রাম্পের পক্ষ নেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্মারকটি শেষ’ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন একটি সংকটের আভাস নির্দেশ করছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন