বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ পি.এম
মাটি কাটার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল্লাহ আল আমিনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। এ সময়, নৌ পুলিশের ওসিকে মাটি কাটার কমিশন গ্রহণের অভিযোগ তুলে তিনি ধমক প্রদান করেন।
এ তথ্য একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে বলতে শোনা যায়, “শোনেন, আপনার (পরিদর্শক) বিরুদ্ধে কিন্তু অনেক অভিযোগ। মাটি কাটার কমিশন খাবেন, আর আমাকে বলবেন অভিযান আছে—এই সব ফাইজলামি বাদ দেন। আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ, মাটি কাটার কমিশন খান আপনি।”
এরপর তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে কাল থেকে যেন কোনো মাটি কাটা না হয়। এই জায়গায় যদি মাটি কাটা হয়, আপনার খবর আছে।”
ভিডিওতে অপর প্রান্তের ব্যক্তির বক্তব্য শোনা না গেলেও এমপি তার কথার জবাবে বলেন, “ঠিক আছে, আমরা দেখতে চাই এটা।” পরে তিনি যোগ করেন, “যতগুলো লোক নদী পার হয়, তারা দেখতাছে মাটি কাটতাছে। আপনারা ঘুমান, এটা যাতে না হয়। ঠিক আছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্ত্রীর মৃত্যুর এক দিন পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। মঙ্গলবার রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) তাকে ভর্তি করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাহাথিরের সহকারী সুফি ইউসুফ এএফপিকে।
বুধবার তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১০১ বছর বয়সী মাহাথিরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মাহাথিরকে মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) ভর্তি করা হয়। এর একদিন আগে একই হাসপাতালে তার ১০০ বছর বয়সী স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা যান। তবে মাহাথিরকে ঠিক কী কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানানো হয়নি।
তার দীর্ঘদিনের সহযোগী সুফি ইউসুফ জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে মাহাথিরের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। মাহাথিরের ছেলে মোখজানি বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে বলেন, ‘পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত দুই দিন তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। তবে এখন তিনি ভালো আছেন এবং উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) ভর্তি করা হয়। বুধবার তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত কয়েক বছরে মাহাথিরকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এ কারণে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তার ডান নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তিনি প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বয়সের কারণে চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করছেন। জুলাইয়ে নিজের ১০০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন মাহাথির। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন। মাহাথিরের দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে তার দুটি বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়। এদিকে স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর মাহাথিরকে নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার স্ত্রীর মৃত্যুতে মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক জানিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছোট ভিডিওতে পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ আহমদ শাহের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মাহাথিরকে। এ সময় স্ত্রীর মৃত্যুতে নিজের কষ্ট ও অবিশ্বাসের কথা জানান তিনি। মাহাথির বলেন, ‘আজ তাকে হারাব, তা আমি ভাবিনি।’ মাহাথির দীর্ঘদিন ধরে মালয় জাতীয়তাবাদের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা।
১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মাহাথির মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনেন। তার সময় কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশটি শিল্প ও উৎপাদন খাতে এগিয়ে যায়। এ সময় দেশজুড়ে বড় বড় সড়ক নির্মাণ এবং শিল্প খাতের উন্নয়ন হয়।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এশিয়ার আর্থিক সংকটের সময়ও মাহাথিরের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত আলোচিত হয়। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ না নিয়ে দেশটির মুদ্রা রিঙ্গিতের বিনিময় হার মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট করে দেন।
তার সমর্থকেরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে সংকট থেকে বের হতে সাহায্য করেছিল। তবে মাহাথিরের শাসন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধীদের দমন করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বহুদিনের। ১৯৮৭ সালের ‘অপারেশন লালাং’-এর সময় শতাধিক বিরোধী রাজনীতিক, কর্মী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। সরকারের সমালোচকদের দমন করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে সমালোচকদের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মরণবাঁধ ফারাক্কার প্রভাবে সৃষ্ট উঁচু চর বর্তমানে কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পদ্মাপাড়ের রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদীর বুকে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে, যেখানে সূর্যমুখী, টমেটো, বেগুন, ভুট্টা, চিনাবাদাম, কাউন, পটল, করলা, সরিষা, রাই, চিনা, কলমি, শসা, খিরা, শাক ও হরেক রকমের সবজি চাষ করা হচ্ছে। এই ফসলগুলো বর্তমানে এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চর এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু ফসল চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
চরাঞ্চলের হাজারো কৃষক এই সোনালী ফসলের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। প্রতিটি চরেই ফলন ভালো হওয়ায় তারা অত্যন্ত দামি এসব শস্য নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। সঠিক দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে চরাঞ্চলে চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে এবং এসব শস্য চরাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। নদীর পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় কোনো সার ছাড়া কিংবা সামান্য সারে অনেক বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তেফা কামাল হোসেন ও চরআষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে প্রমত্ত পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও যমুনা নদী। প্রতিবছর এসব নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয় বসতবাড়িসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। নদী তীরবর্তী মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার কারণে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তবে একদিকে তীব্র স্রোতে প্রতিবছর উজান থেকে পলি মাটি জমে নদীর ভাটি অঞ্চল ভরাট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে নদীর বুক চিরে অসংখ্য চর জেগে উঠছে। পলিমিশ্রিত এসব চর রবিশস্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষ এই চরগুলোকে ঘিরেই নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন।
এছাড়া মরণবাঁধ ফারাক্কারের কারণে গত ৫০ বছরে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে বালুচরের উচ্চতা প্রায় ১৮ মিটার বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে তিন মাস পানি থাকলেও বছরের বাকি ৯ মাস পানি তলানিতে ঠেকে। প্রমত্ত পদ্মা ও মহানন্দা নদী এখন মরা খালের রূপ ধারণ করেছে। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এর শাখা-প্রশাখা নদ-নদী-বড়াল, মরা বড়াল, মুছাখান, ইছামতী, ধলাই, হুড়াসাগর, চিকনাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, নবগঙ্গা, চিত্রা, বেতা, কালিকুমার, হরিহর, কালিগঙ্গা, কাজল, হিসনা, সাগরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ, বেলাবতসহ প্রায় ২৫টি নদ-নদীর অস্তিত্ব এখন বিলীন কিংবা বিলুপ্তির পথে।
ফারাক্কা ছাড়াও ভারত বেশ কয়েকটি নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে তিস্তা, মহানন্দা, করতোয়া, আত্রাই ও ধরলা নদী উল্লেখযোগ্য। এসব নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে মূল নদীসহ এদের শাখা-উপশাখাগুলোও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীগুলো মরে গেলেও জেগে ওঠা এসব চরে নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মার বুক চিরে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। পলিমিশ্রিত উর্বর মাটির এসব চর এখন সবুজের সমারোহে ভরে গেছে। চরে চাষ করা হচ্ছে ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, পটল, করলা, লালমি, শসা, খিরা, ভুট্টা, ধনে, চিনাবাদাম, কাউন, মিষ্টি আলু ও মিষ্টি কুমড়াসহ নানা জাতের শাকসবজি ও রবিশস্য।
চরাঞ্চলের একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাদাম ও কাউন চাষ অত্যন্ত সহজ, খরচ কম এবং ঝামেলামুক্ত। তিস্তার চরগুলোতে বন্যার পলিমাটি জমা হওয়ায় তা বাদাম, কাউন, তরমুজ, মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য রবিশস্যের জন্য বেশ উপযোগী। ফলন ভালো এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন এসব শস্য চাষে বেশি ঝুঁকছেন। কৃষকরা জানান, সরকারি কৃষি বিভাগ থেকে যদি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়, তবে উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলগুলো দেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, উপজেলার পদ্মার জেগে ওঠা চরাঞ্চল কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নতুন জেগে ওঠা এসব চরের পলি ও বেলে-দোআঁশ মাটি ফসল চাষের জন্য ভীষণ উপযোগী। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলে চিনাবাদাম, পটল, করলা, ভুট্টা, বেগুন, মসুর, কলাই, মটর, ঝিঙাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। সঠিক প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এখানে আরও বহুমুখী ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলে মাটির ধরন ও মৌসুম বিবেচনায় চিনাবাদাম, ভুট্টা, মসুর, খেসারি, মুগ, কলাই, মটর, তিল, সূর্যমুখী ও বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ সম্ভব। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যেতে পারে।
চরাঞ্চলের কৃষি স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় বাজারের প্রসার এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। পতিত ও অনাবাদি চরজমি উৎপাদনের আওতায় আনা গেলে দেশের মোট কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। তবে চরাঞ্চলের কৃষিকে টেকসই করতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মাটির বৈশিষ্ট্য, বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি মোকাবিলা, বীজ সংরক্ষণ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগ-বালাই দমন এবং ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর শুধু চরাঞ্চলেই ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে টমেটো, সরিষা, কলাই, পটল, করলা, ভুট্টা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, চিনা ও মসুরসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়েছিল এবং কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছিলেন। চলতি মৌসুমে ফসল চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেলে-দোআঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে তেলজাতীয় ফসল (সরিষা, রাই, তিল) ভালো হওয়ায় চরাঞ্চলে এগুলোর চাষ জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে।
চরে চাষাবাদ সম্পর্কে কৃষক জোহরুল ইসলাম ও মনিরুল জানান, তারা মৌসুমের শুরুতেই টমেটো, বেগুন ও চিনাবাদাম চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। সবজি ক্ষেত পরিচর্যারত কৃষক আব্দুল হাকিম জানান, গত বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে টমেটো, বেগুন, ভুট্টা ও বাদাম চাষ করে ভালো দাম ও ফলন পেয়েছিলেন। তাই অল্প পরিশ্রমে ও কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় এবার তিনি দ্বিগুণ জমিতে চাষাবাদ করবেন।
কৃষকদের দাবি- চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার চাষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দিলে তারা চাষাবাদে আরও বেশি আগ্রহী হবেন। এতে চরবাসীর জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা বর্তমানে নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। যদিও তিনি অভিনয়ে নিয়মিত নন, তবে সম্প্রতি নতুন দুটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি সিনেমা হল সাদেক সিদ্দিকীর ‘দেনা পাওনা’। এই সিনেমাটির অনেকাংশের শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশের শুটিং এ সপ্তাহে হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ‘দুই পয়সার মানুষ’ নামে একটি আরও সিনেমা তার হাতে রয়েছে। উল্লেখ্য, উভয় সিনেমাই সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে।
অভিনেত্রী প্রভা অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে সক্রিয় রয়েছেন। বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে তিনি ভক্ত-অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বেড়ে ওঠার সময়কার নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, একসময় তার পছন্দ ছিল গরিব ছেলে।
নিজের পছন্দের কথা উল্লেখ করে প্রভা বলেন, ‘আমার একসময় গরিব ছেলে খুব পছন্দ ছিল। আমাকে অভাবের কথা বললে, না খেয়ে ছিলাম, কষ্টে বড় হয়েছি, বাবা, ভাইবোনদের এভাবে মানুষ করেছে—এ রকম ছেলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু মিথ্যা কথা এটা আরও বেশি দুষ্টু হয়। আমি বেশ আহলাদি ছিলাম, এ রকম একটা সময় ছিল প্রপারলি কথা বলতে পারতাম না।’
তিনি বলেন, ‘এত কিউট হয়ে আমতা আমতা করে কথা বলতাম। কথা অর্ধেক বোঝা যেত। প্রত্যেকটি জায়গাতে আমাদের আত্মীয় থেকে শুরু করে আমার বাবা-মা— একটা সময় গিয়ে আমি যখন বড় হচ্ছি, আমার বন্ধুদের বাবা-মার অবধি আদর করত, সে জন্য আমার ম্যাচিউরিটি অনেক পরে এসেছে, স্পষ্ট কথা বলতে শিখেছি অভিনয় করতে এসে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গোদাগাড়ী সীমান্তে ভারতীয় ক্যাপ্টেন মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুর বিওপির অধীনে ৫২ বোতল ভারতীয় ক্যাপ্টেন মদ জব্দ করে।
আজ সকালে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধীনে বিদিরপুর বিওপির টহল দল গোদাগাড়ী থানাধীন মাদ্রাসা মোড় এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে, এক মাদক কারবারি মাথায় বস্তা নিয়ে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করার জন্য ধাওয়া করলে, ওই কারবারি মাথায় থাকা বস্তাটি ফেলে দ্রুত অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরে ফেলে যাওয়া বস্তাটি তল্লাশি করে ৫২ বোতল ভারতীয় ‘ক্যাপ্টেন মদ’ মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্য গোদাগাড়ী থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মাদক কারবারিকে শনাক্ত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিবি’র গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ