০৯:১৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘১৯৭১ সালে ভুল করা’ রাজনৈতিক দলকে উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায় এবং তারা তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখতে চায়।
সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে এবং শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে। চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার চালানো হলে, তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব নয়। বরং, জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানোই একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব। দেশের বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে, কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই এবং জনগণও আর সেই রাজনীতি সমর্থন করে না। এ সময় ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, এই আসনে তাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ নয়; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তাদের এখনই মাঠে নামতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে এবং সঠিক কথা বলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছেন এবং মিথ্যাচার করছেন, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালে দেখা যাবে কীভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন, গুম, হত্যা করা হয়েছে এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ১৯৭১, ১৯৮৬, ১৯৯৬ সালে ভুল করেছেন এবং আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাদের এসব উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
তিনি বলেন, মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সরকার সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী’র সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন