০৩:৫২ এম
ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোখা জেলায় একই মন্দিরে একটি যুবকের সঙ্গে তিন তরুণীর বিয়ের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মা চামুণ্ডা মন্দিরে বিয়ের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হিন্দু রীতি মেনে এক বর একসঙ্গে তিন কনের সঙ্গে সাতপাক ঘুরছেন এবং প্রত্যেকের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন।
ভিডিওতে তরুণীরা হলেন আমরোখার ধোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। জানা গেছে, তাদের মধ্যে দুজন আপন বোন এবং অপরজন ফুফাতো বোন। কিন্তু অনেকেই তাদের তিনজনকেই বোন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বর বিকাশ ওরফে ভিক্কু আগে এই তরুণীদের সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন, এবং গত ছয় মাস ধরে ভিডিওগুলোর মধ্যে তাদের অন-স্ক্রিন স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করে আসছিলেন।
শুরুর দিকে অনেকেই এটিকে রিলস বা কনটেন্ট তৈরির নাটক বলে মনে করলেও, পরবর্তী সময়ে তারা ক্যামেরার সামনে এসে দাবি করেন যে এই বিয়ে পুরোপুরি বাস্তব। তরুণীরা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের কারণে আলাদা হতে চাননি।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
পরিবার থেকে তাদের আলাদা পাত্রে বিয়ে ঠিক করায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন। একসঙ্গে থাকার জন্য স্বেচ্ছায় একই ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তাদের দাবি, তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বর বিকাসও জানান, তরুণীদের পারস্পরিক গভীর বন্ধনকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন।
এদিকে, হাসনপুরের মা চামুণ্ডা মন্দিরে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, মন্দির কর্তৃপক্ষ এই বিয়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে যে ওই সময় মন্দিরে সংস্কার কাজ চলছিল এবং সেখানে কোনো পুরোহিত বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এই কথিত বিয়ের বৈধতা ও ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, আবার অনেকেই প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন। সমালোচনার মুখে পড়ে তরুণীরা পৌরাণিক রাজা দশরথের তিন রানীর উদাহরণ টেনে নিজেদের বিয়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তবে আইনগত দিক থেকে, ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী বৈধ হিন্দু বিয়েতে একাধিক জীবনসঙ্গী রাখা বেআইনি, এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮২ ধারা অনুযায়ী এই ধরনের দ্বিবাহু বা বহুবিবাহের জন্য ফৌজদারি অপরাধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন