বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৪:৫৯ পি.এম
অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছুটি না দিয়ে রাতভর কাজ করানোর ফলে গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানায় নারী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগে শ্রমিকরা তীব্র বিক্ষোভ করেছেন। সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ করে দিয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় ‘কালার কো লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় এই ঘটনা ঘটেছে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, লিজা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক অসুস্থ থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি। বরং তাকে দিয়ে রাতভর কাজ করানো হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি কর্মরত অবস্থায় কারখানার ভেতরেই মারা যান। একই রাতে শোভা নামে আরও এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
সহকর্মীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আজ সকালে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এই সময়ে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ ও হয়রানির অভিযোগ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কালার কো লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা অবিলম্বে নারী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও তাদের হয়রানির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে। মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের অভিযোগ, তাদের ড্রোন হামলায় শহরের প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর রাজভোজায়েভ উল্লেখ করেছেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকতে পারে। তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া একটি বার্তায় বলেছেন, “শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে।” যদিও, এই পরিস্থিতিতেও জনগণকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানিয়েছেন, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে, রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর থেকেই ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এদিকে আতঙ্কিত অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষত চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর দ্বারা এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবী, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান। গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান একটি খুলা চিঠি পাঠিয়ে। কিন্তু পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করে ও সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতির আগে। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায় হলে তা ক্রমেই অন্যান্য জলপথেও ‘সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়বে’ বলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে বাহরাইনে অবস্থানের সময় তিনি এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের আরোপিত মাশুল বা ফি আদায়ের বিষয়টি অন্যান্য জলপথেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা ‘পূর্ণাঙ্গ বিশৃঙ্খলা’র ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। তিনি এ সময় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক ‘বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী’ শান্তির দিকে আগ্রহী, যা দেশ ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ণ করবে না।
মার্কো রুবিও আরো বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয়। এটি বর্তমান বিশ্বের একটি মৌলিক নীতি এবং এই নীতি না থাকলে বিশ্বজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। যদি আমরা সত্যিই মেনে নিই যে, কোনো আন্তর্জাতিক জলপথ নিজের ভূখণ্ডের কাছাকাছি হওয়ার কারণে তা ব্যবহারের জন্য অর্থ দাবি করা যায়, তবে এই প্রবণতা সারাবিশ্বে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়বে।
মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের মালিকানাধীন বলে স্বীকৃতি দেয় না। তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আগ্রহী, তবে তিনি এ প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে তারা এমন কোনো চুক্তি চায় না।
এর আগে গতকাল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা নির্দিষ্ট কিছু কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ওই জলপথের একটি নতুন রুট বা পথের বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তারা জানাননি।
সূত্র: আলজাজিরা, গাল্ফ নিউজ, ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। এরপর জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্প প্রবণ বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বহু ভবন ধসে পড়েছে, সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছেন। উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, এশিয়ার দেশ জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানায়, কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৭.২। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও, কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় সেখানে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও যথেষ্ট শক্তিশালী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মেনডোসিনো কাউন্টির রেডউড ভ্যালি এলাকার কাছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, এটি প্রায় ৯০ বছরের মধ্যে অঞ্চলটিতে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কম্পনে কিছু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছেন। বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প নতুন কোনো ঘটনা নয়। ভেনেজুয়েলা, জাপান ও ক্যালিফোর্নিয়ার ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সরাসরি বৈজ্ঞানিক সম্পর্কের প্রমাণ নেই। যাহোক, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আফটারশকের ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে তার নানাবাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও-) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার এই কথা বলেন।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘আমার এলাকাটা অত্যন্ত অবহেলিত। এই এলাকাটিতে বিশেষায়িত বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এখানে যারা রয়েছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর জন্মও কিন্তু আমার গফরগাঁওয়ে। উনার নানার বাড়ি আমার গফরগাঁওয়ে। যদি মন্ত্রী মহোদয়রা একটু দৃষ্টি দেন এই অবহেলিত জনপদের প্রতি, তাহলে এই গফরগাঁওয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
পিছিয়ে পড়া জনপদকে এই জনপদটি এগিয়ে যাবে। আমি আশা করবো প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গফরগাঁওকে গুরুত্ব দিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়রাও সেভাবে গুরুত্ব দেবেন।’
স্পিকার এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, নানাবাড়ির দিকে খেয়াল রাখবেন।’ গফরগাঁওকে অবহেলিত শুনে স্পিকার তখন প্রশ্ন করেন ‘গফরগাঁওয়ের বেগুন তো আছে?’।
মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান তার জবাবে বলেন, ‘লাফা বেগুন সেটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’ আক্তারুজ্জামান তখন আরো বলেন, ‘আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা আমাকে বলতেই হবে এখানে। আমি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি ৪৭ বছর পর ওই এলাকার মানুষ সংসদে আসার সৌভাগ্য লাভ করেছে। আমি গোলন্দাজের জুলুমের রাজ্যে ছিলাম, যেখানে জিয়া হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত গিয়াস এই মহান সংসদে এসে কলঙ্কিত করেছিলেন। তারা জুলুমের রাজ্য কায়েম করেছিলেন, আমি ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে চাই।
সেই ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে আমি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো, যেহেতু বিভিন্ন বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এখানে রয়েছেন, উনি অত্যন্ত আন্তরিক। আমি উনার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, উনি সারা বাংলাদেশের মতোই ময়মনসিংহ বিভাগকে, ময়মনসিংহ জেলাকে ও আমার পিছিয়ে পড়া গফরগাঁও-পাগলার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছি। এখানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরাও করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় নয়।’ যত্নে তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন তারা প্রাডো গাড়িতে চড়েন, এবং জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমি এখনও যে গাড়িতে আগে চড়তাম, সেই গাড়িতেই চলাফেরা করি। নির্বাচনের সময় গাড়িটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে, কিন্তু এরপরেও সেটিই ব্যবহার করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ