ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা


বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টোর মতো দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই।

শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে (পিএইচসি) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। খবর দ্য ডন অনলাইনের।

আচাকজাই বলেন, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টো যেভাবে সমঝোতার মাধ্যমে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে ইমরান খানের ক্ষেত্রেও।

আরও পড়ুন: ডেটা সেন্টার কেন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের কোথাও একজন বন্দিকে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় না।” এ সময় তিনি বিতর্কিত সংশোধনী প্রত্যাহার, পার্লামেন্টকে কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান।

আচাকজাইয়ের মতে, পার্লামেন্টকে ক্ষমতায়ন করা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় আছেন, তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ তথ্য জানার অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, “আমরা খাইবার পাখতুনখোয়ার জনগণের পাশে আছি। এ প্রদেশের খনিজ সম্পদের ওপর প্রথম অধিকার এখানকার মানুষের। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” দেশ টিকে থাকলে সবাই নিরাপদ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আচাকজাইয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তানের (টিটিএপি) নেতারা। এছাড়া বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গল (বিএনপি-এম) প্রধান সরদার আখতার মেঙ্গল এবং সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁকে আরাঘচির খোঁচা, ‘ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা শুনুন’

আচাকজাই বলেন, তারা সব বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং শিগগিরই একটি সর্বদলীয় সম্মেলন আহ্বান করবেন।

সম্মেলনে সরদার আখতার মেঙ্গল বলেন, যারা নিজেদের সংবিধানের প্রণেতা বলে দাবি করেন, তারাই সংবিধান পদদলিত করছেন। সন্ত্রাসবাদের কারণ দেখিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন বাতিল চেয়ে আদালতে বিরোধীরা

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে আবেদন করেছে টিটিএপি। এসব পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

আরও পড়ুন: কাতার ঘোষণা করতে যাচ্ছে নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

আবেদনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২(১) ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা জরুরি অবস্থার ঘোষণা অসাংবিধানিক এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংবিধানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়নি, অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে আবেদনকারীদের দাবি।

আবেদনকারীরা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পার্লামেন্টে স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী ঢামেকে ভর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী ঢামেকে ভর্তি

কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ছয় জনের মৃত্যুর পর, ওই পরিবারের আরও দুই সদস্য স্বামী-স্ত্রী আহত অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসমাইল রুহুল মাসুদ (৩৫), যিনি সীনহা গ্রুপের মার্চেন্ডাইজার, এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনা (৩০), যিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চাকরিজীবী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের টুপটুপ রিসোর্টে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ইসমাইলের চাচাতো ভাই মমিন মিয়া জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের ১০ জন সদস্য গত বুধবার কক্সবাজার রিসোর্টে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন গতকাল ফিরে আসেন এবং চার ভাগ্নি, এক ভাগ্নে ও এক নাতিসহ মোট ৬ জন মারা যান। আহত দুজন রিসোর্টের গ্লাস ভেঙে লাফিয়ে পড়ার সময় আহত হন; এতে ইসমাইল কোমরে আঘাত পান এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা হাতে ও পায়ে আঘাত পান।

আহত দুজনকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে আহত ইসমাইলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলছে এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসার বার্নের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কেউ দগ্ধ হননি। আহতদের বাসা উত্তরা দক্ষিণখানে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেছেন, "ভবিষ্যতে এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।" তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে। দেশ পুনর্গঠন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ, মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত, শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, ডাক্তারকে বরখাস্তের নির্দেশ, আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারে অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল প্রথম সকালে রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ।" বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "তোমরা যখন কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন খুব দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়।" কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে এই কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সেই পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।" অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, "এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন।" তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে সুস্থ রাখা। আর মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন।" ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হচ্ছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নিজের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।" বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এসব ময়লা জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।" এ ক্ষেত্রে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে।" প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করবে, যাতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে, "তোমরা শুধু নিজের জন্য নয়, সবার স্বার্থে কাজ করছো।" ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর।" এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, "তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।" শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।" এ সময় সউদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "একসময় আরাফাতের ময়দান ছিল প্রায় বৃক্ষশূন্য। পরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান।" বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সউদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে। সেটি এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত। পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাপানের রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়।" এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পরিবেশ ও পানির দূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।" যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।" ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।

মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন এবং পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী পথচারীদের কাছে জানতে চান, "আগে হকারদের দখলে থাকা ফুটপাত উচ্ছেদের পর তাদের চলাচলে কতটা সুবিধা হয়েছে এবং বর্তমানে হাঁটাচলায় কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না।" এছাড়া নগরীর ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন। তিনি রাজধানীর ফুটপাতগুলো পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী রাখা, সড়ক ও ফুটপাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, "নগরীর ফুটপাত মূলত পথচারীদের চলাচলের জন্য। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।"

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, ডাক্তারকে বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আকস্মিক পরিদর্শনকালে এক চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সহকারী প্রেস সচিব জানান, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নিজের এক সময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের এক সময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের দেশ গড়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়।" এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তোমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২৪-এর আন্দোলন সফল করেছিলে। এটা কি কোনো একক দল করেছিল? সবাই মিলে করেছিল, তাই না?" তিনি বলেন, "তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।" তবে শুধু আন্দোলন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশ পুনর্গঠন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাজধানীর বাতাস ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে।" এর ফলে বিশেষ করে শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, "সরকার ইতোমধ্যে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।" কিন্তু তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব উদ্যোগ পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, "তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের কাছে আমার দুটি আবেদন- দেশকে পরিষ্কার রাখবে এবং বেশি বেশি গাছ লাগাবে। এটা তোমাদেরই দেশ, এর দায়িত্বও তোমাদের।"

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারে অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কোয়ার্টারের এলাকা, চলাচলের পথ ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। তিনি কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। হাসান শিপলু জানান, এ সময় কোয়ার্টারের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীর রিসোর্টে আগুন: নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ এম


ইনানীর রিসোর্টে আগুন: নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লাশগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ার কারণে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

কক্সবাজারের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। টানা সাত ঘণ্টার অভিযান শেষে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি লাশ উদ্ধার করা হয়, যার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শেষ হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে ছয়জনকে একই কক্ষে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। অন্যদিকে, বাকি চারজনের লাশ ওয়াশরুমে পাওয়া গেছে, যেখানে আগুন থেকে বাঁচতে তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রিসোর্ট ভবনটিতে প্রচুর কাঠ ও বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে অবস্থানরত অতিথিদের বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় মেলেনি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে লাশগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন, যার মধ্যে ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চিকিৎসাধীন পর্যটকদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চারজনকে বিমানে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বোর্ডার তালিকা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। তাদের মধ্যে সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ায় দুজন নিরাপদে ছিলেন, সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম বোর্ডার তালিকার সঙ্গে মেলেনি।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে ২০ জন নিহত, আহত অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ এম


কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে ২০ জন নিহত, আহত অনেকে

ভারতের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী এবং একটি শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গিরিশ পার্ক থানার চোরে বাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ির কারণে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

উত্তর কলকাতার হাতিবাগানের কাছে অবস্থিত চোরবাগান সর্বজনীন পূজা মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। ষষ্ঠী থেকে এই পূজায় দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়। সেই মণ্ডপেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে একদল দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢুকলেও বেরোতে পারছিলেন না। ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন দর্শনার্থীরা জোর করে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ফলে পদদলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মহাত্মা গান্ধী মেট্রো স্টেশন থেকে হাঁটার মাধ্যমে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে পৌঁছানো যায়।

এদিন দুপুরের পর থেকেই পূজামণ্ডপে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ভলান্টিয়ার এবং পুলিশ দর্শনার্থীদের লাইন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীরা মণ্ডপের ভিতরে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ করে একদল দর্শনার্থী মণ্ডপের ভেতরে ঢুকে পড়তে শুরু করেন। তখনই শুরু হয় প্রবল ধাক্কাধাক্কি। বহু দর্শনার্থী মাটিতে পড়ে যান। এই ঘটনার ফলে বড় বিপর্যয় ঘটে। প্রাণ হারান নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছেন অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%